ফটোশুট নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক অগ্রগতি

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে অনেক পর্যবেক্ষক করমর্দন বা যৌথ ছবি না হওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করলেও, এর আড়ালে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়েছে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে। বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাশে দেখা যায় এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের কাউকেই একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন বা সরাসরি কথা বলতে অন্যতত ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আশা করেছিলেন, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করমর্দনের ছবি প্রকাশ পাবে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়, ইরানি প্রতিনিধিদল এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ফটোশুটে অংশ নেবে না। তেহরানের আলোচকরা জোর দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের

ফটোশুট নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক অগ্রগতি

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ঘিরে অনেক পর্যবেক্ষক করমর্দন বা যৌথ ছবি না হওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করলেও, এর আড়ালে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়েছে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে।

বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাশে দেখা যায় এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের কাউকেই একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন বা সরাসরি কথা বলতে অন্যতত ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আশা করেছিলেন, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করমর্দনের ছবি প্রকাশ পাবে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়, ইরানি প্রতিনিধিদল এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ফটোশুটে অংশ নেবে না।

তেহরানের আলোচকরা জোর দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তারা এখনো প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল এবং এমন বিমান হামলাও হয়েছে, যাতে একটি স্কুলে বহু শিশু নিহত হয় ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানি প্রতিনিধিদল নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’ নামে, যা একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় নিহত ১৬৮ জনের স্মরণে রাখা হয়েছে।

তবে প্রতীকী বিষয়গুলোকে ছাপিয়ে আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনার পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সমঝোতা বাস্তবায়নে কারিগরি কর্মদল গঠন করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও অব্যাহত রয়েছে।

এসব পদক্ষেপকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সচল থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা যত দীর্ঘই হোক না কেন, একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট যে, দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরি হলেও তা সম্ভবত কোনো ঐতিহাসিক করমর্দন বা বিজয়োৎসবের ছবির মাধ্যমে উদযাপিত হবে না। মধ্যস্থতাকারীদের প্রত্যাশা সত্ত্বেও, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগোবে নীরব কূটনীতির পথ ধরেই।

সূত্র : সিএনএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow