বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছে

বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের জন্য একগুচ্ছ সুখবর থাকছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইটিসহ সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকতে পারে। একইসঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও জন্য থাকছে সুখবর। তরুণদের উদ্ভাবনী কাজকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট থেকে উপার্জিত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব থাকছে। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের বাজেটে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও থাকতে পারে। একইসঙ্গে প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরিসহ কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমছে। দেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যেও থাকছে সুখবর। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে কমানো হতে পারে অগ্রিম আয়কর। এছাড়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কাল বৃহস্পতিবার (১

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছে

বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের জন্য একগুচ্ছ সুখবর থাকছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইটিসহ সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতির প্রস্তাব থাকতে পারে। একইসঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও জন্য থাকছে সুখবর।

তরুণদের উদ্ভাবনী কাজকে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট থেকে উপার্জিত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব থাকছে। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের বাজেটে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও থাকতে পারে। একইসঙ্গে প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরিসহ কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমছে।

দেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যেও থাকছে সুখবর। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে কমানো হতে পারে অগ্রিম আয়কর। এছাড়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও বাড়ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে কর অব্যাহতি

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিল্যান্সিং খাতের আয়কে বৈধ পথে আনতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিচ্ছে। সেজন্য এবারের বাজেটে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে।

সূত্র বলছে, বর্তমানে শুধু আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি রয়েছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা অন্যান্য সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে পাওয়া আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব থাকতে পারে এবারের বাজেটে। এছাড়া তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব থাকতে পারে।

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছেবেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ছবি: সংগৃহীত

এ ব্যাপারে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজেটে ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলে ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য শতাংশ টার্নওভার কর উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান ক্রিয়েটর ইকোনমিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।’

তবে ফ্রিল্যান্সিং খাতের করমুক্ত সুবিধাকে নতুন ঘোষণা হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডি জবসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি এনাবল্ড সার্ভিস আগেও করমুক্ত ছিল, এখনও করমুক্ত আছে। এনবিআরের সার্কুলারেও ফ্রিল্যান্সিং আইটি সার্ভিসের আওতায় ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকও দেশের ব্যাংকগুলোকে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন এ ধরনের আয়ের ওপর কোনো কর না কাটা হয়। তাই এটি নতুন কোনো সুবিধা নয়।’

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছেবেসিসের সাবেক সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর, ছবি: সংগৃহীত

স্টার্টআপ খাতের কর সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্টার্টআপের টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করার বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। আগে নতুন স্টার্টআপগুলো বিভিন্ন সুবিধার আওতায় থাকলেও পুরোনো লস-মেকিং স্টার্টআপগুলোকে ন্যূনতম কর হিসেবে রাজস্বের ০.৬ শতাংশ পরিশোধ করতে হতো। নতুন প্রস্তাবটি সেই ন্যূনতম করের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’

প্রযুক্তি পণ্যে ছাড়

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব থাকতে পারে।

একইসঙ্গে কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস খাতের দেশীয় বিকাশকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে।

এ ব্যাপারে সৈয়দ আলমাস কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরি ডিভাইস এবং বহনযোগ্য কম্পিউটিং যন্ত্রপাতির ওপর অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব দিলে তা প্রযুক্তি পণ্যের খরচ কমাতে সহায়তা করবে, যা ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজ করবে।’

টেলিযোগাযোগ খাতে বেশ কিছু ছাড়

মোবাইল অপারেটর ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্যও বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে সুখবর থাকছে। বাজেটে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা-খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব থাকতে পারে। মোবাইল সিমে ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট ভ্যাট বাতিল করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে নতুন সিমের দাম কমতে পারে।

স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব থাকতে পারে। এছাড়া বিটিআরসির পাওয়া রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছেশাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ পাওয়ার মতো একটি বিষয়। সারাবিশ্ব মোবাইল ফোন খাত একটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এআইয়ের কারণে মেমোরি প্রাইস অনেক বেড়েছে। এই সময়টিতে আসলে আমরা যারা বাংলাদেশে মোবাইল ফোন শিল্পে বিনিয়োগ করেছি ম্যানুফেকচারিং করার জন্যে, আমাদের জন্যে লং টার্ম সাসটেইনেবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমরা শুনেছি এবার কোনো পলিসি হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদের, যা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে, আমাদের স্বস্তি দেবে। আর সরকারের এই উদ্যোগ দেশের মোবাইল ফোন শিল্পের জন্যে একটি ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি।’

বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব অপারেটরদের ক্যাশ-ফ্লো উন্নত করতে এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ স্থানীয় উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে খাতটির দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী উচ্চ করপোরেট কর হ্রাস, অবকাঠামো বিনিয়োগে বিশেষ প্রণোদনা, ৫জি সম্প্রসারণ, সফটওয়্যার রপ্তানি, ক্লাউড সেবা, ডেটা সেন্টার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য নতুন সুবিধার কথা শোনা যাচ্ছে না। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতি উপকৃত হলেও বড় আইসিটি ও টেলিকম কোম্পানিগুলোর জন্য বাজেটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে।’

মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তি খাতে শুল্ক-কর সুবিধা নিয়ে বেসিসের আরেক সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামালে কর ছাড়ের ফলে দেশীয়ভাবে সংযোজিত কিছু ডিভাইসের দাম কমতে পারে। তবে যেসব স্মার্টফোন সরাসরি আমদানি করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ আমদানি পর্যায়ের কর কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আসার খবর পাইনি।’

ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘সিম ট্যাক্স বা অপারেটরদের কিছু কর-সুবিধা অপারেটরদের লাভ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে ইন্টারনেট বা মোবাইল সেবার খরচ কমার মতো কোনো সুবিধার কথা শুনতে পারছি না।’

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছেআইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, ছবি: সংগৃহীত

যোগাযোগ করা হলে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, বাজেটে মোবাইল অপারেটরদের যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে প্রান্তিক জনগণ কিছুটা উপকৃত হবে, এটা ঠিক। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড বা মানসম্মত (কোয়ালিটি) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণে সরকার কোনো বিশেষ উদ্যোগ বা প্রণোদনা রাখছে না বলে শুনেছি। টেলিকম ও মোবাইল অপারেটরদের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশে বৈধ সিমের সংখ্যা প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ কোটি। অথচ দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। সে হিসাবে বলা যায়, এই খাত ইতোমধ্যে একটি পরিণত অবস্থায় পৌঁছেছে। তাই এ খাতে নতুন করে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার যৌক্তিকতা খুব বেশি নেই। অন্যদিকে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড খাতে এখনো মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ পেনিট্রেশন রয়েছে। অথচ এই খাতের জন্য ভ্যাট, কর বা অন্য কোনো ধরনের প্রণোদনার খবর পাচ্ছি না। ফলে বিষয়টি অনেকটা ‘তেলে মাথায় তেল দেওয়ার’ মতো হয়েছে। যাদের শক্তিশালী লবিং সক্ষমতা রয়েছে, তারাই বেশি সুবিধা পেয়েছে।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, বিটিআরসির রাজস্ব-সংক্রান্ত বিষয়ে উৎসে কর কর্তনের যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটারও খুব বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। মূলত এটি অগ্রিম আয়কর (অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) আদায়ের পদ্ধতিগত পরিবর্তন। আগে বিলের আগেই অগ্রিম উৎসে কর কেটে নিতো, এখন বিল পরিশোধের সময় কেটে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত কর আদায় ঠিকই হবে, শুধু প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে এর তেমন কোনো প্রভাব নেই।

আমিনুল হাকিম আরও বলেন, আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টিতে, দেশে মানসম্মত ও উৎপাদনশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই। ৩২-৩৩ কোটি সিমের বাজারকে আরও কীভাবে সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। কিন্তু কোয়ালিটি ও প্রোডাক্টিভ ইন্টারনেট সম্প্রসারণে কোনো কর ছাড়, কর অবকাশ বা বিশেষ প্রণোদনার খবর পাচ্ছি না।

আমদানি নির্ভর প্রযুক্তিপণ্যে ছাড়

মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভিসহ আমদানি নির্ভর বেশি কিছু প্রযুক্তি পণ্যের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা বাড়ানো হতে পারে।

সূত্র বলছে, সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং এ খাতে রপ্তানি উৎসাহিত করতে এসব পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল ও উপকরণ শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে।

উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলে টিআইএন বাধ্যতামূলক হচ্ছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় ১৫০ সিসির উপরের মোটরসাইকেলে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১৫০ সিসি ও তদূর্ধ্ব সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকতে পারে। তবে মোটরসাইকেল মালিকদের রেজিস্ট্রেশন অথবা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না।

বাজেটে আরও যা থাকছে

দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যেও সুখবর রয়েছে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার এ বছর প্যাকেজিং পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছিলো। ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা বিএনপি সরকারও এ খাতকে হতাশ করছে না। প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ হতে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাবনা থাকতে পারে বাজেটে।

শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়েও কমতে পারে উৎসে কর।

এবারের বাজেটে পরিবহন, ক্যারিং ও গাড়ি ভাড়া সেবা খাতেও উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে। রিসাইকেল্ড ও রিসাইক্লিং কাঁচামালেও কর হার কমতে পারে। এছাড়া প্রবাসী বিমাকারীদের জন্যে বাজেটে সুখবর থাকছে।

দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন শিল্পে বিদ্যমান শুল্ককর অব্যাহতি সুবিধা আরও বিস্তৃত ও সহজ করতে ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পার্টস ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব থাকতে পারে।

সেরা করদাতা পুরস্কারের নীতিমালা

দেশের সেরা করদাতাদের সম্মাননা দিতে একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ২২টিসহ ৬৭ জন করদাতাকে সেরা করদাতার পুরস্কার দেওয়া হবে।

সূত্র বলছে, করদাতাদের সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ২২টিসহ মোট ৬৭ জন করদাতাকে সেরা করদাতার পুরস্কার দেওয়া হবে। বাজেট প্রস্তাবনায় এ বিষয়টি উল্লেখ থাকতে পারে।

বাজেটে আইটি খাতে যেসব সুখবর থাকছেএনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজস্ব আহরণ, করনীতি নির্ধারণ ও জাতীয় বাজেটের রাজস্ব কাঠামো তৈরির মূল দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, জনগণের ওপর নতুন করের চাপ না দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা সহজীকরণ ও ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। বেশিরভাগ নিত্যপণ্যে কর ছাড় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। ব্যবসা সহজ করা ও সাধারণ মানুষকে শক্তি দেওয়ার ওপর এবারের বাজেটে বেশি ফোকাস করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, দেশের মানুষকেই বাজেটের মূল ফোকাসে রাখা হয়েছে। মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় ও বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের যে চাপ, সেটা যাতে কিছুটা হলেও কমাতে পারি সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

ইএইচটি/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow