প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নির্বাচনী কৌশল তাসনিম জারার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ভিন্নধর্মী কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কম খরচে, জনভোগান্তি ছাড়াই নির্বাচনে জয় সম্ভব—এমন বার্তা নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনী কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়, শহরজুড়ে পোস্টারের জঞ্জাল কিংবা শোডাউনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেও নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব—এটা তিনি প্রমাণ করতে চান। এজন্য জনগণের কাছ থেকে তার প্রয়োজন মাত্র পাঁচ মিনিট সময়। ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে রাস্তা বন্ধ করে শোডাউন, মাইকিং বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনসেবা নয়; বরং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোট আদায়। এর বিপরীতে, পরিচিত একজন মানুষের একটি ফোন কল এবং পাঁচ মিনিটের আন্তরিক কথোপকথন অনেক বেশি শক্তিশালী। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের শক্তি ব্যবহার করেই পেশিশক্তির রাজনীতিকে পরাজিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে জয়ের জন্য আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার ভোট প্রয়োজন। তার সমর

প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নির্বাচনী কৌশল তাসনিম জারার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা ভিন্নধর্মী কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কম খরচে, জনভোগান্তি ছাড়াই নির্বাচনে জয় সম্ভব—এমন বার্তা নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনী কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়, শহরজুড়ে পোস্টারের জঞ্জাল কিংবা শোডাউনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেও নির্বাচনে জয়ী হওয়া সম্ভব—এটা তিনি প্রমাণ করতে চান। এজন্য জনগণের কাছ থেকে তার প্রয়োজন মাত্র পাঁচ মিনিট সময়।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে রাস্তা বন্ধ করে শোডাউন, মাইকিং বা শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনসেবা নয়; বরং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোট আদায়। এর বিপরীতে, পরিচিত একজন মানুষের একটি ফোন কল এবং পাঁচ মিনিটের আন্তরিক কথোপকথন অনেক বেশি শক্তিশালী। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের শক্তি ব্যবহার করেই পেশিশক্তির রাজনীতিকে পরাজিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে জয়ের জন্য আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার ভোট প্রয়োজন। তার সমর্থকদের মধ্য থেকে যদি ৩০ হাজার মানুষ দায়িত্ব নেন এবং প্রত্যেকে পাঁচজন করে ভোটারের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, ৩০ হাজার ক্যাম্পেইনার জোগাড় করা অসম্ভব কিছু নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রাউডফান্ডিং কার্যক্রমে মাত্র একদিনেই প্রায় ১০ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি জানান, এই প্রচারণায় অংশ নিতে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হওয়া কিংবা দেশে অবস্থান করা জরুরি নয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে, ঘরে বসেই এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তার প্রচারণায় সহায়তা করা সম্ভব।

কীভাবে করবেন? পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আমরা একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছি: tasnimjara.com। 

কাজটি খুব সিম্পল-

*আপনি আপনার পরিচিত কাউকে ফোন দিয়ে কনভিন্স করবেন। 
*এরপর পোর্টালে লগইন করে জানাবেন আপনি কতজনকে রাজি করিয়েছেন।  
*পোর্টালে থাকা ‘ভোটার স্লিপ’ বা ইশতেহার সরাসরি তাদের পাঠিয়ে দেবেন।  

তাসনিম জারা বলেন, কোন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সেটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনি এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা, মাদারটেক এবং বনশ্রীর কিছু অংশসহ আশপাশের এলাকাগুলো। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, পরিচিত কেউ এসব এলাকায় থাকেন কি না—প্রয়োজনে ফোন করে তা নিশ্চিত করতে।

তিনি আরও বলেন, ক্লিন পলিটিক্সের যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে যদি ৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে দাঁড়ান, তাহলে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়তে বাধ্য। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে এটি প্রমাণ হবে যে, শোডাউন ও কালো টাকার ব্যবহার ছাড়াও নির্বাচন করা যায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও জয় সম্ভব।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে তাসনিম জারা বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে অনেক নতুন মুখ যুক্ত হবেন—যাদের পেছনে থাকবে না টাকার বস্তা বা গুন্ডা বাহিনী। বরং তারা হবেন সেই মানুষগুলো, যারা রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, সেবার জায়গা হিসেবে দেখেন। তখন রাজনীতি হয়ে উঠবে সবার অংশগ্রহণের ক্ষেত্র।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow