পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এ বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণকে এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও

পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এ বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণকে এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে দুই-তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন মাত্র দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।

পে স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সেজন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এ দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগির বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য আরো একটি সভা হতে পারে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow