বান্দরবানে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে ৭ মাসে নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু

বান্দরবানের লামা উপজেলার হোয়াইটপিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে গত সাত মাসে দুই পর্যটক মাতামুহুরী নদীতে ডুবে মারা গেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল ওয়াদুদ সায়েমের মৃত্যু হয়। সায়েমের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে হোয়াইটপিক স্টেশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। নিহত পর্যটক আবদুল ওয়াদুদ সায়েম (২১) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাকখালী কদল ভূঁইয়ার বাড়ি এলাকার মো.সাইফুল্লাহের ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে আবদুল ওয়াদুদ সায়েম (গোলচিহ্নিত), ছবি: সংগৃহীত স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ বন্ধুসহ সায়েম গত ১৬ এপ্রিল সীতাকুণ্ড থেকে লামার মাতামুহুরী নদীর পাশে মিঞ্জিরি এলাকার হোয়াইটপিক স্টেশন রিসোর্টে বেড়াতে যান। রিসোর্টে চেক ইন করে দুপুরে তারা নদীতে গোসলে নামে। গোসলের একপর্যায়ে সায়েম পানিতে তলিয়ে যান। রিসোর্টের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজে না পেয়ে লামা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে লামা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মরদেহ উদ্ধার করে। লামা

বান্দরবানে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়ে ৭ মাসে নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু

বান্দরবানের লামা উপজেলার হোয়াইটপিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে গত সাত মাসে দুই পর্যটক মাতামুহুরী নদীতে ডুবে মারা গেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল ওয়াদুদ সায়েমের মৃত্যু হয়।

সায়েমের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে হোয়াইটপিক স্টেশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

নিহত পর্যটক আবদুল ওয়াদুদ সায়েম (২১) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাকখালী কদল ভূঁইয়ার বাড়ি এলাকার মো.সাইফুল্লাহের ছেলে।

বান্দরবানের হোয়াইটপিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে ৭ মাসে দুই পর্যটকের মৃত্যুবন্ধুদের সঙ্গে আবদুল ওয়াদুদ সায়েম (গোলচিহ্নিত), ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ বন্ধুসহ সায়েম গত ১৬ এপ্রিল সীতাকুণ্ড থেকে লামার মাতামুহুরী নদীর পাশে মিঞ্জিরি এলাকার হোয়াইটপিক স্টেশন রিসোর্টে বেড়াতে যান। রিসোর্টে চেক ইন করে দুপুরে তারা নদীতে গোসলে নামে। গোসলের একপর্যায়ে সায়েম পানিতে তলিয়ে যান। রিসোর্টের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজে না পেয়ে লামা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে লামা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৬ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মরদেহ উদ্ধার করে।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, নদীতে নিখোঁজ পর্যটক আবদুল ওয়াদুদ সায়েমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

‘বারবার সতর্কতা’ সত্ত্বেও দুর্ঘটনা

শনিবার (১৮ এপ্রিল) হোয়াইটপিক স্টেশন তাদের ফেসবুক পেজে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করে জানায়, হোয়াইটপিক স্টেশন এলাকায় সাদাপাহাড়ের সামনে মাতামুহুরি নদীতে একজন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

হোয়াইটপিক স্টেশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী, নৌকার মাঝি ও জেলেদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও দক্ষ ডুবুরি দলের প্রায় ৬ ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
বান্দরবানে নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
বান্দরবানে মাতামুহুরী নদীতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ
বান্দরবানে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

‘বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে হোয়াইটপিক স্টেশন জানিয়েছে,

• উক্ত এলাকা পূর্ব থেকেই ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত এবং সেখানে লাল পতাকা স্থাপন করা ছিল।
• রিসোর্টের পক্ষ থেকে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্রিফিং প্রদান করা হয়।
• সকল অতিথিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
• দুঃখজনকভাবে, সংশ্লিষ্ট পর্যটক দলটি সাঁতার না জানা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

হোয়াইটপিক স্টেশন অনুরোধ করেছে, ভ্রমণের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়—এজন্য সকল পর্যটকের প্রতি অনুরোধ, অনুগ্রহ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও রিসোর্টের দেওয়া সকল নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সতর্ক সংকেত মেনে চলুন। সচেতনতাই নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।

বান্দরবানের হোয়াইটপিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে ৭ মাসে দুই পর্যটকের মৃত্যুসোহানের এই ছবি এখন কেবল স্মৃতি, ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরে মৃত্যু হয় সোহানের

গত বছরের ২ অক্টোবর হোয়াইটপিক স্টেশন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে মাতামুহুরী নদীতে ডুবে মারা যান পর্যটক মো. সোহান। সোহান ঢাকার মিরপুরের ইউসিবি চত্বর এলাকার আবু হান্নান সরকারের ছেলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি ছিলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ২ অক্টোবর সকালে লামা মাতামুহুরী নদীর তীরঘেঁষা সাদাপাথর এলাকায় হোয়াইটপিক স্টেশন রিসোর্টে রুম ভাড়া নেন মো. সোহান ও তার বন্ধু মো. শাকিল। দুপুরে তারা দুজন রিসোর্টের পাশে থাকা নদীতে একসঙ্গে গোসল করতে নামেন। এসময় পানির স্রোতে পড়ে মো. শাকিল সাঁতার কেটে ওপরে উঠতে সক্ষম হলেও সোহান ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর পরদিন ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় সোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তখন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লামা স্টেশনের সাব অফিসার মো. আবদুল্লাহ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে অভিযান চলছিল। অভিযানের একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের প্রায় ৪০ ফুট পানির নিচ থেকে সোহানের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এমএমএআর

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow