ফরিদুজ্জামানের কবিতা

নারী বন্ধনা   রূপকথা এক নিধুবন নারী, নারী অমূল্যনিধি রহস্যময় মায়ার নিরিখে গড়েছেন তাকে বিধি। দুগ্ধ ও সুধা মধুভাণ্ডরী সন্তান-সন্ততি তাকে ঘিরে ওঠে সুখকল্লোল আনন্দের আরতি। নবদ্বীপ জুড়ে নব উদ্ভিদ রূপে-অপরূপে সাজে নাগরদোলার দোলনার দুলে নারী নদীয়ায় বাজে। কামযজ্ঞের মন্দিরচূড়া নেচে ওঠে সংগীতে লজ্জাবনত নাচের লহরী দেহভল্লব মীথে। সন্যাসিনীর বুকের ভেতর অশেষ ঝর্ণাধারা রূপরসসুধা উঁচু সম্বিতে কবিরা পাগলপারা। স্নিগ্ধ শ্যামল হৃদয়গ্রাসীর কাছে মানা পরাভব সমর্পণের মাধ্যমে তার জমে ওঠে কলরব। দেবতা নারীর হৃদয় চিনেছে এমনটা নয় দাবি গুণমুগ্ধরা দখলে নিয়েছে রূপহারা সুখচাবি।     রোদসী নারী প্রসবা মেঘের ডাক অঙ্কুরেরা ঠিকই বুঝে নেয় অসাড় গর্জণ সেও শেকড়ের বোধগম্য খুব। পালানের ঘাসেরাও আলো খুজে বাড়ে  আমার রমণ শুধু মহাভারত অশুদ্ধ হল। সাগর সেচিয়ে আমি জহরত মানিক পেয়েছি তবু আস্ফালনে বল মনি নয় শামুকের ডিম। বর্ণান্ধ নারী তুমি রঙধনুর শুধু ছায়া দেখ সে কথা জেনেই আমি রোদসী রমণী বলে মানি। নানা বরণ দাগ অঙ্গে মেখে দাঘি হয়ে আছ তবু আস্ফালনে বল সৌকর্যের মেহেদি পরেছি। পুষ্প বেদনা ব্যতীত রত্নগর্ভা কে কবে হয়েছে? এতোসুখ লুফল

ফরিদুজ্জামানের কবিতা
নারী বন্ধনা   রূপকথা এক নিধুবন নারী, নারী অমূল্যনিধি রহস্যময় মায়ার নিরিখে গড়েছেন তাকে বিধি। দুগ্ধ ও সুধা মধুভাণ্ডরী সন্তান-সন্ততি তাকে ঘিরে ওঠে সুখকল্লোল আনন্দের আরতি। নবদ্বীপ জুড়ে নব উদ্ভিদ রূপে-অপরূপে সাজে নাগরদোলার দোলনার দুলে নারী নদীয়ায় বাজে। কামযজ্ঞের মন্দিরচূড়া নেচে ওঠে সংগীতে লজ্জাবনত নাচের লহরী দেহভল্লব মীথে। সন্যাসিনীর বুকের ভেতর অশেষ ঝর্ণাধারা রূপরসসুধা উঁচু সম্বিতে কবিরা পাগলপারা। স্নিগ্ধ শ্যামল হৃদয়গ্রাসীর কাছে মানা পরাভব সমর্পণের মাধ্যমে তার জমে ওঠে কলরব। দেবতা নারীর হৃদয় চিনেছে এমনটা নয় দাবি গুণমুগ্ধরা দখলে নিয়েছে রূপহারা সুখচাবি।     রোদসী নারী প্রসবা মেঘের ডাক অঙ্কুরেরা ঠিকই বুঝে নেয় অসাড় গর্জণ সেও শেকড়ের বোধগম্য খুব। পালানের ঘাসেরাও আলো খুজে বাড়ে  আমার রমণ শুধু মহাভারত অশুদ্ধ হল। সাগর সেচিয়ে আমি জহরত মানিক পেয়েছি তবু আস্ফালনে বল মনি নয় শামুকের ডিম। বর্ণান্ধ নারী তুমি রঙধনুর শুধু ছায়া দেখ সে কথা জেনেই আমি রোদসী রমণী বলে মানি। নানা বরণ দাগ অঙ্গে মেখে দাঘি হয়ে আছ তবু আস্ফালনে বল সৌকর্যের মেহেদি পরেছি। পুষ্প বেদনা ব্যতীত রত্নগর্ভা কে কবে হয়েছে? এতোসুখ লুফলে তবু ত্যাগধর্মে হলেনা দীক্ষিত! পিতার জন্মের দায় পিতা হয়ে জন্ম নেই আমি বীর্যে সংকীর্তনে এ অধম রোদসীর স্বামী।     নারী রোদসী রমণী এক বুনিয়েছে মননের জাল গঙ্গা যমুনার জল উছলায় আনাঘ্রাতা স্রোতে পল্লবিত হয়ে ওঠে মরা গাছ সন্ন্যাসীর ব্রতে আমাকে জাগিয়ে আমি হয়ে যাই মহুয়া মাতাল। আড়ালে রুমাল  নাড়ে সেকি তবে মহাযাদুকর নাচি খেলি মরি বাঁচি বাঁধা ছকে তার ইশারায় আকাঙ্খার জলে মরু মরিচীকা হৃদয়ে বিছায় কূলনাশা নদী নারী জাগিয়েছে সৃজনের চর। সর্বাঙ্গীন সহচর সে আমার জায়া বা জননী। অথবা ধরিত্রী কন্যা ভগ্নি কিংবা নারী শিরোমণি যেই হোক যুগকনে জাগিয়েছে বোধনের নদী নারী ভোলা অসম্ভব জেনো কৃতঘ্ন না হও যদি। পুরুষ কলসে নারী মেলে রাখে গোখরার ফণা অধমের চাষাবাদে নারী দেয় অমৃতের কণা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow