যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা থেকে কথিত ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে কয়েক কোটি টাকার জমি নিজেদের নামে নামজারি (নামপত্তন) করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা সনদে এক ব্যক্তিকে মৃত হোসেন আলী মোল্যার একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখানো হলেও পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তি তাদের বংশেরই নন। অন্যদিকে পৌরসভার সচিব দাবি করেছেন, তার স্বাক্ষর জাল করে সনদটি তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত হোসেন আলী মোল্যার নামে প্রায় ৩ একর ১৭ শতক জমি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। সম্প্রতি মহোর মোল্যা নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কেয়ামদ্দিনের ছেলে দাবি করে ওই জমি নিজের নামে নামজারির জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করেন। তার আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়ারিশ সনদে কেয়ামদ্দিনকে মৃত হোসেন আলী মোল্যার একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি সামনে আসে একই খতিয়ানের একটি অংশের ক্রেতা শাহাবুদ্দিন ১০ শতক জমির নামজারির আবেদন করলে। ভূমি অফিসে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় দুই পক্ষের নথিতে অসংগতি ধরা পড়ে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ২৪ মে কেয়ামদ্দিনের নামে একটি মৃত্যু নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ ইস্যু করা হয়। সেখানে তার মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১০ মে ১৯৪০। তবে একইসঙ্গে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে বয়সগত গুরুতর অসংগতি রয়েছে। কারণ, মৃত হোসেন আলী মোল্যার প্রকৃত জন্মতারিখ ১২ মার্চ ১৯২১ এবং মৃত্যুর তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। ফলে সনদ অনুযায়ী কেয়ামদ্দিনের বয়স তার কথিত পিতার চেয়েও বেশি দাঁড়ায়, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মৃত হোসেন আলী মোল্যার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার চার ছেলে-মেয়ে রয়েছেন এবং সবাই জীবিত। কেয়ামদ্দিন নামে তার কোনো সন্তান ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশে এই ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়েছে।
মৃত হোসেন আলী মোল্যার ছেলে তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেয়ামদ্দিন নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তার পরিবার বহু আগেই অন্যত্র চলে যায়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। অথচ তাকে একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে সনদ দেওয়া হয়েছে, যা বিস্ময়কর।
তিনি আরও জানান, তার বাবা জীবিত অবস্থায় একই খতিয়ানের একটি অংশ শাহাবুদ্দিনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। সেই জমির নামজারি করতে গিয়ে পুরো বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে, মহোর মোল্যার দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তার নাতি শামীম হোসেন বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই পৌরসভা থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করে নামজারির আবেদন করা হয়েছে।
মনিরামপুর পৌরসভার সচিব তফিকুল আলম বলেন, ওয়ারিশ সনদে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।