প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিহাব

জুমার নামাজের পর খেয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়েছেন আবদুল জলিল। তন্দ্রাও চলে এসেছে। এরই মধ্যে ছেলে দৌড়ে এসে বললো, ‘বাবা, আপনি তো শুধু আমাকে সুমন (স্থানীয় এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের ডাকনাম) সাহেবের সঙ্গেই দেখা করান। একবারও তো তারেক রহমানের (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দেখা করালেন না?  ছেলের এমন কথায় কিছুটা তব্দা খেয়ে যান বাবা জলিল। বেশ খানিকক্ষণ চিন্তা করে ছেলেকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কি কাজ? সন্তান জবাব দেয়, তারেক রহমানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবে সে। গৃহায়নমন্ত্রীর সঙ্গে ছেলের সাক্ষাতের ছবিসহ তাৎক্ষণিক এই বিষয়টি ফেসবুকে লেখেন বাবা আবদুল জলিল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে জলিল লেখেন, ‘আমার ছেলে আমাকে বলে আপনি তো শুধু আমাকে সুমন সাহেবের সঙ্গেই দেখা করান, একবারও তো তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করালেন না? আমি শুধু তার দিকে কিছুক্ষণের জন্য তাকিয়ে ছিলাম। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কি কাজ? সে জবাব দিলো, সে তারেক রহমানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবে। আমি মনে মনে ভাবি, বাবা তুমি আমার চেয়ে বড় আশা নিয়ে ঘুরো।’ আবদুল জ

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিহাব

জুমার নামাজের পর খেয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়েছেন আবদুল জলিল। তন্দ্রাও চলে এসেছে। এরই মধ্যে ছেলে দৌড়ে এসে বললো, ‘বাবা, আপনি তো শুধু আমাকে সুমন (স্থানীয় এমপি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের ডাকনাম) সাহেবের সঙ্গেই দেখা করান। একবারও তো তারেক রহমানের (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দেখা করালেন না? 

ছেলের এমন কথায় কিছুটা তব্দা খেয়ে যান বাবা জলিল। বেশ খানিকক্ষণ চিন্তা করে ছেলেকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কি কাজ? সন্তান জবাব দেয়, তারেক রহমানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবে সে।

গৃহায়নমন্ত্রীর সঙ্গে ছেলের সাক্ষাতের ছবিসহ তাৎক্ষণিক এই বিষয়টি ফেসবুকে লেখেন বাবা আবদুল জলিল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে জলিল লেখেন, ‘আমার ছেলে আমাকে বলে আপনি তো শুধু আমাকে সুমন সাহেবের সঙ্গেই দেখা করান, একবারও তো তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করালেন না? আমি শুধু তার দিকে কিছুক্ষণের জন্য তাকিয়ে ছিলাম। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তারেক রহমানের সঙ্গে তোমার কি কাজ? সে জবাব দিলো, সে তারেক রহমানের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করবে। আমি মনে মনে ভাবি, বাবা তুমি আমার চেয়ে বড় আশা নিয়ে ঘুরো।’

আবদুল জলিল কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। তার ৯ বছর বয়সী ছেলে ফরহাদ হোসেন সিহাব স্থানীয় ডাবুরিয়া এম এ দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সুবাদে ছেলেও কিছুটা আগ্রহী এতে। তবে, এতো ছোট বয়সেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার তার বড় স্বপ্নকে ইতিবাচক বার্তাই মনে করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। তারা আশা করছেন, একদিন রাজনীতিতে এ ছেলে বাবাকেও ছাড়িয়ে যাবে।  

গাজী দেলোয়ার হোসেন নামের একজন ফেসবুকের সেই স্ট্যাটাসে কমেন্ট করছেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়, সেও তার স্বপ্নের চেয়ে বড় হবে।’

শাহ আলম নামের একজন লিখেছেন, ‘কাকা সেই তো অনেক ভালো প্রস্তাব দিছে। আল্লাহ চাইলে কোনো এক দিন দেখা হবে।’

কুমিল্লা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, আসলে দুর্দিনে, দুঃসময়ে এই সংগঠনটা করে আসছি। আমার নেতা জাকারিয়া তাহের সুমন ভাইয়ের সঙ্গে নানান কর্মসূচিতে থাকি। সাক্ষাৎ হয়। সে থেকে ছেলেও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়। নিয়েও গেছি। কিন্তু এখন ছেলে প্রধানমন্ত্রীর যে সাক্ষাৎ চেয়েছে, সেটা তো বড় স্বপ্ন। এই মুহূর্তে পূরণ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমিই তো প্রোটোকলে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাই না। ছেলেকে কীভাবে সাক্ষাৎ করাবো? তবে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে নেতাদের বিষয়ে আবেগ-আগ্রহ তৈরি হয়েছে, এটা ইতিবাচক। আমি নিজেও এটা ভেবে আবেগাপ্লুত হয়েছি।

এসইউজে/এমএমকে 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow