বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৩৬), সেলিম ইসলাম (৪৮), মেহেদী হাসান, রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল (৪৪) ও মো. সাগর (২৭)। এর মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে আটকাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজীদ হোসেন। অপরাধের সময় তারা শিশু হলেও বর্তমানে তাদের বয়স ২

বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিপণের দাবিতে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় অপর পাঁচ আসামিকে শিশু আইন অনুযায়ী ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এবং শিশু আদালত-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৩৬), সেলিম ইসলাম (৪৮), মেহেদী হাসান, রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল (৪৪) ও মো. সাগর (২৭)। এর মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণ ও আলামত গোপনের দায়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে আটকাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু মিয়া, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজীদ হোসেন। অপরাধের সময় তারা শিশু হলেও বর্তমানে তাদের বয়স ২৬ বছরের ওপরে। এ কারণে আদালত তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে রিফাত হোসেনকে অপহরণ করেন আসামিরা। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অপহরণের তিন দিন পর ১৮ জুলাই পোয়ালগাছা ব্রিজের নিচ থেকে রিফাতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বিচার চলাকালীন মাসুদ রানা নামের এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

দীর্ঘ আট বছর পর কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়ে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রিফাতের স্বজনরা। সন্তোষ প্রকাশ করে রিফাতের বাবা এনামুল হক বলেন, ‌‘আলহামদুলিল্লাহ, এই রায়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়। এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, আর যেন কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।’

বগুড়ায় অপহরণের পর শিশু হত্যায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আলী আসগর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই রায় সমাজ ও দেশের জন্য একটি মাইলফলক। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।’

এলবি/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow