ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

বাজারের টাটকা ফলমূল আর সবুজ শাকসবজি দেখলেই ভালো লাগে। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে আরেকটি বাস্তবতা - ক্ষতিকর কীটনাশকের ঝুঁকি। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বারবার বলছে, অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার আমাদের প্রতিদিনের খাবারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ভালো খবর হলো, সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করলে এই ঝুঁকির বড় একটি অংশ কমানো সম্ভব। আজ (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসে চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে পরিষ্কার করলে কাঁচা সবজি ও ফলে কীটনাশকের প্রভাব কমানো সম্ভব- ১. লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা এটি সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়। এক লিটার কুসুম গরম পানিতে দুই চা-চামচ সাধারণ লবণ মিশিয়ে তাতে ফলমূল বা শাকসবজি অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে ফরমালিনসহ কিছু ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ অনেকটাই কমে যায়। ২. ভিনেগার বা লেবুর রসের ব্যবহার এক ভাগ ভিনেগার ও নয় ভাগ পানি মিশিয়ে তৈরি করা মিশ্রণে ফলমূল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও কীটনাশক দূর হতে পারে। তবে পাতাজাতীয় সবজি বা নরম ফল বেশি সময় ভিনেগার পানিতে রাখা উচিত নয়, এতে স্বাদ

ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

বাজারের টাটকা ফলমূল আর সবুজ শাকসবজি দেখলেই ভালো লাগে। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে আরেকটি বাস্তবতা - ক্ষতিকর কীটনাশকের ঝুঁকি।

বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) বারবার বলছে, অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার আমাদের প্রতিদিনের খাবারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ভালো খবর হলো, সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করলে এই ঝুঁকির বড় একটি অংশ কমানো সম্ভব।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসে চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে পরিষ্কার করলে কাঁচা সবজি ও ফলে কীটনাশকের প্রভাব কমানো সম্ভব-

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস/ ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

১. লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা

এটি সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়। এক লিটার কুসুম গরম পানিতে দুই চা-চামচ সাধারণ লবণ মিশিয়ে তাতে ফলমূল বা শাকসবজি অন্তত ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে ফরমালিনসহ কিছু ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ অনেকটাই কমে যায়।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস/ ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

২. ভিনেগার বা লেবুর রসের ব্যবহার

এক ভাগ ভিনেগার ও নয় ভাগ পানি মিশিয়ে তৈরি করা মিশ্রণে ফলমূল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও কীটনাশক দূর হতে পারে। তবে পাতাজাতীয় সবজি বা নরম ফল বেশি সময় ভিনেগার পানিতে রাখা উচিত নয়, এতে স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। তাই ৫-১০ মিনিটের বেশি না রাখাই নিরাপদ।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস/ ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

৩. চলমান পানিতে ঘষে ধোয়া

শাকসবজি কাটার আগে কলের চলমান পরিষ্কার পানির নিচে হাতে হালকা ঘষে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে উপরের স্তরে লেগে থাকা ধুলাবালি, মাটি ও আলগা কীটনাশক সহজেই সরে যায়।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস/ ফল ও সবজি থেকে কীটনাশক দূর করবেন যেভাবে

৪. খোসা ছাড়ানো

শসা, গাজর, আপেল বা লাউয়ের মতো ফল ও সবজির ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া বেশ কার্যকর। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কীটনাশকের অংশ বাইরের স্তরেই জমে থাকে। খোসা ছাড়ালে ভেতরে শোষিত হয়নি এমন রাসায়নিকের ঝুঁকি কমে যায়। তবে খোসা ছাড়ানোর আগেও ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

৫. ব্লাঞ্চিং বা হালকা ভাপ দেওয়া

ফুলকপি, বাঁধাকপি বা ব্রকলির মতো সবজি হালকা গরম পানিতে ১-২ মিনিট ভাপিয়ে নিয়ে সেই পানি ফেলে দিলে কীটনাশকের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এরপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে রান্না করলে খাবার আরও নিরাপদ হয়।

তবে বেশি পরিষ্কার করার চেষ্টায় ভুলেও ফলমূল ও সবজি ধোয়ার ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট বা সাবান ব্যবহার করবেন না। বিএফএসএ স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে - এসব রাসায়নিক খাবারের ভেতরে ঢুকে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিষ্কার পানি আর সঠিক সময় - এই দুটিই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।

সূত্র: বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও জনসচেতনতামূলক প্রকাশনা

এএমপি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow