ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি যে দুই দল
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল বা শেষ চারে ওঠা দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত এমন দুটি দল রয়েছে, যারা এই পর্যন্ত এসে পরাজয়ের স্বাদ পায়নি। দল দুটি হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা স্পেন।
১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা যতবার শেষ চারে উঠেছে, প্রতিবারই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনও তাদের একমাত্র সেমিফাইনালে জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।
বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৩০ থেকেই শুরু হয় সেমিফাইনাল পর্ব। যদিও ১৯৫০, ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে বর্তমান কাঠামোর মতো সরাসরি সেমিফাইনাল ছিল না। ওই আসরগুলোতে শীর্ষ চার দল নির্ধারিত হয়েছিল গ্রুপ পর্বের মাধ্যমে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেষ চার দলের তালিকায় থাকা দলগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সেমিফাইনাল রেকর্ড আলাদা মর্যাদা পেয়েছে।
আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ১৯৩০ সালে। উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপের সেই আসরে শেষ চারে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২ সালেও সেমিফাইনালে উঠে প্রতিবারই ফাইনাল নিশ্চিত ক
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল বা শেষ চারে ওঠা দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত এমন দুটি দল রয়েছে, যারা এই পর্যন্ত এসে পরাজয়ের স্বাদ পায়নি। দল দুটি হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা স্পেন।
১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা যতবার শেষ চারে উঠেছে, প্রতিবারই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনও তাদের একমাত্র সেমিফাইনালে জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।
বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৩০ থেকেই শুরু হয় সেমিফাইনাল পর্ব। যদিও ১৯৫০, ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে বর্তমান কাঠামোর মতো সরাসরি সেমিফাইনাল ছিল না। ওই আসরগুলোতে শীর্ষ চার দল নির্ধারিত হয়েছিল গ্রুপ পর্বের মাধ্যমে। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে শেষ চার দলের তালিকায় থাকা দলগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সেমিফাইনাল রেকর্ড আলাদা মর্যাদা পেয়েছে।
আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ১৯৩০ সালে। উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপের সেই আসরে শেষ চারে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২২ সালেও সেমিফাইনালে উঠে প্রতিবারই ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও সেই আসরের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রথাগত সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। সেবার দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা সরাসরি ফাইনালে খেলেছিল। ফিফার অফিশিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী এটিকেও সেমিফাইনাল পর্যায়ের পারফরম্যান্স হিসেবে গণনা করা হয়, তবে সরাসরি নকআউট সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলা হয়েছে মোট ৫টি আসরে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারায়। ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় তারা। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার থেকে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল।
অন্যদিকে স্পেনের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ইতিহাস শুরু হয় ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। ওই আসরে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে লা রোজারা। কার্লোস পুয়োলের ৭৩তম মিনিটের হেডে পাওয়া সেই জয় স্পেনকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে সাহায্য করে। পরে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড রয়েছে জার্মানির। তারা ১৩ বার শেষ চারে উঠেছে। এরপর ব্রাজিল ১১ বার এবং ইতালি ৮ বার সেমিফাইনালে খেলেছে। তবে এসব দলের অনেকেই একাধিকবার এই মঞ্চে হেরেছে।
আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত ৬ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং প্রতিবারই ফাইনালে পৌঁছেছে। স্পেনের ক্ষেত্রে সংখ্যা কম হলেও একবার সুযোগ পেয়েই সফলতা পেয়েছে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। এবারের আসরে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। ফলে স্পেনের সামনে আবারও নিজেদের অপরাজিত সেমিফাইনাল রেকর্ড ধরে রাখার সুযোগ, আর ফ্রান্সের সামনে ফাইনালের মঞ্চে ফেরার লক্ষ্য।
এদিকে বাংলাদেশ সময় রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টায় কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের পথে ফেবারিট হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের শেষ চারে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই অনন্য রেকর্ড তাদের আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেন ও আর্জেন্টিনা কি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে।