প্রশাসনের উদাসীনতায় সরকারি জমি দখল, ঝিলংজায় ক্ষোভ

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের অংশে দিন-রাত সমানতালে দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাইড ওয়ালের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইট, বালু ও কংক্রিট মজুত করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, সেখানে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একটি জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনের জমি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যেই চলছে এই দখল কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, মায়াবী কমিউনিটি সেন্টারের মালিক শামশু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এই দখল চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, গত ৫ আগস্ট চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নেয় একটি চক্র। তারা অভিযোগ করেন, পরিষদের সচিবকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পরিষদের সামনের সড়ক ও জনপদের জায়গা দখলের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শামশু স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে এই দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় ত্র

প্রশাসনের উদাসীনতায় সরকারি জমি দখল, ঝিলংজায় ক্ষোভ

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের অংশে দিন-রাত সমানতালে দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাইড ওয়ালের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইট, বালু ও কংক্রিট মজুত করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, সেখানে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনের জমি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যেই চলছে এই দখল কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, মায়াবী কমিউনিটি সেন্টারের মালিক শামশু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এই দখল চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, গত ৫ আগস্ট চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত হওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নেয় একটি চক্র। তারা অভিযোগ করেন, পরিষদের সচিবকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পরিষদের সামনের সড়ক ও জনপদের জায়গা দখলের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শামশু স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে এই দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না বলেও জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা সম্পূর্ণ সরকারি জায়গা। দিনের পর দিন দখল হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু বলছে না। আমরা সাধারণ মানুষ হয়ে কোথায় যাবো?

আরেক বাসিন্দা নুরুল হুদা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সামনেই যদি এভাবে দখল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জমি তো আরও নিরাপদ না। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বললেই ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই সবাই চুপ আছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা প্রাচীরের ভেতরের অংশ পরিষদের হলেও সামনের অংশটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। হঠাৎ করে শামশু একটি ভুয়া খতিয়ান দেখিয়ে সরকারি জায়গা দখলের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগেও তার মায়াবী কমিউনিটি সেন্টারের নামে বিপুল পরিমাণ সড়ক ও জনপদের জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, সড়কের দু’পাশে ৭০ থেকে ৭৫ ফুট পর্যন্ত আমাদের জমি রয়েছে। কেউ যদি খালি জায়গা নিজেদের দাবি করে স্থাপনা নির্মাণ করে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

অভিযুক্ত শামশুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, জমিটি তার খতিয়ানভুক্ত এবং একটি পক্ষের কাছ থেকে ক্রয় করা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা স্থায়ীভাবে বেদখল হয়ে যেতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow