বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিন: নতুন বাজার ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতেও একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্য বহুমুখীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকনির্ভর হলেও বর্তমানে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্যসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। নতুন বাজার সৃষ্

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিন: নতুন বাজার ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতেও একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্য বহুমুখীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনা

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকনির্ভর হলেও বর্তমানে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্যসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

তথ্য বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে ৩ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে চামড়া ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং ওষুধ ও আইটি খাতে ৬ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা রয়েছে। রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে ২০২৬ সালের জন্য ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং’ শিল্পকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং এবং বাজার সম্প্রসারণের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ (ওভিওপি) উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত ১৪টি পণ্য এবং দেশের ৬২টি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতির নতুন অধ্যায়

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাণিজ্য অংশীদারত্ব তৈরি করা। এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বৃহৎ দুটি উন্নত বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ পাবে বলে দাবি সরকারের।

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাণিজ্য অংশীদারত্ব তৈরি করা। এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। - বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা ও সহযোগিতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসিইপি, আসিয়ান, বিমসটেক, মারকোসুর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য অংশীদারত্ব নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কৌশলগত নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৬-পরবর্তী সময়ে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করা এবং টিআরআইপিএস চুক্তির আওতায় ওষুধ শিল্পের পেটেন্ট সুবিধা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান জাগো নিউজকে বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শুল্ক সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাণিজ্য অংশীদারত্ব তৈরি করা। এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ। এ লক্ষ্যে শুধু শুল্ক সুবিধা নয়, বরং নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করার ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। ইউরোপীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান, কমপ্লায়েন্স, সার্টিফিকেশন ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এফটিএ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আরও প্রতিযোগিতামূলকভাবে ইউরোপের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ছে

রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের পণ্য তুলে ধরতে প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এসব মেলায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাটজাত পণ্য এবং নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করবেন। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন অর্ডার সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করাই এসব অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য।

আমদানিনীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হচ্ছে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’। বাণিজ্য সহজীকরণ, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর এতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এ নীতিমালায়। নতুন এই নীতিমালায় অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও আধুনিক প্রযুক্তি আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিসিবির সংস্কার ও কার্যকর বিতরণ ব্যবস্থা

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থায় রূপান্তর করতে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিশেষ করে জ্বালানি পরিস্থিতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে উদ্যোগ ও উদ্যমের জায়গায় ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ থাকলেও অর্থনীতির মূল সূচকগুলোতে পুঞ্জীভূত সমস্যা এখনো রয়েছে। - মোস্তাফিজুর রহমান

নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রমকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রকৃত নিম্নআয়ের ও দরিদ্র সুবিধাভোগীদের কাছে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছাতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে বণ্টন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সামগ্রিকভাবে বললে সরকার বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয় বলা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু কিছু বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাজেটেও বিনিয়োগবান্ধব বেশকিছু রাজস্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাব রয়েছে। যেমন- বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা, ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগ এবং সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, তবে সমস্যা হচ্ছে, সরকার যে পুঞ্জীভূত চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, সেগুলো এখনো রয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নহার, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থবিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের সমস্যা এসব এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশেষ করে জ্বালানি পরিস্থিতি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফলে উদ্যোগ ও উদ্যমের জায়গায় ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ থাকলেও অর্থনীতির মূল সূচকগুলোতে পুঞ্জীভূত সমস্যা এখনো রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে সরকার যে ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলোর ফলশ্রুতিতে অর্থনীতির চলমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে কি না, সেটি দেখার জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে, বেশ কিছু উদ্যোগও আছে। তবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো খুব বেশি ইতিবাচক খবর নেই। যদিও নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে সবাই চিন্তা-ভাবনা করছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন নিয়ম ও আইন পরিবর্তন হয়। - বিটিএমএর সাবেক পরিচালক মো. খোরশেদ আলম

ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে টিসিবির সার্বিক পরিচালন ও পণ্য ক্রয়ে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইকারি বাজারমূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দর নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে অযৌক্তিক ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ফলে সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।

ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমাতে উদ্যোগ

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) নিবন্ধন ও নবায়নের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের বারবার নবায়ন প্রক্রিয়ার ঝামেলা কমেছে। বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডাব্লিউ) ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইন সার্টিফিকেট অব অরিজিন (সিওও) এবং রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার (আরইএক্স) সুবিধা চালু হয়েছে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের সরাসরি অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কমেছে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়া আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন আদেশ সংশোধন, চা শিল্পের লাইসেন্সিং ডিজিটালাইজেশন এবং কোম্পানি আইন সংস্কারের মাধ্যমে আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত ও ভোক্তা সুরক্ষা বাজারে সিন্ডিকেট, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা-বিরোধী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক পরিচালক মো. খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে, বেশ কিছু উদ্যোগও আছে। তবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো খুব বেশি ইতিবাচক খবর নেই। যদিও নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে সবাই চিন্তা-ভাবনা করছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন নিয়ম ও আইন পরিবর্তন হয়। তাই নতুন আইন ও সুযোগ-সুবিধাগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য কতটা কার্যকর হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম বলেন, সুযোগ সুবিধার পরেও এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। সমস্যাগুলো ঠিক হয়ে গেলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।

পুরোনো ১৯৫৬ সালের আইন পরিবর্তন করে আধুনিক ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজাল প্রতিরোধে চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে ৫ হাজার এবং পরবর্তী দুই মাসে ২ হাজার ৫০০টি বিশেষ বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনএইচ/এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow