বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য চুক্তি আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্নের আশা
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া সোমবার (২২ জুন) সকালে বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আল
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া সোমবার (২২ জুন) সকালে বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতি
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এছাড়া বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের অগ্রগতির বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টরে সহযোগিতা
দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রযুক্তি পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতকে যুক্ত করতে একটি প্রতিভা উন্নয়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
শ্রমবাজারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, নতুন বিদেশি শ্রমিক কোটা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তারা বর্তমান নীতি অনুযায়ী খাতভিত্তিক মূল্যায়ন অব্যাহত রাখবে। অনুমোদিত কোটার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক আয়োজন এবং বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে নতুন সমঝোতা স্মারক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও পর্যটনে গুরুত্ব
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দুই দেশ বিশ্ববিদ্যালয়-টু-ইউনিভার্সিটি অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
পর্যটন খাতেও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছে দেশটি।
জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), জ্বালানি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সমন্বয় এবং সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট ও আসিয়ান প্রসঙ্গ
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
এ ছাড়া আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
ফিলিস্তিন ও বৈশ্বিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে দুই নেতা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা, মানবপাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এএমএ
What's Your Reaction?
