ফেরেশতারা কেন শুধু আদমকে সিজদা করেছিলেন, হাওয়াকে নয়
সম্প্রতি এক অনলাইন অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি নোমান আলী খানকে প্রশ্ন করেন, মানুষ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের কেন শুধু আদমকে (আ.) সিজদা করতে বলেছিলেন, হাওয়াকে (আ.) কেন সিজদা করতে বলেননি? নোমান আলী খান উত্তরে বলেন, আল্লাহ প্রথম প্রাণ সৃষ্টি করে তা আদমের ভেতরে ফুঁকে দেওয়ার ফয়সালা করেন। আর সেই প্রথম দেহটি সৃষ্টি করা হয়েছিল স্রষ্টার এক মহান সৃষ্টির মডেল হিসেবে, যা বস্তু আর রুহের এক অপূর্ব সমন্বয়। আমার দৃষ্টিতে এই ঘটনাটি এমন নয় যে ফেরেশতাদের কেবল আদমের সামনে সিজদা করতে বলা হয়েছিল, বরং তাঁর মধ্য দিয়ে যে অলৌকিক সৃষ্টি প্রকাশ পেয়েছিল, সেই অলৌকিকতার প্রতিই ছিল এই সিজদা। কোরআনে অলৌকিক নিদর্শনাদির ক্ষেত্রে সিজদার যে বিবরণ আসে, এটিও তেমনি একটি বিষয়। এই সিজদার মাধ্যমে গোটা মানবজাতি সম্মানিত হয়েছে। আদম হলেন প্রথম মানব, তিনি কেবল প্রথম পুরুষ নন। আদম, হাওয়া এবং তাঁদের পরবর্তী সব সন্তানকেই এই ঘটনার মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। আজকের দিনে নারী ও পুরুষের সম্মানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো বা লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিতে কোরআনকে বিচার করার এই মানসিকতা মূলত আধুনিককালের এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা থেকে এসেছে। কোরআন এই মানসিক
সম্প্রতি এক অনলাইন অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি নোমান আলী খানকে প্রশ্ন করেন, মানুষ সৃষ্টির পর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের কেন শুধু আদমকে (আ.) সিজদা করতে বলেছিলেন, হাওয়াকে (আ.) কেন সিজদা করতে বলেননি?
নোমান আলী খান উত্তরে বলেন,
আল্লাহ প্রথম প্রাণ সৃষ্টি করে তা আদমের ভেতরে ফুঁকে দেওয়ার ফয়সালা করেন। আর সেই প্রথম দেহটি সৃষ্টি করা হয়েছিল স্রষ্টার এক মহান সৃষ্টির মডেল হিসেবে, যা বস্তু আর রুহের এক অপূর্ব সমন্বয়।
আমার দৃষ্টিতে এই ঘটনাটি এমন নয় যে ফেরেশতাদের কেবল আদমের সামনে সিজদা করতে বলা হয়েছিল, বরং তাঁর মধ্য দিয়ে যে অলৌকিক সৃষ্টি প্রকাশ পেয়েছিল, সেই অলৌকিকতার প্রতিই ছিল এই সিজদা। কোরআনে অলৌকিক নিদর্শনাদির ক্ষেত্রে সিজদার যে বিবরণ আসে, এটিও তেমনি একটি বিষয়।
এই সিজদার মাধ্যমে গোটা মানবজাতি সম্মানিত হয়েছে। আদম হলেন প্রথম মানব, তিনি কেবল প্রথম পুরুষ নন। আদম, হাওয়া এবং তাঁদের পরবর্তী সব সন্তানকেই এই ঘটনার মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে।
আজকের দিনে নারী ও পুরুষের সম্মানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো বা লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিতে কোরআনকে বিচার করার এই মানসিকতা মূলত আধুনিককালের এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা থেকে এসেছে। কোরআন এই মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয় না, বরং সত্যকে ঠিক যেভাবে ঘটেছে সেভাবেই তুলে ধরে।
কোরআন কিন্তু হাওয়াসহ (আ.) নারীদের ওপর থেকে ঐতিহাসিক কলঙ্ক দূর করেছে। বাইবেলে বলা হয়েছে হাওয়া আদমকে প্ররোচিত করেছিলেন নিষিদ্ধ ফল খেতে এবং সেই কারণে মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু কোরআন স্পষ্টভাবেই এই অপরাধের দায় উভয়ের ওপর সমানভাবে চাপিয়েছে, কিংবা কোনো কোনো স্থানে এককভাবে আদমের ওপর দায় দেওয়া হয়েছে।
আমরা যখন ইবলিসের কথা ভাবি, তখন প্রশ্ন জাগে, আল্লাহর সরাসরি সান্নিধ্যে থেকেও কীভাবে কেউ এতটা ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতা দেখাতে পারে? আমরা সাধারণ মানুষ যেখানে তাঁর মহিমার কথা চিন্তা করলেই ভয়ে শিউরে উঠি, সেখানে ইবলিস কীভাবে এত দুঃসাহস পেল? সে কি আল্লাহর ভয় বা অনুভূতির জায়গাটি হারিয়ে ফেলেছিল?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইবলিসের মনস্তত্ত্বের গভীরে। ইবলিসের নিজের সম্পর্কে একধরনের অহংবোধ ছিল। সে নিজেকে ফেরেশতা ও জিনদের চেয়ে আলাদা এবং সেরা মনে করত।
যখন আদমকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলো, ইবলিস দেখল ফেরেশতা ছাড়া অন্য কাউকে এই প্রথম এত সম্মানিত করা হচ্ছে। তখন সে অনুভব করল তার অনন্যতা আর রইল না, সে আর সবার ওপরে অনন্য মর্যাদার অধিকারী হয়ে নেই।
যদিও তার পদমর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়নি বা আল্লাহর দরবার থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি, তাও সে নিজেকে আদমের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত রাখতে পারল না। নিজের কল্পিত শ্রেষ্ঠত্ব আর অহংকার ধরে রাখার চাহিদা তার মধ্যে এতটাই প্রবল হয়ে উঠল যে, আল্লাহর নির্দেশও তার কাছে গৌণ হয়ে গেল।
অহংকার এতটাই অন্ধ করে দিতে পারে যে তা সত্যকে ঢেকে ফেলে। আর যেহেতু আল্লাহর একটি নাম 'আল-হক' বা পরম সত্য, তাই সত্য দেখতে না পাওয়া অর্থ প্রকারান্তরে আল্লাহকেই অস্বীকার করা। যুগে যুগে এমন অনেক মানুষ দেখা যায়, যারা স্পষ্ট সত্য জানা সত্ত্বেও নিজেদের ভুল স্বীকার করে না, বরং নিজের অপরাধকে হাসিমুখে সঠিক বলে দাবি করে। ইবলিস মানুষের মাঝে এই অহংকার ও অন্ধত্ব ছড়াতে সফল।
অনেকে মনে করেন, মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগে আরবি ভাষার সহজ বোধগম্যতার কারণে সবাই কোরআন শুনেই বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই একই আরবরা কোরআন শুনেও ইসলাম গ্রহণ করেনি, বরং অনেকে আরও ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। তৎকালীন মুনাফিকরা, যারা আরবি ভাষায় আমাদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ছিল, তারাও কোরআনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল।
সুতরাং কোরআন সবার কাছ থেকে আরবি ভাষার ওপর ব্যুৎপত্তি আশা করে না। কিন্তু যা আশা করে তা হলো, মানুষ তার সাধ্যমতো এই কালামের সাথে যুক্ত থাকবে।
আল্লাহ তাআলা যুগ যুগ ধরে এই বাণীকে মানুষের কাছে সহজ ও পৌঁছানোর উপযোগী করে রেখেছেন তাদের মাধ্যমে, যারা এতে বিশ্বাস করে। যাদের জ্ঞান কম, তারা জ্ঞানীদের কাছ থেকে শিখবে এভাবেই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আল্লাহর কালাম বোঝার এক ধারাবাহিক যাত্রায় শামিল থাকবে। কারণ আল্লাহর বাণীতে বুৎপত্তি অর্জনের কোনো শেষ সীমা নেই; প্রত্যেকেই এই জানার যাত্রায় এক একজন অভিযাত্রী।
সূত্র: নোমান আলী খানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল
ওএফএফ
What's Your Reaction?