বাবার পুরোনো স্টাইল যেভাবে আবার ট্রেন্ডি হয়ে উঠছে
এক সময় বাবাদের ফ্যাশন মানেই ছিল ঢিলেঢালা শার্ট, বড়সড় প্যান্ট, পুরোনো স্নিকার্স, চেক ডিজাইন কিংবা সাদামাটা ঘড়ি। সেই স্টাইলকে একসময় ‘আউটডেটেড’ বলা হতো। সন্তানেরা বাবার পুরোনো ছবি দেখে মজা করত, অনেকেই বাবার আলমারি খুলে বলতো ‘এগুলো আবার কেউ পরে নাকি!’ কিন্তু ফ্যাশনের দুনিয়া বড় অদ্ভুত। যে স্টাইলকে একসময় পুরোনো মনে হতো, সেটাই আবার নতুন প্রজন্মের কাছে ‘কুল’ হয়ে ফিরে এসেছে। এখনকার ট্রেন্ডে তাকালেই দেখা যায়-বাবাদের সেই পুরোনো স্টাইলই নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে রাস্তায়, রানওয়েতে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, এমনকি তরুণদের আলমারিতেও। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের স্ট্রিট স্টাইল ও রেট্রো ফ্যাশনে ‘ড্যাড অ্যাস্থেটিক’ বা বাবাদের পুরোনো ধাঁচের পোশাক আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢিলেঢালা পোশাক, ভিনটেজ টি-শার্ট, রেট্রো স্নিকার্স ও ৯০ দশকের স্টাইল নতুনভাবে ফিরে এসেছে। আরও পড়ুন ঐশ্বরিয়ার এই লাল লেহেঙ্গা তৈরিতে লেগেছিল ছয় মাস ‘ড্যাড ফ্যাশন’ আসলে কী? ‘ড্যাড ফ্যাশন’ বলতে সাধারণত সেই স্টাইলকে বোঝানো হয়, যা ৮০, ৯০ কিংবা ২০০০ সালের শুরুতে অনেক বাবার পোশাকে দেখা যেত। যেমন- বড় ফিটের শার
এক সময় বাবাদের ফ্যাশন মানেই ছিল ঢিলেঢালা শার্ট, বড়সড় প্যান্ট, পুরোনো স্নিকার্স, চেক ডিজাইন কিংবা সাদামাটা ঘড়ি। সেই স্টাইলকে একসময় ‘আউটডেটেড’ বলা হতো। সন্তানেরা বাবার পুরোনো ছবি দেখে মজা করত, অনেকেই বাবার আলমারি খুলে বলতো ‘এগুলো আবার কেউ পরে নাকি!’
কিন্তু ফ্যাশনের দুনিয়া বড় অদ্ভুত। যে স্টাইলকে একসময় পুরোনো মনে হতো, সেটাই আবার নতুন প্রজন্মের কাছে ‘কুল’ হয়ে ফিরে এসেছে। এখনকার ট্রেন্ডে তাকালেই দেখা যায়-বাবাদের সেই পুরোনো স্টাইলই নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে রাস্তায়, রানওয়েতে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, এমনকি তরুণদের আলমারিতেও।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের স্ট্রিট স্টাইল ও রেট্রো ফ্যাশনে ‘ড্যাড অ্যাস্থেটিক’ বা বাবাদের পুরোনো ধাঁচের পোশাক আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢিলেঢালা পোশাক, ভিনটেজ টি-শার্ট, রেট্রো স্নিকার্স ও ৯০ দশকের স্টাইল নতুনভাবে ফিরে এসেছে।
‘ড্যাড ফ্যাশন’ আসলে কী?
‘ড্যাড ফ্যাশন’ বলতে সাধারণত সেই স্টাইলকে বোঝানো হয়, যা ৮০, ৯০ কিংবা ২০০০ সালের শুরুতে অনেক বাবার পোশাকে দেখা যেত। যেমন- বড় ফিটের শার্ট, হাই-ওয়েস্ট প্যান্ট, ঢিলেঢালা টি-শার্ট, চাঙ্কি স্নিকার্স, পুরোনো ধাঁচের ডেনিম, সাদামাটা বেল্ট ও ঘড়ি, নিরপেক্ষ রঙের পোশাক। একসময় এগুলোকে ‘সাধারণ’ বা ‘বয়স্কদের স্টাইল’ ভাবা হলেও এখন এগুলোই ফ্যাশনের অন্যতম বড় ট্রেন্ড।
বাবার স্নিকার্স এখন ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু
কিছু বছর আগেও চিকন ডিজাইনের জুতা জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু এখন ‘ড্যাড স্নিকার্স’ বা মোটা সোলের পুরোনো ধাঁচের জুতা আবার ফিরে এসেছে। ফ্যাশন বিশ্লেষকেরা বলছেন, ৯০ দশকের ভারী ও আরামদায়ক জুতার ডিজাইন নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে। আজকের তরুণদের অনেকেই ইচ্ছা করেই এমন জুতা খুঁজছেন, যা দেখতে একটু পুরোনো ধাঁচের। কারণ এই স্টাইল এখন ‘রেট্রো কুল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওভারসাইজড শার্ট: বাবার আলমারি থেকে ফ্যাশন শো পর্যন্ত
একসময় বাবাদের ঢিলেঢালা শার্ট দেখে অনেকে বলতেন, ‘এক সাইজ বড়!’ অথচ এখন ওভারসাইজড ফ্যাশনই স্ট্রিট স্টাইলের অন্যতম বড় অংশ। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ডে বড় ফিটের টি-শার্ট, ঢিলেঢালা জ্যাকেট ও আরামদায়ক পোশাককে স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার ফ্যাশনে ‘ইনটেনশনাল ওভারসাইজ’ ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, দেখতে যেন একটু পুরোনো দিনের মতো লাগে, কিন্তু সেটাই এখন আধুনিক ফ্যাশনের অংশ।
কেন ফিরে আসছে পুরোনো স্টাইল?
নস্টালজিয়ার টান
মানুষ সবসময় পুরোনো দিনের কিছু অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে চায়। ফ্যাশনও তার ব্যতিক্রম নয়। ৯০ দশক ও ২০০০ সালের শুরুর স্টাইল এখন নতুনভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে কারণ মানুষ সেই সময়ের সরলতা ও স্বাভাবিকতাকে আবার খুঁজছে।
আরামের গুরুত্ব বেড়েছে
আগের অনেক ফ্যাশন ছিল খুব আঁটসাঁট ও অস্বস্তিকর। এখন মানুষ স্টাইলের পাশাপাশি আরামও চায়। বাবাদের পুরোনো পোশাকের বড় সুবিধাই ছিল-সেগুলো আরামদায়ক। ঢিলেঢালা প্যান্ট, বড় শার্ট বা ভারী স্নিকার্স এখন শুধু ট্রেন্ড নয়; অনেকের কাছে এগুলো ব্যবহারিকও।
ভিনটেজ এখন ‘ক্লাসি’
আগে পুরোনো পোশাক মানেই ছিল ‘আউটডেটেড’। এখন ভিনটেজ পোশাককে অনেকেই আলাদা ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে পুরোনো ডেনিম, ফেডেড টি-শার্ট, ক্লাসিক চেক শার্ট কিংবা পুরোনো ঘড়ির চাহিদা বেড়েছে। অনেক তরুণ এখন ইচ্ছা করেই বাবার পুরোনো পোশাক ব্যবহার করছেন।

বেয়ার নেলস, সৌন্দর্যের নতুন বিলাসী ভাষা
সোশ্যাল মিডিয়াও বদলে দিয়েছে ধারণা
টিকটক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা পিন্টারেস্টে এখন ‘ড্যাড স্টাইল’, ‘ভিনটেজ ড্যাড ফিট’, ‘ওল্ড স্কুল ফ্যাশন’ খুব জনপ্রিয়। ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সাররা পুরোনো দিনের পোশাক নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। ফলে যে স্টাইল একসময় শুধুই “বাবাদের পোশাক” ছিল, সেটাই এখন তরুণদের ফ্যাশন আইকনে পরিণত হয়েছে।
বাবার আলমারি এখন ট্রেন্ডের ভাণ্ডার
অনেকেই এখন থ্রিফট শপ বা ভিনটেজ মার্কেটে এমন পোশাক খুঁজছেন, যেগুলো একসময় সাধারণ মধ্যবিত্ত বাবাদের আলমারিতে দেখা যেত। মজার ব্যাপার হলো, অনেক পরিবারের পুরোনো অ্যালবামে থাকা বাবার ছবিগুলো এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ‘ফ্যাশন ইনস্পিরেশন’ হয়ে উঠছে। একটি অনলাইন আলোচনায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বাবার ৩০ বছর পুরোনো শার্ট এখন আমার ওপর ট্রেন্ডি লাগছে।’
শুধু পোশাক নয়, ফিরে আসছে জীবনধারাও
বাবাদের স্টাইল শুধু পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল না; ছিল এক ধরনের সরল জীবনদর্শনও। কম কিন্তু টেকসই পোশাক, বারবার ব্যবহারযোগ্য জিনিস, আরামকে গুরুত্ব দেওয়া ও অতিরিক্ত চাকচিক্য এড়িয়ে চলা। আজকের ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন’ ধারণার সঙ্গে এসব বিষয়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই।
নতুন প্রজন্ম কেন এই স্টাইল পছন্দ করছে?
কারণ এই ফ্যাশনে এক ধরনের বাস্তবতা আছে। এটি খুব সাজানো বা কৃত্রিম মনে হয় না। বরং সহজ, স্বাভাবিক এবং ব্যক্তিত্বপূর্ণ লাগে। আজকের তরুণেরা এখন এমন স্টাইল খুঁজছেন, যা শুধু সুন্দর নয়, বরং স্বতন্ত্রও। আর সেখানেই বাবাদের পুরোনো ফ্যাশন আবার নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে।
ফ্যাশনের চাকা ঘুরে ঘুরে আবার সেই জায়গাতেই ফিরে আসে। একসময় যেসব পোশাককে ‘পুরোনো’ বলা হতো, আজ সেগুলোই নতুন প্রজন্মের স্টাইল স্টেটমেন্ট। হয়তো আপনার বাবার আলমারিতে এখনও এমন কোনো শার্ট, জ্যাকেট বা স্নিকার্স আছে, যা আজকের ট্রেন্ডের সঙ্গে অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যায়। তাই এবার বাবা দিবসে শুধু বাবাকে শুভেচ্ছা জানালেই হবে না; তার পুরোনো স্টাইলটাকেও নতুন চোখে দেখুন। কারণ কখনো কখনো সবচেয়ে আধুনিক ফ্যাশন লুকিয়ে থাকে অতীতের ভাঁজেই।
জেএস/
What's Your Reaction?


