প্রতিষ্ঠার দেড়যুগ পর পূর্ণতার পথে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ
প্রতিষ্ঠার দেড়যুগ পর অবশেষে পূর্ণতার পথে হাঁটছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (কমেক)। নানা জটিলতা পার হয়ে অবশেষে হাসপাতালসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধার কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রমের পাশাপাশি ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের ভবন, নার্সিং ডরমেটরি, কলেজ, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ নানা অবকাঠামোর ২৬টি ভবনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রতিষ্ঠানটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবেন। একইসঙ্গে বিশেষায়িত কিছু চিকিৎসাবঞ্চিত জেলার ২৮ লাখ বাসিন্দা এবং পর্যটকরাও পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেবা। ভবনগুলো পূর্ণতা পেলে পর্যটন নগরীর স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সচেতনমহল। তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের ৬ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু আর্থিক নানা সংকটের ফলে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। শিক্ষার্থীদের নানা দাবির পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন করে হাসপাতাল ভবনসহ আরও ২৬টি স্থাপনার কাজ শুরু হয়। গত এক বছরে বেশ কিছু ভবন বহুতল হয়েছে। প্রথম ফ্লোর দৃশ্যমান
প্রতিষ্ঠার দেড়যুগ পর অবশেষে পূর্ণতার পথে হাঁটছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (কমেক)। নানা জটিলতা পার হয়ে অবশেষে হাসপাতালসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধার কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রমের পাশাপাশি ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের ভবন, নার্সিং ডরমেটরি, কলেজ, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ নানা অবকাঠামোর ২৬টি ভবনের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রতিষ্ঠানটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবেন। একইসঙ্গে বিশেষায়িত কিছু চিকিৎসাবঞ্চিত জেলার ২৮ লাখ বাসিন্দা এবং পর্যটকরাও পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেবা। ভবনগুলো পূর্ণতা পেলে পর্যটন নগরীর স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।
তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের ৬ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু আর্থিক নানা সংকটের ফলে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। শিক্ষার্থীদের নানা দাবির পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন করে হাসপাতাল ভবনসহ আরও ২৬টি স্থাপনার কাজ শুরু হয়। গত এক বছরে বেশ কিছু ভবন বহুতল হয়েছে। প্রথম ফ্লোর দৃশ্যমান হয়েছে হাসপাতালের।
এরই মধ্যে অবকাঠামো ও জনবলের অভাব পূরণ করে কলেজটিকে পূর্ণতার লক্ষ্যে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে স্থাপন করা হয়েছে।
এটি উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাস্তবায়ন না হওয়া হাসপাতাল ভবনটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার অনুরোধে প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এ কারণে ভিত্তিপ্রস্তর হয়তো মন্ত্রীর ভাগ্যে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কমেক) ২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে। কলেজের তৃতীয়তম অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল করিমের দায়িত্বকালীন সময়ে ২০১৭ সালে স্বল্প পরিসর হতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রত্যাবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি। একে একে ১৮টি ব্যাচ পেরিয়েছে কলেজটি। নানা অপ্রাপ্তির মধ্যেও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় ফাইনাল প্রোফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে কমেক। এরইমধ্যে ১৪টি এমবিবিএস ব্যাচ বের হয়েছে। এভাবে বছরান্তে বাড়ছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। তবুও কাটেনি সংকট ও অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ ১৮ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি স্থায়ী ৫০০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাসে জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালস্থ অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যা সময় সাপেক্ষ ও ভোগান্তির। এতে বছরান্তে প্রায় ৫৯৮ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
সূত্র আরও জানায়, প্রায় ২৮ লাখ জনগোষ্ঠীর সেবায় কক্সবাজার জেলা সদরে মাত্র ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। এতে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন, ভর্তি থাকেন ৭০০-১০০০ রোগী। অতিরিক্ত রোগী ফ্লোরে কিংবা সিঁড়ির পাশে, করিডোরে অবস্থান নেন। সঙ্গে রয়েছে ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার চাপ। এছাড়াও রয়েছে হেমাটোলজি, হেপাটোলজি, সাইকিয়াট্রি, নিউরোমেডিসিন, নিউরোসার্জারি, এনআইসিইউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সংকট। কোনো বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট নেই। এ বিভাগগুলোর সংকটে প্রায়ই রোগীকে স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেলে বা ঢাকায়। কিন্তু শত শত কিলোমিটার দূরত্ব ও খরচের কারণে অনেক রোগীর অন্যত্র যাওয়া হয় না। অথচ সব সুবিধা সম্বলিত কমেকের ৫০০ শয্যার মেডিকেল হাসপাতালটি পূর্ণতা পেলে স্বাস্থ্য সেবার সংকট আরও আগে সহজেই দূর হতো।
কমেক শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেল শিক্ষার উল্লেখযোগ্য বিষয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। বিএমডিসির নিয়মানুসারে প্রতিটি মেডিকেল কলেজের টিচিং হাসপাতাল থাকা আবশ্যক। এটি এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরি হিসাবে কাজ করে। তৃতীয় বর্ষ থেকেই হাসপাতালে ওয়ার্ড ডিউটি করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু ১৮ বছরেও কমেক শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র হাসপাতাল পায়নি। আর জেলাবাসী পায়নি কমেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার সুযোগ। ২০১৭ সালের ৬ মে কমেক হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন হলেও নানা জটিলতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। ফলে পিছিয়ে পড়েছে এ কলেজে অধ্যয়নরতরা।
জানা গেছে, হাসপাতাল নির্মাণসহ প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণতা দিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কলেজের পাঠদান শুরু হলেও হাসপাতালের কার্যক্রম বছরের পর বছর পিছিয়েছে। এ সরকারের পতনের পর জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কক্সবাজার সফরের আগের দিনও শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। ক্যাম্পাসে করা হয় মানববন্ধন। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দেয়া হয় স্মারকলিপিও।
শিক্ষার্থীরা জানান, নামে আধুনিক মেডিকেল কলেজ হলেও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে আছে মাত্র দুটি সাদামাটা বাস। সেসঙ্গে চরম শিক্ষক সংকট, আছে আবাসন সংকটও। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হবে, এমন প্রত্যাশার প্রহর গুণতে গুণতে বিদায় নিয়েছে কলেজের ১৪টি ব্যাচ। একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজের সঙ্গে থাকার কথা ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। ন্যূনতম ২০টির মতো বিভাগে চিকিৎসাসেবা। কিন্তু এর কোনো ছোঁয়াই পায়নি কমেক। শূন্য পড়ে আছে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপকের অধিকাংশ পদ। ওএসডি মূলে সহকারী অধ্যাপককে কলেজে সংযুক্তি দিলেও মূলত জুনিয়র শিক্ষকদের দিয়ে কলেজটির কার্যক্রম জোড়াতালি দিয়ে চলছে।
এছাড়াও ১০তলার একাডেমিক ভবনে নির্মাণ হয়েছে ৬তলা। দুটি ছাত্রাবাসের ছয় তলা করে হওয়ার কথা থাকলেও ছিল তিনতলা করেই। কক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে থাকতে হতো গণরুমে।
শিক্ষার্থীদের মতে, সদর হাসপাতালের অস্থায়ী টিচিং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন কিংবা গবেষণা চর্চা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। কক্সবাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন, কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি বিপদাপন্ন পর্যটকদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।
কমেক হাসপাতালটি পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপিত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স ও অন্যান্য পদ সৃষ্টি হবে। চিকিৎসকগণের কোয়ার্টার, ইন্টার্ন হোস্টেল, ডক্টরস ডরমিটরি, নার্স ডরমিটরি, অধ্যক্ষের বাসভবন, পরিচালকের বাসভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, ইত্যাদি ভবন সম্পন্ন হলে সবার ভোগান্তি দূর হবে। এসব কাজ শেষ হলে মেডিকেল হাসপাতালে পরিপূর্ণ ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হবে।
পর্যটন নগরীতে স্বল্প খরচে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এনজিওগ্রাম, ডায়ালাইসিস, আইসিও, সিসিও, স্ক্যানোসহ জটিল রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কমেক হাসপাতাল খুবই জরুরি।
কলেজ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার জানার ঘোনায় ৩৩ একর জায়গায় কমেক স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবস্থান। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কমেক কার্যক্রম শুরু হয়। একজন অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৯টি শিক্ষকের পদ থাকলেও অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকসহ নানা পদ এখনো শূন্য। অপর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়ে জোড়াতালিতে চললেও ফাইনাল পরীক্ষায় চট্টগ্রামের ১৪টি মেডিকেল কলেজের পাশের হারে শীর্ষে থাকে কমেক। শিক্ষক ছাড়াও রয়েছে কর্মচারী সংকটও। এতে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
কমেকের সংক্রামক রোগ ও ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির বলেন, কক্সবাজারে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সংকট দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা একটি বড় সমস্যা। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক। তাই কমেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ হলে চিকিৎসা জট কমে সেবার মান বাড়বে। যেতে হবে না চট্টগ্রাম-ঢাকা।
কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরও চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। এ ছাড়াও এখানে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে। সব মিলিয়ে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। যেখানে নির্ধারিত আসনের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ বলা চলে।
স্থানীয় সমাজকর্মী তারেক আরমান বলেন, হাসপাতালটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে হবে না। চাপ কমবে সদর হাসপাতালে। কমেক হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে এটি এই অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ হবে। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেই এখানে এমনিতেই থাকবে সিসিইউ, আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারও। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ও গবেষণা যাবতীয় উন্নত শিক্ষা কার্যক্রম পাওয়া যাবে হাতের নাগালে।
কমেকের সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আলম বলেন, কমেকের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল শুধু কলেজের জন্য নয়, পুরো জেলাবাসীর জন্য সরকারের একটি বিশেষ উপহার।
কমেক অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক বলেন, কমেকে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হওয়ায় কোভিড-১৯ শুরুর পর ২০২০ এর এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি আরটিপিসিআর পরীক্ষার আওতায় এসেছে কমেক ল্যাবে। যা সারা দেশে বিরল। কমেক হাসপাতালটি পূর্ণতা পেলে এখানকার চিকিৎসা সেবা বহুলাংশে এগিয়ে যাবে।
গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, এস্টাবলিশমেন্ট অব ৫০০ বেডেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল অ্যান্ড এনসিলারী বিল্ডিং ইন যশোর, কক্সবাজার, পাবনা অ্যান্ড নোয়াখালী (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় কমেকে ১০ তলা হাসপাতাল ভবনের কার্যাদেশ ২০২৫ সালের ২৯ জুন প্রদান করা হয়। গণপূর্তের অধীন চলমান হাসপাতাল ভবনের পাইলিং কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সব ব্লকেই দ্রুত এগুচ্ছে কাজ।
হাসপাতাল ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, পুরুষ ইন্টার্ন ডরমেটরি, নারী ইন্টার্ন ডরমেটরি, ৬তলা অফিসাস কোয়ার্টার, স্টুডেন্ট নার্সেস কোয়ার্টার, ইমান্সেজী স্টাফ ডরমেটরি, স্টাফ নার্সেস ডরমিটরি, প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টর রেসিডেন্স, স্টাফ কোয়ার্টার ভবন সমূহের কাজ চলমান। চুক্তি অনুসারে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ ২০২৮ এর জুন এবং অন্য ভবনগুলো ২০২৭ এর বিভিন্ন সময়ে সমাপ্ত হবে আশা করা যায়।
সায়ীদ আলমগীর/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?

