বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো দিনের ভূত আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে । একসময় দেশের রাজনীতিতে লুটপাট, চাঁদাবাজি, গুন্ডামি ও দুর্নীতির ভূত ছিল। সেই চক্র আবার ক্ষমতায় ফেরার পাঁয়তারা করছে।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম পরওয়ারের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, আগে বিদেশি শাসকরা এদেশের সম্পদ লুটে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত। এখন দেশীয় শাসকরা সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করে। বছরে লাখো-কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিন-মজুর, শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত পরিশ্রমে অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না।
একটি উপমা টেনে তিনি আরও বলেন, পাঁচ ভাইবোন সারাদিন পরিশ্রম করে যা আয় করে, রাতের অন্ধকারে একজন সব লুট করে নেয়, তাহলে সেই সংসারে কখনো স্বাচ্ছন্দ্য আসতে পারে না। বাংলাদেশে আজ একই অবস্থা বিরাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এ প্রেক্ষাপটে ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে।
মামুনুল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শাসকের চেহারা, ধর্ম, জাত বদলেছে, কিন্তু শোষণের চরিত্র বদলায়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুণগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
খেলাফত মজলিসের আমির অভিযোগ করে বলেন, জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে । দেশে খুন,গুমের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে সংঘটিত আন্দোলন-সংগ্রাম, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছে। ন্যায্য অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আশায় হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের অবসান ঘটার মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং খুলনার ৫টি আসনে ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল কাইউম জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, ডাকসুর নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মুখতার হোসাইন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. একরাম উদ্দিন সুমন, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক দেব প্রসাদ মন্ডল, ভাণ্ডারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি ডা, নিত্যরঞ্জন রায়।