বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে: ত্রাণমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পর এখন পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে একদিনে প্রায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। এর ফলে আকস্মিক বন্যায় জনজীবন, কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগকালে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উঁচু স্থানে বীজতলা তৈর

বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পর এখন পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে একদিনে প্রায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। এর ফলে আকস্মিক বন্যায় জনজীবন, কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগকালে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উঁচু স্থানে বীজতলা তৈরি, প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আসন্ন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকার তিন ধাপে কাজ করে- দুর্যোগের আগে আগাম সতর্কতা, দুর্যোগ চলাকালে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুলু বলেন, বন্যায় মারা যাওয়া প্রতিটি গরুর জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ছাগল বা ভেড়া মারা গেলে প্রতিটির জন্য দেওয়া হবে ১০ হাজার টাকা। এ জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় ৩৯টি গরু, ৯৫টি ছাগল, ৪২টি ভেড়া, ১ লাখ ৪২ হাজার ১৩৭টি মুরগি এবং ১ হাজার ৩০০ হাঁস মারা গেছে। সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow