পৃথিবীর ভিন্ন রূপ দেখাল আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা
আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে মানবজাতি মহাকাশ গবেষণার এক নতুন স্বর্ণযুগে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর পরিচালিত এই প্রথম মানববাহী চন্দ্র অভিযানে নাসার চার নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন—ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করেছেন।
গত ১ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে যাত্রা শুরু করার পর মিশনের ষষ্ঠ দিনে তারা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছান। এর মাধ্যমে তারা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো মানুষের তুলনায় পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী পথ অতিক্রম করার গৌরব অর্জন করেন।
এই অভিযানের অন্যতম রোমাঞ্চকর দিক ছিল চাঁদের উল্টো পিঠ বা দূরবর্তী অংশ দিয়ে উড়ে যাওয়া, যা এর আগে কোনো মানুষ সশরীরে এত স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেনি। ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই ফ্লাইবাই বা পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা তিনটি নিকন ক্যামেরা ব্যবহার করে চাঁদের পৃষ্ঠের অসংখ্য অভূতপূর্ব ছবি ধারণ করেন।
এই ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে চন্দ্রপৃষ্ঠের বন্ধুর প্রকৃতি ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যা তারা সরাসরি জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীদের
আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে মানবজাতি মহাকাশ গবেষণার এক নতুন স্বর্ণযুগে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর পরিচালিত এই প্রথম মানববাহী চন্দ্র অভিযানে নাসার চার নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন—ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করেছেন।
গত ১ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে যাত্রা শুরু করার পর মিশনের ষষ্ঠ দিনে তারা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছান। এর মাধ্যমে তারা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো মানুষের তুলনায় পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী পথ অতিক্রম করার গৌরব অর্জন করেন।
এই অভিযানের অন্যতম রোমাঞ্চকর দিক ছিল চাঁদের উল্টো পিঠ বা দূরবর্তী অংশ দিয়ে উড়ে যাওয়া, যা এর আগে কোনো মানুষ সশরীরে এত স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেনি। ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই ফ্লাইবাই বা পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা তিনটি নিকন ক্যামেরা ব্যবহার করে চাঁদের পৃষ্ঠের অসংখ্য অভূতপূর্ব ছবি ধারণ করেন।
এই ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে চন্দ্রপৃষ্ঠের বন্ধুর প্রকৃতি ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, যা তারা সরাসরি জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীদের কাছে বর্ণনা করেছেন। নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই দৃশ্যগুলোকে অত্যন্ত চমৎকার হিসেবে বর্ণনা করে জানান, নভোচারীদের মতে মানুষের চোখ এমন দৃশ্য দেখার জন্য হয়তো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে নাসা থেকে শেয়ার করা ‘আর্থসেট’ বা পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটি। এই ছবিটি ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক ‘আর্থরাইজ’ ছবির কথা মনে করিয়ে দিলেও এর প্রেক্ষিত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ ছাড়া চন্দ্রকক্ষপথ থেকে সূর্যকে আড়াল করে রাখা চাঁদের এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য বা সূর্যগ্রহণের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই নভোচারীরাই প্রথম ব্যক্তি যারা চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখার বিরল সুযোগ লাভ করেছেন।
নাসার শেয়ার করা অপর একটি ছবিতে চন্দ্রপৃষ্ঠের ‘অরিয়েন্টাল বেসিন’ নামক এলাকায় দুটি নতুন ছোট গহ্বর বা চন্দ্রখাত দেখা গেছে। নভোচারীরা এই খাত দুটির নামকরণ করেছেন ‘ইন্টিগ্রিটি’ এবং ‘ক্যারল’। এর মধ্যে ‘ক্যারল’ নামটি রাখা হয়েছে মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল ওয়াইজম্যানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।
জেরেমি হ্যানসেন মিশন কন্ট্রোলকে আবেগঘন বার্তায় জানান, তাদের প্রিয় এই সদস্যের স্মৃতি চাঁদের বুকে এক উজ্জ্বল বিন্দু হিসেবে টিকে থাকবে। অন্য গহ্বরটির নাম রাখা হয়েছে তাদের মহাকাশযানের চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে।
আর্টেমিস-২ মিশনের আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হলো মহাকাশ থেকে মহাকাশে প্রথম রেডিও যোগাযোগ। চাঁদে অবস্থানকালে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত তাদের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। ষাটের দশকের অ্যাপোলো মিশনের সময় মহাকাশে অন্য কোনো দল না থাকায় এমন যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।
বর্তমানে চার দিনের ফিরতি যাত্রা শুরু করা এই চার নভোচারী কেবল বৈজ্ঞানিক তথ্যই নয়, বরং মানুষের সাহস ও আবেগকেও পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে চাঁদের দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছেন। এটি কেবল একটি অভিযান নয়, বরং মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার এক অনন্য দলিল।