প্রেমে ব্যর্থতা থেকে জঙ্গলে একাকী জীবন পলাশের, ১০ বছর ধরে সমাজবিচ্ছিন্ন
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের সীমান্তকাঠি এলাকার ঘন সবুজে ঘেরা এক নির্জন জঙ্গল। পাখির ডাক আর গাছের পাতার শব্দ ছাড়া সেখানে নেই কোনো কোলাহল। সেই জঙ্গলের ভেতরেই নিজের হাতে তৈরি ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে বছরের পর বছর ধরে একাকী বসবাস করছেন পলাশ বড়াল (৩৫)। মানুষের ভিড়, কোলাহল আর সমাজ থেকে নিজেকে আড়াল করে প্রকৃতিকেই বানিয়েছেন জীবনের একমাত্র সঙ্গী। পলাশ ঝালকাঠি সদরের কৃষক ধীরেন বড়ালের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক তরুণীর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল পলাশের। সাহস করে ভালোবাসার কথা জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। সেই ব্যর্থতা ও মানসিক আঘাত থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে সংসার ও সমাজ ছেড়ে ওই গভীর জঙ্গলে একাকী জীবন বেছে নেন। পলাশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা একসময় অনেক চেষ্টা করেছিলেন। তাকে পারিবারিকভাবে বিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত জঙ্গল জীবন আর একাকীত্ব ছেড়ে তিনি স্বাভাবিক সংসারে মানিয়ে নিতে পারেননি। ফলে বিয়ের মাত্র
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের সীমান্তকাঠি এলাকার ঘন সবুজে ঘেরা এক নির্জন জঙ্গল। পাখির ডাক আর গাছের পাতার শব্দ ছাড়া সেখানে নেই কোনো কোলাহল। সেই জঙ্গলের ভেতরেই নিজের হাতে তৈরি ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে বছরের পর বছর ধরে একাকী বসবাস করছেন পলাশ বড়াল (৩৫)। মানুষের ভিড়, কোলাহল আর সমাজ থেকে নিজেকে আড়াল করে প্রকৃতিকেই বানিয়েছেন জীবনের একমাত্র সঙ্গী।
পলাশ ঝালকাঠি সদরের কৃষক ধীরেন বড়ালের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক তরুণীর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল পলাশের। সাহস করে ভালোবাসার কথা জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। সেই ব্যর্থতা ও মানসিক আঘাত থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে সংসার ও সমাজ ছেড়ে ওই গভীর জঙ্গলে একাকী জীবন বেছে নেন।
পলাশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা একসময় অনেক চেষ্টা করেছিলেন। তাকে পারিবারিকভাবে বিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত জঙ্গল জীবন আর একাকীত্ব ছেড়ে তিনি স্বাভাবিক সংসারে মানিয়ে নিতে পারেননি। ফলে বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আর কখনোই সমাজে ফেরার চেষ্টা করেননি পলাশ।
জঙ্গলের ভেতরে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা একটি ছোট্ট আশ্রয়ে দিন-রাত কাটানো পলাশ বড়াল বলেন, পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমি এই জীবন বেছে নিয়েছি। কেউ স্বেচ্ছায় সমাজ ছেড়ে এমন জঙ্গলে থাকতে চায় না। আমি কারও দ্বারা প্রতারিত হইনি, নিজের ব্যর্থতার কারণেই আজ এখানে চলে এসেছি।
পলাশের বড় ভাই ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিনয় বড়াল বলেন, পলাশ ছোটবেলা থেকেই খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। ও এইচএসসি পাস করার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের পর কিছু ব্যক্তিগত হতাশা ওকে গ্রাস করে। এরপর থেকে ও মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। আমরা অনেকবার ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেছি, বিয়েও দিয়েছিলাম। কিন্তু ও জঙ্গল ছেড়ে আর ফিরল না। আমরা এখনো চাই ও পরিবারের কাছে ফিরে আসুক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিকাশ হালদার বলেন, পলাশের এই অবস্থা দীর্ঘদিনের। এলাকার মানুষ তাকে চেনে এবং অনেকেই বিভিন্ন সময় তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে। আমরা সবাই চাই, পলাশ তার ভুলগুলো কাটিয়ে আবার সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুক।
এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন, পলাশের এই জীবন শুধু একাকীত্বের গল্প নয়; এটি মূলত গভীর মানসিক আঘাত ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সঠিক মানসিক ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে পলাশ হয়তো আবারও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
What's Your Reaction?