ফটোফ্রেমের দেশি প্ল্যাটফর্ম
এসএসসি ২০০৪ ব্যাচ মিরসরাই, একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে সক্রিয় একটি গ্রুপ। ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্যরা একজন আরেকজনের সাথে যুক্ত থাকেন। সুখে-দুঃখে পাওয়া যায় একে-অপরকে। অনলাইনে একে-অপরের সাথে যুক্ত থাকলেও সরাসরি দেখা হওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। ঈদের ছুটিতে এলাকার বাইরে থাকা অনেকে এলাকায় আসেন। তাদের একত্রিত করে সরাসরি প্রোগ্রাম করলে আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। গত বছর ঈদ পুনর্মিলনী প্রোগ্রাম করেছিল এ গ্রুপ। এবারের ঈদুল আজহায় প্রোগ্রাম কখন, কীভাবে করা যায়; সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে যায়। ঈদের দুদিন আগে ভেন্যু ঠিক হয়। দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়। এবার সবাইকে জানানোর পালা। সময় কম। গ্রুপের নীতি-নির্ধারকদেরও নানাবিধ ব্যস্ততা আছে। ব্যস্ততার সমাধান হিসেবে গ্রুপের অ্যাডমিন আনোয়ার হোসেন ব্যবহার করেন ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টার্স ফ্রেম। সেখানে প্রোগ্রামের নাম, ভেন্যু, দিন-তারিখসহ একটি ফ্রেম আপলোড করে লিংক দিয়ে দেন ফেসবুক গ্রুপ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ব্যাচের বন্ধুরা নিজ দায়িত্বে ছবি আপ
এসএসসি ২০০৪ ব্যাচ মিরসরাই, একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে সক্রিয় একটি গ্রুপ। ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্যরা একজন আরেকজনের সাথে যুক্ত থাকেন। সুখে-দুঃখে পাওয়া যায় একে-অপরকে। অনলাইনে একে-অপরের সাথে যুক্ত থাকলেও সরাসরি দেখা হওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম।
ঈদের ছুটিতে এলাকার বাইরে থাকা অনেকে এলাকায় আসেন। তাদের একত্রিত করে সরাসরি প্রোগ্রাম করলে আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। গত বছর ঈদ পুনর্মিলনী প্রোগ্রাম করেছিল এ গ্রুপ। এবারের ঈদুল আজহায় প্রোগ্রাম কখন, কীভাবে করা যায়; সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে যায়। ঈদের দুদিন আগে ভেন্যু ঠিক হয়। দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়। এবার সবাইকে জানানোর পালা।
সময় কম। গ্রুপের নীতি-নির্ধারকদেরও নানাবিধ ব্যস্ততা আছে। ব্যস্ততার সমাধান হিসেবে গ্রুপের অ্যাডমিন আনোয়ার হোসেন ব্যবহার করেন ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টার্স ফ্রেম। সেখানে প্রোগ্রামের নাম, ভেন্যু, দিন-তারিখসহ একটি ফ্রেম আপলোড করে লিংক দিয়ে দেন ফেসবুক গ্রুপ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ব্যাচের বন্ধুরা নিজ দায়িত্বে ছবি আপলোড করে ফেসবুকে পোস্ট দিতে থাকেন। ঈদের দিন আসতে আসতে ব্যাচের সবার কাছে চলে যায় প্রোগ্রামের কথা।
এসএসসি ২০০৪ ব্যাচ মিরসরাই ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রচারের বিষয়টি আরও আগে শুরু করা দরকার ছিল। নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে চালু হওয়া ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টার্স ফ্রেম ব্যবহার করে আমরা একটা ফেম লিংক তৈরি করি। যা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ফেসবুক গ্রুপে দিই। প্রচারণার এ পদ্ধতিতে আমরা বিপুল সাড়া পাই। ৮০ জন বন্ধু এখান থেকে ফ্রেম ডাউনলোড করেন। প্রোগ্রামে ৩৫০ বন্ধু অংশ নেয়।’
কাছাকাছি ঘটনা নাইজেরিয়ার নেটওয়ার্ক অব পিপল ইমপ্যাকটেড বাই ক্যানসার ইন নাইজেরিয়ার। তারা ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে থাকেন। আগামী ১৮ জুন তারা আয়োজন করেছেন ক্যানসার সারভাইবার সামিটের। তাদের প্রোগ্রাম প্রমোশনের জন্য তারা ব্যবহার করছেন সাপোর্টার্স ফ্রেম প্ল্যাটফর্ম।
সাপোর্টার্স ফ্রেম কী
সাপোর্টার্স ফ্রেম ওয়েবভিত্তিক ফ্রেম তৈরি ও শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম। যে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ইস্যু সহজে দ্রুততম সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে এ ফ্রেম ব্যবহার হয়। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে লেখার চেয়ে ফটো মানুষের বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নিজের ছবি দিয়ে একটা ফ্রেম সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করলে ফ্রেমের লেখাগুলোও অডিয়েন্স খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েন। এতে সামাজিক মাধ্যমে বাড়তি মনোযোগ পাওয়া যায়।
সাপোর্টার্স ফ্রেমের ফিচার
সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেশকিছু ফিচার রয়েছে। যে কোনো নিবন্ধিত ব্যবহারকারী তার পছন্দমতো ফ্রেম আপলোড দিয়ে পছন্দমতো লিংক তৈরি করতে পারেন। এ প্ল্যাটফর্মে ফ্রেম আপলোড করতে রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হয়। লিংক থেকে ছবি যুক্ত করে ডাউনলোড করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হয় না। দিনের সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী ৫টি ফ্রেম লিডার বোর্ডে স্থান পায়। প্ল্যাটফর্মটির স্পিড খুবই ফাস্ট। কম সময়ে কোয়ালিটিফুল ছবি প্রসেস ও ডাউনলোড করা যায়।
বিদেশি ব্যবহারকারীই বেশি
প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশ থেকে তৈরি করা হলেও প্রথম প্রথম বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরাই ছিল সর্বোচ্চ। বিদেশি ব্যবহারকারী ছিল হাতেগোনা। অবস্থা পাল্টেছে এখন। গত ২ জুনের তথ্যমতে, ৭০টি দেশ থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে এ প্ল্যাটফর্ম। ব্যবহারের দিক থেকে প্রথম স্থানে রয়েছে ফিলিপাইন। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তৃতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, চতুর্থ স্থানে ইন্দোনেশিয়া এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে নাইজেরিয়া।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে এ প্ল্যাটফর্ম বানানো হলেও এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা। সাপোর্টার্স ফ্রেমের প্রতিষ্ঠাতা নাদিম মজিদের লক্ষ্য, কমপক্ষে প্রতি মাসে ১০ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন।
এসইউ
What's Your Reaction?