বাবল র‍্যাপ দেখলেই কেন ফাটাতে ইচ্ছা করে

অনলাইনে কেনাকাটা করলে কিংবা কোনো ভঙ্গুর জিনিসের প্যাকেট খুললেই চোখে পড়ে ছোট ছোট বাতাসভরা বাবল র‍্যাপ। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এটি হাতে পেলেই বেশিরভাগ মানুষ একের পর এক বাবল ফাটাতে শুরু করেন। শুধু শিশুরাই নয়, বড়রাও এই লোভ সামলাতে পারেন না। এমনকি সব বাবল ফাটানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকের যেন শান্তিই আসে না। যেভাবে তৈরি হলো বাবল র‍্যাপ বাবল র‍্যাপের জন্ম ১৯৫৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে প্রকৌশলী আলফ্রেড ফিল্ডিং ও মার্ক শাভানেস এটি তৈরি করেছিলেন। প্রথমে এটি ত্রিমাত্রিক ওয়ালপেপার হিসেবে বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। সেই উদ্যোগ সফল না হলেও পরে গ্রিনহাউসের তাপ ধরে রাখার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। এরপর ১৯৬১ সালে ভঙ্গুর পণ্য নিরাপদে বহনের জন্য সুরক্ষামূলক প্যাকেজিং হিসেবে বাজারে আসে বাবল র‍্যাপ। আজ এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্যাকেজিং উপকরণগুলোর একটি। প্রশ্ন হলো, এমনটা কেন হয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্ক ও মনোবিজ্ঞানে। বাবল র‍্যাপ সহজ আনন্দের উৎস যে কারণে আনন্দ লাগে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবল র‍্যাপ ফাটানোর সময় যে ‘পপ’ শব্দটি শোনা যায়, তা মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে। প্রত

বাবল র‍্যাপ দেখলেই কেন ফাটাতে ইচ্ছা করে

অনলাইনে কেনাকাটা করলে কিংবা কোনো ভঙ্গুর জিনিসের প্যাকেট খুললেই চোখে পড়ে ছোট ছোট বাতাসভরা বাবল র‍্যাপ। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এটি হাতে পেলেই বেশিরভাগ মানুষ একের পর এক বাবল ফাটাতে শুরু করেন। শুধু শিশুরাই নয়, বড়রাও এই লোভ সামলাতে পারেন না। এমনকি সব বাবল ফাটানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকের যেন শান্তিই আসে না।

যেভাবে তৈরি হলো বাবল র‍্যাপ

বাবল র‍্যাপের জন্ম ১৯৫৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে প্রকৌশলী আলফ্রেড ফিল্ডিং ও মার্ক শাভানেস এটি তৈরি করেছিলেন। প্রথমে এটি ত্রিমাত্রিক ওয়ালপেপার হিসেবে বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। সেই উদ্যোগ সফল না হলেও পরে গ্রিনহাউসের তাপ ধরে রাখার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। এরপর ১৯৬১ সালে ভঙ্গুর পণ্য নিরাপদে বহনের জন্য সুরক্ষামূলক প্যাকেজিং হিসেবে বাজারে আসে বাবল র‍্যাপ। আজ এটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্যাকেজিং উপকরণগুলোর একটি। প্রশ্ন হলো, এমনটা কেন হয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্ক ও মনোবিজ্ঞানে।

jagoবাবল র‍্যাপ সহজ আনন্দের উৎস

যে কারণে আনন্দ লাগে

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবল র‍্যাপ ফাটানোর সময় যে ‘পপ’ শব্দটি শোনা যায়, তা মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে। প্রতিটি বাবল ফাটার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ একটি ছোট লক্ষ্য পূরণ করার মতো অনুভব করে। ফলে মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য চাপ ও উদ্বেগ থেকে সরে গিয়ে সেই কাজেই মনোযোগ দেয়। এই কারণেই একবার শুরু করলে অনেকেই সব বাবল শেষ না করে থামতে পারেন না।

মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি অনেকের নিত্যসঙ্গী। এমন অবস্থায় স্ট্রেস বল চাপা যেমন কিছুটা স্বস্তি দেয়, বাবল র‍্যাপ ফাটানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনুভূতি কাজ করতে পারে।

বারবার একই ধরনের সহজ একটি কাজ করার ফলে মন কিছু সময়ের জন্য অন্যদিকে সরে যায়। এতে দুশ্চিন্তা থেকে সাময়িক মুক্তি মেলে এবং মানসিক চাপ কিছুটা কম অনুভূত হয়।

মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়

কোনো ব্যক্তি যখন বাবল র‍্যাপ ফাটাতে ব্যস্ত থাকেন, তখন তার মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে সেই কাজের ওপর চলে যায়। ফলে কিছু সময়ের জন্য দৈনন্দিন উদ্বেগ, কাজের চাপ কিংবা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা থেকে মন সরে আসে।

মনোবিজ্ঞানে একে অনেক সময় ‘ডিস্ট্র্যাকশন টেকনিক’ বা মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার একটি সহজ উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাবল র‍্যাপ মানসিক রোগের চিকিৎসা। এটি কেবল সাময়িকভাবে স্বস্তির অনুভূতি দিতে পারে।

jagoবাবল র‍্যাপের ছোট পপ শব্দই অনেকের মনে স্বস্তি এনে দেয়

স্পর্শের অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ

বাবল র‍্যাপের নরম, চাপ দিলে দেবে যাওয়া গঠন হাতের স্পর্শে একটি আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। এই স্পর্শ ও শব্দ একসঙ্গে কাজ করে মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অনেকটা ফিজেট টয় বা স্ট্রেস বল ব্যবহারের মতোই এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্বস্তি এনে দেয়।

বড়রাও কেন শিশুদের মতো হয়ে যান

শিশুরা নতুন কোনো শব্দ বা অনুভূতি পেলে যেমন আনন্দ পায়, বাবল র‍্যাপও তেমন একটি সহজ আনন্দের উৎস। বয়স বাড়লেও মানুষের মস্তিষ্ক এই ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করার ক্ষমতা হারায় না। তাই অফিসে কর্মরত মানুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ ব্যক্তিও বাবল র‍্যাপ হাতে পেলে একের পর এক বাবল ফাটাতে শুরু করেন।

ছোট এই কাজটি হয়তো জীবনের বড় কোনো সমস্যা দূর করতে পারে না, কিন্তু কয়েক মিনিটের জন্য মনকে হালকা করতে পারে। তাই বাবল র‍্যাপ হাতে পেলে শিশুদের মতো আনন্দ পাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বরং এটি আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ারই একটি মজার প্রকাশ।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow