ফ্রান্সকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন দেশম
ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। জাতীয় দলের দায়িত্বে টানা ১৪ বছর থাকার পর ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ পরিচালনা করলেন দিদিয়ের দেশম। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এমন এক অধ্যায়, যা ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যদিও বিদায়ী ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করতে পারেননি দেশম। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। তারপরও ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ জাতীয় দলের দায়িত্বে কাটানো সময়কে নিজের ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। দেশমের অধীনে ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়। তার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয় দলটি। এছাড়া ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জেতে ফ্রান্স। একই সঙ্গে তার সময়ে প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল দলটি। দেশম আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তার শেষ আসর। বিদায়ী সংবাদ সম্মেল
ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। জাতীয় দলের দায়িত্বে টানা ১৪ বছর থাকার পর ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ পরিচালনা করলেন দিদিয়ের দেশম। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এমন এক অধ্যায়, যা ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যদিও বিদায়ী ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করতে পারেননি দেশম। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। তারপরও ৫৭ বছর বয়সী এই কোচ জাতীয় দলের দায়িত্বে কাটানো সময়কে নিজের ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দেশমের অধীনে ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়। তার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয় দলটি। এছাড়া ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জেতে ফ্রান্স। একই সঙ্গে তার সময়ে প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল দলটি।
দেশম আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তার শেষ আসর। বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের বরাত দিয়ে দেশম বলেন, ‘আমরা আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। আমি বলতে পারি, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা। ২০১২ সালে আমি এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। এত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছি এবং পুরো কোচিং স্টাফকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলেছি, ফ্রান্সের প্রধান কোচ হওয়া ছিল আমার জন্য এক বিশেষ সম্মানের বিষয়। আমি নিজেকে খেলোয়াড়দের অভিভাবক ও রক্ষক মনে করতাম। ভবিষ্যতে যা-ই হোক না কেন, আমি নীরব একজন সমর্থক হয়ে থাকব।’
বিদায়ী কোচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও আত্মসমালোচনা করেন। স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হারের ধাক্কা দল কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেও স্বীকার করেন তিনি, ‘কিলিয়ান যেমন বলেছে, আমরা স্পেনের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এই ম্যাচে আমার আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। আমি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। গর্ব আর দৃঢ়তা নিয়ে আমরা কঠিন সেই পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করছিলাম।’
তিনি যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যেভাবে লড়াই করেছে। তারা যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারতো, তাহলে সেটি অসাধারণ হতো।’
এ সময় ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের ভূয়সী প্রশংসাও করেন দেশম। তার মতে, এমবাপে একজন অসাধারণ ফুটবলার এবং অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
‘সে অবিশ্বাস্য, অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। কখনো কখনো মনে হয়, সে যেন সত্যিই এতটা ভালো হওয়ার জন্যই জন্মেছে। তাকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে দেশম জানান, আপাতত তিনি পরিবারকে সময় দেবেন এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে উঠবেন। ‘আমি ছুটিতে যাব এবং আমার প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাব। এই সময়ে আমরা অনেক শক্তি ব্যয় করেছি। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যা ঘটেছে, তা আমি কারও জীবনে দেখতে চাই না।’ বলেন তিনি।
বিশ্বকাপ চলাকালীন তার মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি দেশম।
দেশমের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হলো ফরাসি ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়। তিনি ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ী হওয়ার বিরল কীর্তির অধিকারী হিসেবেই নয়, বরং ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় যুগের নির্মাতা হিসেবেও চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আরএএইচইউএল/এমএমআর
What's Your Reaction?