প্রকৃতির বুকে সোনালি অলংকার অপরূপ কনকচূড়া

প্রকৃতির অন্যতম অপরূপ সৃষ্টি কনকচূড়া। হলুদ রাধাচূড়া বা তাম্রচূড়া নামেও পরিচিত এই ফুলটি তার সোনালি আভা আর মুগ্ধতা ছড়ানো রূপের জন্য সুপরিচিত। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে এই গাছে ফুল ফোটে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় জ্যৈষ্ঠের তপ্ত রোদের দহনের মধ্যে প্রকৃতিতে চোখে পড়ছে এই কনকচূড়া ফুলের সোনালি সৌন্দর্য। সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন গ্রীষ্মের ক্লান্ত প্রকৃতিতে এনে দিচ্ছে অন্যরকম এক প্রাণচাঞ্চল্য। এ ফুলের মোহনীয় রূপ মুগ্ধ করছে ফুলপ্রেমীসহ পথচারী ও স্থানীয়দের। প্রকৃতির এই সোনালি বিস্ময় এখন ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের কাছে যেন এক মনজুড়ানো প্রশান্তির ঠিকানা। দাবদাহের ক্লান্ত দুপুরেও কনকচূড়ার ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছে মুগ্ধতা আর নির্মল সৌন্দর্যের বার্তা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, জলাশয়ের পাড় ও বাড়ির আশপাশে সোনালি রঙে শোভা ছড়াচ্ছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ফুল কনকচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে গাঢ় হলুদ রঙের ফুলের ঝাড় যেন প্রকৃতির নিজস্ব সোনালি অলংকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরাসহ অনেকেই কাজের প্রাকৃতির বের হ

প্রকৃতির বুকে সোনালি অলংকার অপরূপ কনকচূড়া

প্রকৃতির অন্যতম অপরূপ সৃষ্টি কনকচূড়া। হলুদ রাধাচূড়া বা তাম্রচূড়া নামেও পরিচিত এই ফুলটি তার সোনালি আভা আর মুগ্ধতা ছড়ানো রূপের জন্য সুপরিচিত। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে এই গাছে ফুল ফোটে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় জ্যৈষ্ঠের তপ্ত রোদের দহনের মধ্যে প্রকৃতিতে চোখে পড়ছে এই কনকচূড়া ফুলের সোনালি সৌন্দর্য। সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন গ্রীষ্মের ক্লান্ত প্রকৃতিতে এনে দিচ্ছে অন্যরকম এক প্রাণচাঞ্চল্য। এ ফুলের মোহনীয় রূপ মুগ্ধ করছে ফুলপ্রেমীসহ পথচারী ও স্থানীয়দের।

প্রকৃতির এই সোনালি বিস্ময় এখন ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের কাছে যেন এক মনজুড়ানো প্রশান্তির ঠিকানা। দাবদাহের ক্লান্ত দুপুরেও কনকচূড়ার ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছে মুগ্ধতা আর নির্মল সৌন্দর্যের বার্তা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, জলাশয়ের পাড় ও বাড়ির আশপাশে সোনালি রঙে শোভা ছড়াচ্ছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ফুল কনকচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে গাঢ় হলুদ রঙের ফুলের ঝাড় যেন প্রকৃতির নিজস্ব সোনালি অলংকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরাসহ অনেকেই কাজের প্রাকৃতির বের হলেও গাছের নিচে কিছু সময় দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ না করে পারছেন না। স্মৃতি ধরে রাখতে কেউ কেউ মুঠোফোনে তুলছেন ছবি, করছেন ভিডিও। গাছের নিচের ঝরা ফুল কেউ কেউ কুড়িয়ে নিচ্ছেন। 

জানা গেছে, কনকচূড়া গাছের বৈজ্ঞানিক নাম পেল্টোফোরাম টেরোকার্পাম। লেগুমিনোসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষ। গাছটি চারপাশে শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে এবং এর পাতা যৌগিক। আকৃতি ও পাতার বিন্যাস অনেকটা কৃষ্ণচূড়া গাছের মতো। দেশের শেষ ভাগে কনকচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও গ্রীষ্মে নতুন কচি পাতা ও হলুদাভ ফুলে গাছ ভরে ওঠে। এর ফুলে পাঁচটি কুঞ্চিত পাপড়ি থাকে এবং শাখার ডগায় লম্বা মঞ্জরিতে থোকা থোকা ফুল ফোটে, যা প্রকৃতিতে এনে দেয় অনন্য সৌন্দর্য। এই ফুলের মোহনীয় সৌন্দর্যে প্রকৃতিও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। 

কনকচূড়া মূলত কৃষ্ণচূড়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তবে এর ডাল পালা উর্ধ্বমুখী এবং ফুল গাঢ় হলুদ বর্ণের। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত এই ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। ফুল শেষে এই গাছে তামাটে রঙের চ্যাপ্টা ফল ধরতে শুরু করে। 

স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী ও ফুলপ্রেমী সাইদুর রহমান আরশ বলেন, কনকচূড়া ফুল দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন কৃষ্ণচূড়ারই একটি ভিন্ন জাত। এ ফুলের হলুদাভ আভা সহজেই চোখে পড়ে। পুরো গাছজুড়ে ফুলের সমারোহ যেকোনো বয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে। টাটেরা গ্রামবাংলা রিসোর্টের পুকুর পাড়ে একটি গাছ আছে, আমার অনেক বন্ধু সেখানে গিয়ে এ ফুলের ছবি তোলে।

প্রকৃতিপ্রেমী ও স্কুল শিক্ষিকা জান্নাতুল জেসমিন বলেন, এ গাছের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর রঙ আর গন্ধ। দুপুরের রোদেও ফুলগুলো এত উজ্জ্বল দেখায় যে পথের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়। এই ফুল ঘিরে মৌমাছি আর প্রজাপতিও প্রচুর আসে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন গাছজুড়ে সোনা ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের এলাকায় সাধারণত কৃষ্ণচূড়া বেশি দেখা যায়। সে তুলনায় কনকচূড়া গাছের সংখ্যা খুব কম। তবে উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় এই গাছ চোখে পড়ে। এ সময়টায় এই গাছজুড়ে সোনালি রঙের ফুল ফুটেছে, যা দেখে সবাই মুগ্ধ। আমাদের বাড়ির পাশে একটি গাছ রয়েছে, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নেয়। 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন কালবেলাকে বলেন, কনকচূড়া শুধু সৌন্দর্যবর্ধক গাছ নয়, এটি পরিবেশের জন্যও উপকারী। এর ফুল মৌমাছি ও উপকারী পতঙ্গকে আকর্ষণ করে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে অনেকেই বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে শোভাবর্ধনের জন্য এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন। 

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, কনকচূড়া তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও আমাদের আবহাওয়ায় এই গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা গেলে ভবিষ্যতে এ উপজেলার প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়বে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow