প্রাপ্তির শূন্যতা আর সমন্বয়হীনতার নাম রাকসু

দীর্ঘ তিন যুগের শত আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বছরের ১৬ অক্টোবর। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকারের আদায়য়ের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে— এমন প্রত্যাশাই ছিল সবার। শিক্ষার্থীরা ভেবেছিল, এবার বুঝি জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বদলে যাবে ক্যাম্পাসের এতদিনের সব সংকীর্ণতা। তবে ছয় মাস না যেতেই রাকসু ঘিরে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে। চোখ ধাঁধানো প্রতিশ্রুতি আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ শিক্ষার্থীদের সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল তা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। ১২ মাসে ২৪ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানই এখন রাকসুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) সহ মোট ২৩টি পদের ২০টিতে বিজয়ী হয় শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদের মধ্যে জি

প্রাপ্তির শূন্যতা আর সমন্বয়হীনতার নাম রাকসু

দীর্ঘ তিন যুগের শত আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বছরের ১৬ অক্টোবর। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকারের আদায়য়ের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে— এমন প্রত্যাশাই ছিল সবার।

শিক্ষার্থীরা ভেবেছিল, এবার বুঝি জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বদলে যাবে ক্যাম্পাসের এতদিনের সব সংকীর্ণতা। তবে ছয় মাস না যেতেই রাকসু ঘিরে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে। চোখ ধাঁধানো প্রতিশ্রুতি আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ শিক্ষার্থীদের সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল তা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।

১২ মাসে ২৪ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানই এখন রাকসুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) সহ মোট ২৩টি পদের ২০টিতে বিজয়ী হয় শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদের মধ্যে জিএস পদে আধিপত্য বিরোধী ঐক্য প্যানেল থেকে সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় নার্গিস খাতুন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তুফা নির্বাচিত হন।

শিবির সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ২৪ দফার ইশতেহারগুলোর মধ্যে ছিল, বিশেষ করে মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ, লাইব্রেরি ও রিডিং রুম সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা, চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, তথ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, অন-ক্যাম্পাস জব চালু, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন এবং ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এখন পর্যন্ত তাদের ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের ৪ দফার কাজ দৃশ্যমান হয়েছে যা গড়ে মোট ইশতেহারের প্রায় ১৬.৬৭ শতাংশ এখনো প্রায় ৮৩.৩৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করা বাকি। এক চতুর্থাংশের কাজ চলমান। এর মধ্যে মানসম্মত খাবারের জন্য নিয়মিত তদারকি, লাইব্রেরি সংস্কার ও এসি স্থাপনে সহযোগিতা, টিচার্স অ্যাভালুয়েশন, ক্যম্পাসের রাস্তা সংস্কারসহ আবাসিক হলগুলোতে ফাস্ট এইড বক্স প্রদান, বেশ কিছু সভা সেমিনার ও কর্মশালা করেছে রাকসু।

এছাড়া শপথ গ্রহণের ১০০ দিন পর রাকসু তাদের কার্যক্রমের একটি তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে ১০৩টি কাজের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এই তালিকার অন্তত ৩০টি কার্যক্রমই ছিল মতবিনিময় সভা, সৌজন্য সাক্ষাৎ, কবর জিয়ারত, স্ক্রিনে খেলা প্রদর্শন, স্মারকলিপি প্রদান ও কাওয়ালির মতো আয়োজন; যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী। এছাড়া ইশতেহারে থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রণোদনার ঘোষণা থাকলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই।

এরই মধ্যে এক সেমিনার আয়োজনকে কেন্দ্র রাকসুর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

এ বিষয়ে রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় স্বতন্ত্র ও অন্য প্যানেলের সদস্যদের মতামত অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। রাকসুর সম্পাদকেরা অনেক সময় ভিপির কনসার্নে প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করে থাকেন।’

রাকসুর সব সিদ্ধান্ত শিবির নিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে আম্মার বলেন- ‘তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই তাদের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক।’

এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলেছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘শিবির-সমর্থিত প্যানেলের বাইরে থাকা সদস্যদের মতামত উপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ জিএস দিতে পারেননি। বরং তার ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাই সহযোগিতা করছেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা আলোচনার মাধ্যমেই নিই। সমন্বয়হীনতা নয়, এটি স্বাভাবিক মতপার্থক্য।’

এদিকে, নির্বাচনের ছয় মাস পার হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন কিংবা ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব চোখে পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে, আর রাকসুর কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। যে রাকসুকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন তাদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।

হতাশার কথা জানিয়ে ফিন্যান্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাব্বিরুল আজিজ আসিফ বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটকে নির্বাচিত করেছিল, তা পূরণে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, গত ৬ মাসে সেসব বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। নির্বাচিত হওয়ার পর আবাসিক হলের খাবারের মানোন্নয়নে কিছু খণ্ডকালীন উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমানে তা আর অব্যাহত নেই। তবে সম্প্রতি লাইব্রেরি সংস্কারের বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেছে, যা ইতিবাচক দিক। কিন্তু সার্বিকভাবে প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই কাজ বাদ রয়েছে।’

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীর শাকিল আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন ছিল সব শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া, অধিকার ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন স্বপ্নের প্রতীক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সংকট আবাসন সমস্যা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৭২ বছরের ইতিহাসে ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার বাইরে। অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ও ব্যয়বহুল বিকল্প ব্যবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয় বরং শিক্ষাজীবনের মান, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে। রাকসু নির্বাচনের সময় এই সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি ছিল অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেই সমস্যাটি এখনো আমাদের প্রতিদিনের ভোগান্তির কেন্দ্রে রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের  মেডিকেল সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা ও হল ডাইনিংয়ের মানোন্নয়নও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর অভাব, কাঙ্ক্ষিত সেবার ঘাটতি, নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখনো আমাদের ভোগান্তিতে ফেলছে। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি এসব ইস্যুতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে। কিন্তু  কিছু ছোটোখাটো পদক্ষেপ বা প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা গেলেও মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত রয়ে গেছে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ ছত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের আবাসন সংকট নিরসনে, নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণে, মানসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণে এবং নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয়।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকসু জিএস বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের বলব রাকসু সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে কাজ করছে, খেলাধুলার বিষয় নিয়ে কাজ করছে, ডিবেট লিটারেচার নিয়ে কাজ করছে, এর বাহিরে অধিকারভিত্তিক কাজগুলোও রাকসু করছে। রাকসু কাজ হলো প্রশাসনকে চাপ সৃষ্টি করা, সেটা শতভাগই হচ্ছে। এছাড়া এখন নতুন প্রশাসন আমরা মোটামুটি এখনও বেগ পাচ্ছি না, আমরা আশা করছি রাকসুর সভাপতি বর্তমান ভিসি স্যার আমাদের প্রতি অনেক সাপোর্টিব হবে।

শিক্ষার্থীদের হতাশা এবং ইশতেহারের সিংহভাগই বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে রাকসুর ভিপি ও রাবি শিবিরের সাবেক সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘প্রতিকূলতার মধ্যেও শিবির-সমর্থিত প্যানেল শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হল দখল ও গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ, পাশাপাশি ম্যাগাজিন, সাহিত্য আড্ডা ও বিভিন্ন দিবস উদযাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবাসন সংকট নিরসন, অনাবাসিক ভাতা, ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন ও মেডিকেল সেবা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্যানেলের কাজ ও অগ্রগতি অনেকটাই শিক্ষার্থীদের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়টা শিক্ষার্থীদের ওপর ছেড়ে দিতে চাই। কারণ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে। শিক্ষার্থীই তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে। নির্বাচনের আগে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে রাকসুর সভাপতি হিসেবে আমি রাকসুর বডির কাছে এই বার্তা দেবো যে তারা যেন নির্দিষ্ট মতাদর্শকে সাইডে রেখে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যে কাজ করে।’

রাকসুর সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাকসুর সভাপতি হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে আমিও বিভিন্ন সম্পাদকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখতে পেয়েছি। এগুলো মিনিমাইজ করার যে চেষ্টা, সেটিও তাদের মধ্যে দেখতে পাইনি। তবে আমার সঙ্গে যেসব বিষয় নিয়ে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছিল, আমি সেগুলো সবার সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে বলেছি।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow