বন্দরে কনটেইনার জট, রমজানে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় বাজারে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। আমদানি বেড়ে ছোলাসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জট, ধীরগতির খালাস ও পরিবহন সংকট বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বলছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আমদানিকৃত ছোলার প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। গত বছর যেখানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৯২ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে পাইকারি বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮২ টাকায় স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কোনো অস্বাভাবিকতা না ঘটলে রমজানজুড়ে ছোলার দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। শুধু ছোলা নয়, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে। চিনির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টন

বন্দরে কনটেইনার জট, রমজানে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় বাজারে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। আমদানি বেড়ে ছোলাসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জট, ধীরগতির খালাস ও পরিবহন সংকট বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বলছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আমদানিকৃত ছোলার প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। গত বছর যেখানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৯২ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে পাইকারি বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮২ টাকায় স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কোনো অস্বাভাবিকতা না ঘটলে রমজানজুড়ে ছোলার দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শুধু ছোলা নয়, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে। চিনির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টনে। মসুর ডাল আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ এবং মটর ডাল ৮১ শতাংশ। খেজুরের আমদানি কিছুটা কমলেও হিমাগারে আগের বছরের মজুত থাকায় বড় সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১১০টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক জাহাজে রয়েছে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। সময়মতো খালাস না হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে।

নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪৮ ঘণ্টা কার্যত স্থবির ছিল বন্দরের কার্যক্রম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দিনে প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার খালাস হয়, কর্মবিরতির সময় তা নেমে আসে গড়ে ১ হাজার ৪৭৬টিতে। বর্তমানে জেটিতে কন্টেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭২৫টি-যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

পরিবহন শ্রমিক সংকট ও পূর্ববর্তী কর্মবিরতির প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় পণ্য সরবরাহে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। বিপুল আমদানি সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে কয়েক দিনে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। আদা ও মসুর ডালের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু আমদানিকারক পণ্য বন্দরে বা জাহাজে আটকে রাখায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা ও আমদানির মধ্যে ভালো সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে দ্রুত জট না কাটলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের পণ্য খালাসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জট কমিয়ে পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, পণ্যের ঘাটতির বাস্তব কারণ নেই। তবে বন্দর থেকে দ্রুত খালাস ও কার্যকর বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাই রমজানের বাজারে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-বন্দর সচল রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow