বছরের ৮-৯ মাসই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর দাপট, বদলেছে মশার চরিত্র
ডেঙ্গু এখন আর কেবল বর্ষাকালের আতঙ্ক নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মশাবাহিত এ রোগ এখন দাপট দেখাচ্ছে বছরজুড়ে। আগে জুলাই-আগস্টে প্রকোপ বাড়লেও এখন তা বিস্তৃত হচ্ছে জানুয়ারি পর্যন্ত। পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ মোড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরাও একে দেখছেন ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে। ডেঙ্গুতে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হলেও শিশু-কিশোর ও তরুণদের সংখ্যা বেশি। এমনকি নারীদের চেয়ে পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছে দ্বিগুণ। শহুরে এই সংকট এখন গ্রামেও। হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্য সরকারি হিসাবে এলেও বাইরে থেকে যাচ্ছে না আসা রোগীদের হিসাব। ২০২৬ সালের চিত্র হাসপাতালে আসা রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ এবং জুন মাসে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং জুলাইয়ের দুদিনে ৩১০ জন। ছয় মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। গত তিন বছরের চিত্র একই চিত্র ছিল আগের তিন বছরেও। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল জানুয়ারিতে ২৫৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮১, মার্চে ৭৬, এপ্রিলে ৯৫, মে মাসে ৮৫৫, জুনে
ডেঙ্গু এখন আর কেবল বর্ষাকালের আতঙ্ক নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মশাবাহিত এ রোগ এখন দাপট দেখাচ্ছে বছরজুড়ে। আগে জুলাই-আগস্টে প্রকোপ বাড়লেও এখন তা বিস্তৃত হচ্ছে জানুয়ারি পর্যন্ত। পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ মোড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরাও একে দেখছেন ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে।
ডেঙ্গুতে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হলেও শিশু-কিশোর ও তরুণদের সংখ্যা বেশি। এমনকি নারীদের চেয়ে পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছে দ্বিগুণ। শহুরে এই সংকট এখন গ্রামেও। হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্য সরকারি হিসাবে এলেও বাইরে থেকে যাচ্ছে না আসা রোগীদের হিসাব।
২০২৬ সালের চিত্র
হাসপাতালে আসা রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ এবং জুন মাসে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং জুলাইয়ের দুদিনে ৩১০ জন। ছয় মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।
গত তিন বছরের চিত্র
একই চিত্র ছিল আগের তিন বছরেও। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল জানুয়ারিতে ২৫৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮১, মার্চে ৭৬, এপ্রিলে ৯৫, মে মাসে ৮৫৫, জুনে ৪৬৬৫, জুলাইয়ে ৪১৮৯১, আগস্টে ৭২৩১৮, সেপ্টেম্বরে ৬৮১২৮, অক্টোবরে ৪০৯৯০ ও নভেম্বর ৯৩৭১ জন।
২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়- জানুয়ারিতে ১০৫২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৯, মার্চে ৩১১, এপ্রিলে ৫০৪, মে মাসে ৬৪৪, জুনে ৭৯৮, জুলাইয়ে ২৬৬৯, আগস্টে ৬৫২১, সেপ্টেম্বরে ১৮০৯৭, অক্টোবরে ৩০৮৭৯ ও নভেম্বর মাসে ৯৭৪৫ জন।
২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল- জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১১৬১, মার্চে ৩৭৪, এপ্রিলে ৩৩৬, মে মাসে ৭০১, জুনে ১৭৭৩, জুলাইয়ে ৫৯৪৯, আগস্টে ১০৬৮৪, সেপ্টেম্বরে ১৫৮৬২, অক্টোবরে ২২৫২০ ও নভেম্বরে ৮৪৬৪ জন।
গত ২৭ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০০০–২০২৬ (১ জুলাই) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এই সময়ে মোট মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জনের।
২০২৬ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের জেন্ডার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে নারী ৩৮ শতাংশ আর পুরুষ ৬২ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ, অথচ পুরুষ ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ।
একই বছরে (২০২৬) আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ কোলের শিশু থেকে চল্লিশ বছরের নিচে। এর চেয়ে বেশি বয়সের লোকও আক্রান্ত হচ্ছে, তবে সংখ্যা কম। আক্রান্তদের মধ্যে শহরের চেয়ে তিনগুণ বেশি গ্রামের। যেমন- গত ছয় মাসে আক্রান্ত ৬ হাজার ৪১৪ জনের মধ্যে গ্রামের ৪ হাজার ৯৪০ এবং ১ হাজার ৪৭৪ জন শহরের।
বছরব্যাপী আক্রান্তের কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন, বৃষ্টির অসামঞ্জস্য ও অপেক্ষাকৃত উষ্ণ তাপমাত্রা এই দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের প্রধান কারণ।
বিগত ১০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঢাকার গড় তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি মশার প্রজনন চক্রে এক ভয়াবহ রূপান্তর এনেছে। আবহাওয়ার এই উষ্ণায়ন এডিস মশার ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরের সময়কালকে প্রায় অর্ধেক (১৪ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৭-৯ দিন) করে দিয়েছে, ফলে তাদের বংশবৃদ্ধির গতি বহুগুণ বেড়েছে।-ড. কামরুজ্জামান
পরিবেশ বিজ্ঞানী ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঢাকার গড় তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি মশার প্রজনন চক্রে এক ভয়াবহ রূপান্তর এনেছে। আবহাওয়ার এই উষ্ণায়ন এডিস মশার ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরের সময়কালকে প্রায় অর্ধেক (১৪ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৭-৯ দিন) করে দিয়েছে, ফলে তাদের বংশবৃদ্ধির গতি বহুগুণ বেড়েছে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় কী?
একই সঙ্গে বাতাসে দীর্ঘ সময় ধরে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতা বজায় থাকায় মশার গড় আয়ু বেড়েছে, যা তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে বলে জানান এই গবেষক।
‘এর ফলে আগে যা ছিল কেবল জুন-সেপ্টেম্বরভিত্তিক চার মাসের একটি নির্দিষ্ট মৌসুমি সমস্যা, তা এখন শীতের তীব্রতা হ্রাস এবং অকাল ও দীর্ঘায়িত বৃষ্টির কারণে বছরের প্রায় ৮-৯ মাসব্যাপী একটি স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে, যা ঢাকার প্রথাগত মশক নিধন ধারণা পুরোপুরি বদলে ফেলার দাবি রাখে,’ বলছিলেন ড. কামরুজ্জামান।
উত্তরণে করণীয়
ডেঙ্গু এখন কেবল চিকিৎসা খাতের বিষয় নয়, এটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’। সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’র (IVM) ওপর জোর দিচ্ছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক লার্ভা শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে স্থানীয় ফ্ল্যাট মালিক সমিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা না গেলে আগামী মাসের ডেঙ্গু ঢেউ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কেবল প্রেস ব্রিফিং বা সতর্কবার্তায় ডেঙ্গু থামবে না। প্রশাসনের প্রয়োজন কঠোর জবাবদিহিতা আর নাগরিকদের প্রয়োজন সচেতনতার প্রতিফলন। নতুবা, প্রতি বছর আমরা একই লাশের মিছিলের সাক্ষী হয়ে থাকবো।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘায়িত মশার প্রজনন মৌসুম মোকাবিলায় ঢাকাকে প্রচলিত মশক নিধন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক ও টেকসই কৌশল গ্রহণ করতে হবে।’
এজন্য আবহাওয়া পূর্বাভাসের ডেটা বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় লার্ভার প্রকোপ বাড়তে পারে তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা এবং জলজ মশার লার্ভা দমনে বিটিআইর (Bti) মতো পরিবেশবান্ধব জৈব কীটনাশক ও ওলবাকিয়া (Wolbachia) ব্যাকটেরিয়াযুক্ত বন্ধ্যা মশা অবমুক্ত করার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ও রোগটি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনই একমাত্র সমাধান। যেহেতু ডেঙ্গুর জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গণহারে দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, সেহেতু প্রতিরোধই একমাত্র পথ।-ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
এই অধ্যাপক বলেন, ‘একই সঙ্গে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রোনের মাধ্যমে বহুতল ভবনের ছাদবাগান নজরদারি এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে কীটতত্ত্ববিদদের নেতৃত্বে স্থায়ী তদারকি টিম গঠন করে মশা জন্মানোর উৎসগুলো শুরুতেই ধ্বংস করতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে শুধু মৌসুমি ফগিং বা ধোঁয়া দিয়ে মশার এই দীর্ঘায়িত জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।’
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ও রোগটি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনই একমাত্র সমাধান। যেহেতু ডেঙ্গুর জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গণহারে দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর টিকা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, সেহেতু প্রতিরোধই একমাত্র পথ।’
‘তবে এই সংকট দূর করা একা সরকার বা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রশাসন ও দেশের সাধারণ জনগণকে যৌথভাবে মাঠে নামতে হবে। উভয়ের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
এ উদ্দেশ্যে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে ঘরের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

জ্বরসহ যেসব সমস্যা ডেঙ্গুর ইঙ্গিত দেয়
তিনি বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র বা ফুলের টবে জমে থাকা বৃষ্টির পরিষ্কার পানি যেমন নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, তেমনি ঘরের বাথরুম, বারান্দা, এসি বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতার অংশ হিসেবে দিনের বেলা ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের সুরক্ষায় ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতা জামা-কাপড় পরানোসহ মশা তাড়ানোর লোশন বা স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
আগে ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের রোগ মনে করা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সারা বছরই এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘায়িত বর্ষা, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।-ডা. তারেকুল ইসলাম লিমন
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ববিদ ডা. তারেকুল ইসলাম লিমন বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন আর কোনো একক সংস্থার একক দায়িত্বের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার বদলে জটিল হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি আমাদের সনাতন মশা নিধন পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ঘাটতিই প্রধানত দায়ী।’
ডা. তারেকুল ইসলাম লিমন জানান, আগে ডেঙ্গুকে শুধু বর্ষাকালের রোগ মনে করা হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন সারা বছরই এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘায়িত বর্ষা, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে।
তার মতে, সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এডিস মশা এখন তার আচরণ বদলেছে। আগে এটি শুধু পরিষ্কার পানিতে জন্মাতো, কিন্তু এখন ময়লা ও অপরিষ্কার পানিতেও এর বংশবিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ ডেঙ্গু ভাইরাসের স্ট্রেন বা জেনোমিক গঠনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে আমাদের দেশে বড় ধরনের গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত ‘টাইম সিরিজ অ্যানালিসিস’ এবং প্রজাতির মূল্যায়ন না হওয়ায় সেই অনুযায়ী কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইন্টারভেনশন তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডা. তারেকুল বলেন, ‘এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ও সনাতন ভেক্টর কন্ট্রোল বা মশা নিধন পদ্ধতি। মশা নিধনে যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার সঠিক নিয়ম বা প্রসিডিউর মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।’
মশার সুনির্দিষ্ট জোন বা হটস্পটগুলো চিহ্নিত না করে বর্তমানে গণহারে যে কোনো এক জায়গায় স্প্রে করার যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা কোনো কাজে আসছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলে মূল মশার জোনগুলো ওষুধের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে তৈরি হওয়া ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং একটু বৃষ্টিতেই শহরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।’
সবশেষে তিনি নাগরিকদের আচরণগত সমস্যা ও উদাসীনতাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের ওপর দায় চাপালে চলবে না। সাধারণ মানুষের নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার না রাখার মানসিকতা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে কৃত্রিম প্রজননক্ষেত্র তৈরির অভ্যাস মশার বংশবৃদ্ধি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
তাই প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার আমূল পরিবর্তন ছাড়া এই বহুমাত্রিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
এসইউজে/এএসএ/ এমএফএ
What's Your Reaction?


