প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস আজ

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অনেক আগেই ভাষার প্রশ্নটি সামনে আসে বাঙালি জাতির। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এটিই ছিল বাঙালির প্রথম সুসংগঠিত রাজপথের প্রতিরোধ। এ দিনটি বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার আন্দোলনের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী বাঙালির সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান, যা মুসলিম লীগ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২ মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠিত হয়। পরিষদ ১১ মার্চ সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। পূর্বঘোষিত ধর্মঘটের ডাক অনুযায়ী ১১ মার্চ ভোর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। সচিবালয়, রেলওয়ে স্টেশন এবং পোস্ট অফিসের সামনে পিকেটিং শুরু হয়। ঢাকার রাজপথ সেদিন ‘রাষ্ট্রভাষা বাংল

প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস আজ

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অনেক আগেই ভাষার প্রশ্নটি সামনে আসে বাঙালি জাতির। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এটিই ছিল বাঙালির প্রথম সুসংগঠিত রাজপথের প্রতিরোধ। এ দিনটি বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার আন্দোলনের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী বাঙালির সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান, যা মুসলিম লীগ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২ মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠিত হয়।

পরিষদ ১১ মার্চ সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। পূর্বঘোষিত ধর্মঘটের ডাক অনুযায়ী ১১ মার্চ ভোর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। সচিবালয়, রেলওয়ে স্টেশন এবং পোস্ট অফিসের সামনে পিকেটিং শুরু হয়। ঢাকার রাজপথ সেদিন ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনের তীব্রতা দেখে তৎকালীন সরকার দমন-পীড়ন শুরু করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে শত শত ছাত্র আহত হন। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বাঙালি পিছু হটেনি, বরং আন্দোলন আরও বেগবান হয়। পুলিশ এদিন ব্যাপক আকারে ধরপাকড় শুরু করে। আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুব এবং শওকত আলীর মতো নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ গণগ্রেপ্তারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ১১ তারিখের পর ১২ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ চলে। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ছাত্রদের সঙ্গে আট দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন, যেখানে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

১১ মার্চের এ ধর্মঘট প্রমাণ করেছিল যে, বাঙালি জাতি তাদের মায়ের ভাষার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। এটিই ছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম মূল ভিত্তি; যা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow