ফেনীর উত্তর আনন্দপুর যেন এক টুকরো ‘আর্জেন্টিনা’ 

ফেনীর ফুলগাজীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুর গ্রাম যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানাতে পুরো গ্রামজুড়ে সাজসজ্জা করেছেন স্থানীয় তরুণরা। ফেনী-পরশুরাম সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের পুরো পথজুড়ে টাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার শত শত পতাকা, ব্যানার এবং লিওনেল মেসিসহ বিভিন্ন খেলোয়াড়ের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও দেয়ালও রাঙানো হয়েছে নীল-সাদা রঙে। অনেকেই এখন উত্তর আনন্দপুরকে ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’ নামেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আর্থিক সহযোগিতায় এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে গ্রামে আর্জেন্টিনা থিমে একটি বিশেষ প্রবেশদ্বার নির্মাণের কাজও শুরু হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থী রবিউল হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনা সমর্থন করে। তাই সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে গ্রামের প্রবেশমুখে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে একটি গেট নির্মাণ করেছি। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও লাগানো হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার (৯

ফেনীর উত্তর আনন্দপুর যেন এক টুকরো ‘আর্জেন্টিনা’ 

ফেনীর ফুলগাজীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুর গ্রাম যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানাতে পুরো গ্রামজুড়ে সাজসজ্জা করেছেন স্থানীয় তরুণরা।

ফেনী-পরশুরাম সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের পুরো পথজুড়ে টাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার শত শত পতাকা, ব্যানার এবং লিওনেল মেসিসহ বিভিন্ন খেলোয়াড়ের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও দেয়ালও রাঙানো হয়েছে নীল-সাদা রঙে। অনেকেই এখন উত্তর আনন্দপুরকে ‘আর্জেন্টিনা গ্রাম’ নামেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আর্থিক সহযোগিতায় এ আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে গ্রামে আর্জেন্টিনা থিমে একটি বিশেষ প্রবেশদ্বার নির্মাণের কাজও শুরু হবে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী রবিউল হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আর্জেন্টিনা সমর্থন করে। তাই সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে গ্রামের প্রবেশমুখে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে একটি গেট নির্মাণ করেছি। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও লাগানো হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের তরুণ ও কিশোরদের বেশিরভাগই আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেরাম খেলছেন, কেউ দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত সাজসজ্জার কাজে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আবুল কাশেম বলেন, ‘১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে আমি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি। শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী, সন্তান, ভাই-ভাতিজাসহ পুরো পরিবারই আর্জেন্টিনার সমর্থক। খেলার দিন আমাদের বাড়িতে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির দেয়াল আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে।’

তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতির মধ্যেও গ্রামে ব্রাজিলের সমর্থকদেরও দেখা গেছে। প্রিয় দল ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে রয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়দের মতে, ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন শুধু খেলার প্রতি ভালোবাসাই প্রকাশ করছে না, বরং পুরো গ্রামে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করেছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে তুলেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow