পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব কী, জানাল সরকার

দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করেছে সরকার। রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুদ নথিভুক্ত করতে হবে এবং ডিপো থেকে সরবরাহ করা তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে। এ সময় পে-অর্ডার, ডিপোর চালান বা রসিদের সঙ্গে সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা এবং ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিক ব্যবহার করে বাস্তব মজুদ যাচাই করতে হবে। এছাড়া, ডিপো থেকে প্রতিদিন তেল গ্রহণের হিসাব যথাযথভাবে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং যাচাই করে বিক্রয় তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং প্রতিদিনের বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুদ নিরীক্ষাও ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানে উল্লেখিত মজুদক্ষমতার

পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব কী, জানাল সরকার

দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করেছে সরকার।

রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুদ নথিভুক্ত করতে হবে এবং ডিপো থেকে সরবরাহ করা তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাপ করে গ্রহণ করতে হবে। এ সময় পে-অর্ডার, ডিপোর চালান বা রসিদের সঙ্গে সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা এবং ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিক ব্যবহার করে বাস্তব মজুদ যাচাই করতে হবে।

এছাড়া, ডিপো থেকে প্রতিদিন তেল গ্রহণের হিসাব যথাযথভাবে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং যাচাই করে বিক্রয় তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং প্রতিদিনের বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুদ নিরীক্ষাও ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানে উল্লেখিত মজুদক্ষমতার সঙ্গে বাস্তব মজুদের তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কি না, তাও পরীক্ষা করতে হবে।

সরবরাহব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ করতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প এবং খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায়—স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, তেল গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু করতে হবে। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ, ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি প্রতিরোধ এবং সারি ব্যবস্থাপনার অবস্থা—এসব বিষয় জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ নিয়মিত রিপোর্ট করতে হবে ট্যাগ অফিসারদের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দায়িত্ব কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও কারসাজি কমে আসবে এবং সরবরাহব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আরো জোরদার হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow