বছরে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন কবির হোসেন

শখের বশেই ২ একর ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। সেই শখ এখন আয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন মাদারীপুরের কবির হোসেন খান। তাকে দেখে অনেক যুবক আম বাগান করার উৎসাহ পাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদিন খানের ছেলে কবির হোসেন খান (৬০)। স্ত্রী নার্গিস নাহিদ, একমাত্র ছেলে লন্ডন প্রবাসী ইমরান খান তৃষাণ। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি আগ্রহ ছিল কবির হোসেনের। যখন সুযোগ পেয়েছেন গাছ লাগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন তার মা মৃত মাজেদা বেগমের কাছ থেকে। মা বাড়ির উঠোনসহ ফাঁকা জায়গা পেলেই গাছ লাগাতেন। তা দেখেই গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। একপর্যায়ে তিনি বড় একটি নার্সারি করার স্বপ্ন দেখেন। নিজের একসাথে বড় জায়গা না থাকায় একই উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে জমি পান। সেই জমি লিজ নিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেন। ২০১৬ সালে ২ একর ২০ শতাংশ জমির ওপর আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের ফুল, ফল ও সবজি লাগান। আস্তে আস্তে নার্সারিটি সমৃদ্ধ হতে থাকে। আরও পড়ুন লিচু উৎসবের আমেজ ঈশ্বরদীর ঘরে ঘরে বর্তমানে তার না

বছরে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন কবির হোসেন

শখের বশেই ২ একর ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। সেই শখ এখন আয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন মাদারীপুরের কবির হোসেন খান। তাকে দেখে অনেক যুবক আম বাগান করার উৎসাহ পাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদিন খানের ছেলে কবির হোসেন খান (৬০)। স্ত্রী নার্গিস নাহিদ, একমাত্র ছেলে লন্ডন প্রবাসী ইমরান খান তৃষাণ। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি আগ্রহ ছিল কবির হোসেনের। যখন সুযোগ পেয়েছেন গাছ লাগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন তার মা মৃত মাজেদা বেগমের কাছ থেকে। মা বাড়ির উঠোনসহ ফাঁকা জায়গা পেলেই গাছ লাগাতেন। তা দেখেই গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

একপর্যায়ে তিনি বড় একটি নার্সারি করার স্বপ্ন দেখেন। নিজের একসাথে বড় জায়গা না থাকায় একই উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে জমি পান। সেই জমি লিজ নিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেন। ২০১৬ সালে ২ একর ২০ শতাংশ জমির ওপর আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের ফুল, ফল ও সবজি লাগান। আস্তে আস্তে নার্সারিটি সমৃদ্ধ হতে থাকে।

mango

বর্তমানে তার নার্সারিতে ১০ প্রকারের আম গাছ, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা প্রকারের ফলের গাছ আছে। এ ছাড়া ২০ প্রকারের ফুল গাছ ও ১০ প্রকারের সবজি লাগিয়েছেন। পরে ক্যাকটাসের প্রতি আকৃষ্ট হলে আলাদাভাবে শেড দিয়ে তৈরি করেন ক্যাকটাস কর্নার। সেখানে ২৫ প্রকারের ক্যাকটাস আছে। তবে আপাতত ক্যাকটাস বিক্রি করছেন না। এগুলো থেকে বীজ তৈরি করে ক্যাকটাসের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। পরে এগুলো বিক্রি করা হবে।

এসবের পাশাপাশি বিষমুক্ত ঢ্যাঁড়শ, কচু, লতি, ডাটাসহ বেশ কয়েক জাতের সবজি লাগিয়েছেন। নার্সারিতে ৫ জন কর্মচারী কাজ করেন। ৫ জনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পেরে খুশি কবির হোসেন। তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। এ ছাড়া বছরে আরও ৩ লাখ টাকার ফুল ও সবজি বিক্রি করেন। তার ফরমালিনমুক্ত আম কিনতে আশপাশের জেলা থেকেও আসেন। অনেকেই নার্সারিতে গিয়ে নিজহাতে পছন্দমতো আম পেরে নিয়ে যান। এরই মধ্যে কবির হোসেনের এ আম বাগানের সুনাম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

আম কিনতে আসা মামুন হোসেন বলেন, ‌‘আমি এখানে আম কিনতে এসেছি। কারণ বাজারে যে আম পাওয়া যায়, তার মধ্যে ফরমালিন থাকে। তাছাড়া কবির হোসেন আমের দাম কম নেন। প্রকারভেদে প্রতি কেজি আম ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাই আমি প্রতি বছর আমের মৌসুমে এখান থেকে পরিবারের জন্য আম কিনে থাকি। আমগুলোর স্বাদও অনেক ভালো।’

mango

ফুল গাছ নিতে আসা রকিব হাসান বলেন, ‘আমিও প্রতি বছর এখান থেকে আম কিনি। তবে আজ এসেছি কিছু ফুল গাছ কিনতে। বাসার ছাদে বাগান করেছি। তাই প্রায় সময় এখান থেকে গাছ কিনি। তার বিশাল আম বাগান দেখে আমিও ভাবছি আমার গ্রামের বাড়ি ছিলারচরের খালি জায়গায় আম বাগান করবো। গাছ মানুষ ও পরিবেশের বন্ধু। তাই আমিও তাকে দেখে আম বাগান করার স্বপ্ন দেখছি।’

কবির হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শখের বশেই নার্সারি গড়ে তুলেছি। নিজ বাড়ি থেকে একটু দূরে হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবুও বাগানকে ঘিরেই আমার দিন চলে যায়। আস্তে আস্তে গাছের সংখ্যা বাড়ছে। জায়গাটি ১৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে শুরু করি। এতটা সফল হবো তা ভাবিনি। আমাকে দেখে অনেকে আম বাগান করার কথা ভাবছেন। অনেকেই বাগান সম্পর্কে জানতে চান।’

তিনি বলেন, ‘শখের পাশাপাশি বাগানটা এখন পূর্ণতা পেয়েছে। ফুল আর ফলে ভরা থাকে আমার বাগান। আর তা বিক্রি করে আমি আয়ও করছি। পাঁচজনকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছি। তাছাড়া একটি বাগান মানেই হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই সব মিলিয়ে এ বাগান নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে।’

mango

মাদারীপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘কবির হোসেন প্রতি বছর আম বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেন। যা আমাদের জন্য একটি উদাহরণ। কবির হোসেন শহরের বেশ কাছেই সুন্দর বাগানটি করেছেন। যা জেলায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। আমরাও সরকারিভাবে তাকে নানা পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকি। তাকে দেখে অনেকেই আম বাগান করার প্রতি আগ্রহ পাচ্ছেন।’

এওয়াইএসএ/এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow