প্রিয়জনের টানে চট্টগ্রাম ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। কর্মস্থল, ব্যবসা ও জীবিকার প্রয়োজনে নগরে বসবাস করা হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ট্রেনের অপেক্ষা এবং মালপত্র নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে অনেককে। একই সঙ্গে নগরের বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদ এলেই বাড়ি ফেরার অনুভূতি অনেকের কাছে ভিন্ন মাত্রা পায়। কর্মব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর জন্য মানুষ বছরের এই সময়টির অপেক্ষায় থাকেন। সেই টানেই প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগ থেকেই চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্র

প্রিয়জনের টানে চট্টগ্রাম ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। কর্মস্থল, ব্যবসা ও জীবিকার প্রয়োজনে নগরে বসবাস করা হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। প্ল্যাটফর্মজুড়ে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ট্রেনের অপেক্ষা এবং মালপত্র নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে অনেককে। একই সঙ্গে নগরের বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদ এলেই বাড়ি ফেরার অনুভূতি অনেকের কাছে ভিন্ন মাত্রা পায়। কর্মব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর জন্য মানুষ বছরের এই সময়টির অপেক্ষায় থাকেন। সেই টানেই প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম ছাড়ছেন হাজারো মানুষ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগ থেকেই চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলের থেমে থেমে বৃষ্টিতে যাত্রাপথে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হলেও ঘরমুখো মানুষের চাপ কমেনি। ছাতা, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে যাত্রীদের স্টেশন ও বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ছাড়াও কদমতলী, দামপাড়া, একে খান, নতুন ব্রিজ, শাহ আমানত সেতু এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, জামালপুর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটের বাস ও ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে সকাল থেকেই টিকিট সংগ্রহ ও যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা লক্ষ্য করা যায়।

ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রীদের যাত্রা কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছে। সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে অধিকাংশ যাত্রী ট্রেনযাত্রাকেই তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। বিজয় এক্সপ্রেস, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলী ও মেঘনা এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর জানান, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ১৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যাত্রী আসনে এবং আরও প্রায় দুই হাজার যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিটে যাতায়াত করছেন।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার ও পরিবহন খাতে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

এদিকে ঈদ উপলক্ষে কিছু সড়কপথে যানজটের ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পশুর হাট ও অস্থায়ী বাজার কেন্দ্রিক এলাকায় গরু পরিবহন ও ওঠানামার কারণে সড়কে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব এলাকায় অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশুর হাট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগ, বাজার কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মিটিং করে পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে।’

ঈদের একদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বস্তিতেই চট্টগ্রাম থেকে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফিরছে ঘরমুখো মানুষ।

চট্টগ্রাম শহরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে এলে শহর ছাড়ার এই ধারা শুরু হলে ধীরে ধীরে অলিগলি ফাঁকা হয়ে পড়ে, নেমে আসে এক ধরনের নীরবতা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow