ফ্রান্সে রেকর্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি

রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহে (Heatwave) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স (France)। দেশটিতে চরম গরমে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (২৪ জুন) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ফরাসি আবহাওয়া দপ্তর ‘মেতেও ফ্রান্স’ জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিন রেকর্ড করা হয়, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি, সোমবার (২২ জুন) দিনগত রাতটি ছিল দেশটির ইতিহাসের উষ্ণতম রাত। ব্ল্যাকআউটের কবলে ফ্রান্স, বন্ধ হচ্ছে আইফেল টাওয়ার-ল্যুভর তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের গ্রিডে অতিরিক্ত চাপের ফলে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলের প্রায় ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতের আগে সেখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার

ফ্রান্সে রেকর্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি

রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহে (Heatwave) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স (France)। দেশটিতে চরম গরমে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (২৪ জুন) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

ফরাসি আবহাওয়া দপ্তর ‘মেতেও ফ্রান্স’ জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিন রেকর্ড করা হয়, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি, সোমবার (২২ জুন) দিনগত রাতটি ছিল দেশটির ইতিহাসের উষ্ণতম রাত।

ব্ল্যাকআউটের কবলে ফ্রান্স, বন্ধ হচ্ছে আইফেল টাওয়ার-ল্যুভর

তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের গ্রিডে অতিরিক্ত চাপের ফলে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলের প্রায় ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) রাতের আগে সেখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দাবদাহের প্রভাব পড়েছে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ঐতিহাসিক ভবনটি মানিয়ে নিতে না পারায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘর ‘ল্যুভর’ চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া আইফেল টাওয়ারও মঙ্গলবার ও বুধবার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী জঁ-পিয়ের ফারান্দু এক রেডিও সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেন, আমরা এখন বুঝতে পারছি যে আমরা একটি চরম গরমের দেশে পরিণত হচ্ছি। আমাদের পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই এখন এই নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে।

নদী ও সাগরে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু, বনাঞ্চলে আগুন

চরম গরম থেকে বাঁচতে নদী, লেক কিংবা সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গিরোন্দে এলাকায় মা-বাবার সাথে অনিরাপদ সৈকতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ৬ বছরের এক শিশু ও প্যারিসের উপকণ্ঠে মার্ন নদীতে নিষিদ্ধ এলাকায় সাঁতার কাটতে যাওয়া ১৭ বছরের এক কিশোরী রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহের কারণে বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মেইন-এট-লোয়ার অঞ্চলের ব্রেইগন বনে লাগা একটি বড় আগুন নেভাতে গতকাল ১৫০ জনেরও বেশি দমকল কর্মীকে মোতায়েন করতে হয়েছিল।

পুরো ইউরোপে ছড়াচ্ছে দাবদাহ: জার্মানি-স্পেনেও সতর্কতা

ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেনেও জুনের গরমের গত ৭৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ইতালিও তীব্র গরমে পুড়ছে, দেশটির ১৬টি প্রাদেশিক রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই দাবদাহ এখন দ্রুত গতিতে পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের দিকে ছড়াচ্ছে।

নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দেশ দুটিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।

যুক্তরাজ্যেও জারি করা হয়েছে বিরল ‘রেড অ্যালার্ট’। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সেখানে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
জার্মানি, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং হাঙ্গেরিতেও আগামী কয়েকদিনের জন্য তীব্র গরমের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। জার্মানিতেও নদী ও লেকে ডুবে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কোপারনিকাস ক্লাইমেট সার্ভিসের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপ মহাদেশ সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow