বাজারে যাওয়ার পথে তুলে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন, ভারতে ফিরতে চান নারী

  পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের এক গৃহবধূকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ৪০ বছর বয়সী ওই নারী জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক এবং তার কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তার স্বামী জুম্মান ফকিরের বয়স ৪৬ বছর। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের দাবি, কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে জুম্মান ফকির, তার স্ত্রী ও সন্তান ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। আরও পড়ুন সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা, ঠেকাল বিজিবি বাজারে যাওয়ার পথে আটক পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় যান। তারা সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয় ও অন্যান্য নথি পুলিশের কাছে তুলে দেন। পরিবারের দাবি, এসব নথি যাচাই করে দেখার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু

বাজারে যাওয়ার পথে তুলে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন, ভারতে ফিরতে চান নারী

 

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের এক গৃহবধূকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ৪০ বছর বয়সী ওই নারী জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক এবং তার কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তার স্বামী জুম্মান ফকিরের বয়স ৪৬ বছর। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে।

পরিবারের দাবি, কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে জুম্মান ফকির, তার স্ত্রী ও সন্তান ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন।

বাজারে যাওয়ার পথে আটক

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় যান। তারা সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয় ও অন্যান্য নথি পুলিশের কাছে তুলে দেন।

পরিবারের দাবি, এসব নথি যাচাই করে দেখার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

কিন্তু তিনদিন পর জুম্মানকে জানানো হয়, সাইদাকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পৌঁছে আশ্রয়

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান সাইদা।

তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটেন। পরে একটি প্রধান সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পান।

স্থানীয় একটি পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। তারা সাইদাকে পোশাক ও খাবার দেন বলেও জানান তিনি।

সাইদা বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন এবং ভারতে ফিরে যেতে চান। বিশেষ করে ১২ বছরের ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি।

‘আমরা জন্মগতভাবে ভারতীয়’

জুম্মান ফকির জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তারা মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।

তার অভিযোগ, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়।

জুম্মানের দাবি, তাদের একমাত্র চাওয়া পরিবারের সদস্যকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ পরিবার

সাইদাকে ভারতে ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

এদিকে সাইদার পরিবার ও তার ১২ বছরের সন্তান অপেক্ষায় রয়েছে—কবে তিনি আবার ভারতে ফিরবেন।

ডিডি/কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow