প্রতিবাদী গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মাদক কারবারির মামলা

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে একত্র হয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। সেই উদ্যোগের জেরেই এখন তাদের অনেকেই মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার প্রতিবাদী গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চললেও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে তারা সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এরপর অভিযুক্ত মাদক কারবারি রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে রুবেল আদালতে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর পাঠানপাড়া জামে মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে তারা মামলাটি প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে গ্রামের তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ দমন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। একটি সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধ

প্রতিবাদী গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মাদক কারবারির মামলা

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে একত্র হয়েছিলেন গ্রামের মানুষ। সেই উদ্যোগের জেরেই এখন তাদের অনেকেই মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার প্রতিবাদী গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চললেও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে তারা সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এরপর অভিযুক্ত মাদক কারবারি রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে রুবেল আদালতে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এই মামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর পাঠানপাড়া জামে মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে তারা মামলাটি প্রত্যাহার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে গ্রামের তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ দমন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। একটি সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবাদকারীরাই যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাবেন না।

এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একইসঙ্গে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক কর্নেল জিহাদ খান বলেন, মাদক মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এটি শুধু লিভার নয়, মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। একটি সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটলে তা ধীরে ধীরে পুরো জাতিকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও জনসচেতনমূলক প্রচারণা আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি শুনেছি; এই গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এমন ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই। যারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের হয়রানি নয়, বরং উৎসাহিত করা উচিত। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow