বাণিজ্যের পথে বিপজ্জনক বাঁক, ঝুঁকির ওপর খাঁড়ার ঘা যানজট
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রবেশদ্বার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সড়কই এখন হয়ে উঠেছে বড় ঝুঁকির কারণ। শমশেরনগর বাজার হয়ে চাতলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত সরু রাস্তা, ৮-১০টি বিপজ্জনক বাঁক এবং তীব্র যানজটের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে বাড়ছে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ। শমশেরনগর বাজার থেকে চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কে অন্তত ৮-১০টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রতিদিন পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে চলতে হচ্ছে চরম সতর্কতার সঙ্গে। জানা যায়, শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কে শুধু বিপজ্জনক বাঁক নয়, এই পথে যানবাহন চলাচলের সময় শমশেরনগর বাজারের সরু রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলার সময় নিয়মিত যানজটে আটকা পড়তে হয়। শমশেরনগর বাজারের চৌমুহনীতে ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতি, রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও বাজারকেন্দ্রিক ভিড় সব মিলিয়ে নিয়মিত যানজট লেগেই থাকে। আরও পড়ুন- কুমিল্লায় চালু হচ্ছে শতকোটি টাকার সেই বিশ্রামাগা
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রবেশদ্বার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সড়কই এখন হয়ে উঠেছে বড় ঝুঁকির কারণ। শমশেরনগর বাজার হয়ে চাতলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত সরু রাস্তা, ৮-১০টি বিপজ্জনক বাঁক এবং তীব্র যানজটের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে বাড়ছে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ।
শমশেরনগর বাজার থেকে চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কে অন্তত ৮-১০টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রতিদিন পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে চলতে হচ্ছে চরম সতর্কতার সঙ্গে।
জানা যায়, শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কে শুধু বিপজ্জনক বাঁক নয়, এই পথে যানবাহন চলাচলের সময় শমশেরনগর বাজারের সরু রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলার সময় নিয়মিত যানজটে আটকা পড়তে হয়। শমশেরনগর বাজারের চৌমুহনীতে ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতি, রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও বাজারকেন্দ্রিক ভিড় সব মিলিয়ে নিয়মিত যানজট লেগেই থাকে।
আরও পড়ুন- কুমিল্লায় চালু হচ্ছে শতকোটি টাকার সেই বিশ্রামাগার
ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গলার কাঁটা অটোরিকশা
ভাওয়ালের বনের বুকচিরে রঙিন ফুলে সাজানো মহাসড়ক
সরেজমিনে দেখা যায়, চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের পণ্যবাহী গাড়িগুলো শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক হয়ে শমশেরনগর বাজারের ভেতর দিয়ে চাতলাপুর সড়কে যাতায়াত করে। এই সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো শমশেরনগর বাজার। এই বাজারে রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা-বেচা করেন। এছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন চলাচল করে। তবে শমশেরনগর-ভানুগাছ সড়ক ও শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কের জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে সড়ক সরু হওয়ায় চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের পণ্যবাহী গাড়ি বাজারের ভেতর প্রবেশ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহন ভোগান্তিতে পড়ে।
‘আমরা যখন বিভিন্ন কাজে এই সড়ক দিয়ে মালামাল নিয়ে যাই তখন অনেক ভয় হয়। এই সড়কে বেশকিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এগুলোর কারণে সড়কের অন্য পাশ দেখা যায় না। সড়কটি বড় করা একান্ত প্রয়োজন।’
বাজারের চৌমুহনীতে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় যানজট লেগেই থাকে। বাজারের ভানুগাছ সড়কের গাজী সালাউদ্দিন ইসলামী একাডেমির পাশে চা বাগান হয়ে এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক চাতলাপুর সড়কে সংযুক্ত হয়েছে। এই সড়ক পাকা করলে বাজার ও যানজট এড়িয়ে পণ্যবাহী গাড়িগুলো স্টেশনে পৌঁছাতে পারবে। এছাড়া চাতলাপুর সড়কের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়ন ও কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অন্তত ৮-১০টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁক পেরিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় দ্বিগুণ। তখন সড়কজুড়ে বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, শমশেরনগর থেকে চাতলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত এই সড়কে বেশকিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। ছোট সড়ক হওয়ায় ও বাঁক থাকায় অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কটি বড় করার জন্য বারবার দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এছাড়া শমশেরনগর বাজারে সবসময় যানজট লেগেই থাকে।
আরও পড়ুন- মহাসড়কে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ
হকারদের দখলে মহাসড়ক, ভোগান্তিতে পথচারী-যাত্রীরা
যানজটে এক-চতুর্থাংশ আয় কমেছে পরিবহন শ্রমিকদের
শমশেরনগর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি, বাজারের পাশ দিয়ে চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাওয়ার বিকল্প এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কটি পাকা করলে যানজটের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান সম্ভব। এই সড়কটি ব্যবহার করলে বাজার এলাকার চাপ এড়িয়ে পণ্যবাহী গাড়িগুলো দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
ফাবি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়ক তুলনামূলক অনেক সরু, বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এই সড়কে প্রতিদিনই বালুবাহী ট্রাকসহ স্থানীয় কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করে। সব মিলিয়ে সড়কের শমশেরনগর বাজার এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার নেয়। এক কিলোমিটার বাইপাস সড়ক যদি পাকা করে দেওয়া হয়, তাহলে এই ভোগান্তির অনেকটাই কমে আসবে।
‘পণ্যবাহী বড় গাড়ি যখন বাঁক এলাকায় ওভারটেক করে, তখন সড়কে একেবারে জায়গা থাকে না। কারণ দুই পাশে মাটির টিলা রয়েছে। বিপজ্জনক বাঁকগুলোর কারণে আমাদের মতো সিএনজি অটোচালকদের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হয় প্রতিদিন। সড়কটি আরও চওড়া ও সোজা করা খুবই দরকার।’
ট্রাকচালক বিজয় বসু বলেন, আমরা যখন বিভিন্ন কাজে এই সড়ক দিয়ে মালামাল নিয়ে যাই তখন অনেক ভয় হয়। এই সড়কে বেশকিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এগুলোর কারণে সড়কের অন্য পাশ দেখা যায় না। সড়কটি বড় করা একান্ত প্রয়োজন।
সিএনজি অটোরিকশার চালক রিমন আহমেদ বলেন, পণ্যবাহী বড় গাড়ি যখন বাঁক এলাকায় ওভারটেক করে, তখন সড়কে একেবারে জায়গা থাকে না। কারণ দুই পাশে মাটির টিলা রয়েছে। বিপজ্জনক বাঁকগুলোর কারণে আমাদের মতো সিএনজি অটোচালকদের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হয় প্রতিদিন। সড়কটি আরও চওড়া ও সোজা করা খুবই দরকার।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মং সাচিং মারমা জাগো নিউজকে বলেন, এই সড়কটি চওড়া করা অত্যন্ত জরুরি। চাতলাপুর স্থলবন্দর শুধু একটি শুল্ক স্টেশন নয়, এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এর পূর্ণ সম্ভাবনা কখনোই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ জাগো নিউজকে বলেন, চাতলাপুর চেকপোস্টের সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া। তবে এই সড়ক আরও চওড়া হওয়ায় প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি ঢাকায়। এটি অনুমোদন হলে আশা করি সড়কটি বড় হবে। এছাড়া সড়ক যখন বড় হবে তখন বাঁকগুলো এমনিতেই আর থাকবে না।
এম ইসলাম/এফএ/জেআইএম
What's Your Reaction?