বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা
দেশে বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু সুরক্ষা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘কোলাবোরেটিভ অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট চাইল্ড প্রটেকশন’ শীর্ষক এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি কার্যকর কৌশলগত জোট গঠন এবং প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচির আওতায় ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামসহ বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কন্যাশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০১৮-২০৩০ সময়কালের জন্য বাল্যবিবাহ নিরোধে যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাঠ প্রশাসন, বিশেষ করে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প
দেশে বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু সুরক্ষা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে ‘কোলাবোরেটিভ অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট চাইল্ড প্রটেকশন’ শীর্ষক এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি কার্যকর কৌশলগত জোট গঠন এবং প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামসহ বিভিন্ন সমমনা সংগঠনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কন্যাশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকার ২০১৮-২০৩০ সময়কালের জন্য বাল্যবিবাহ নিরোধে যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাঠ প্রশাসন, বিশেষ করে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হটলাইন সেবাসমূহ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
আলোচনায় বাল্যবিবাহের নানা ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এছাড়া বাল্যবিবাহের ফলে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সেমিনারে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সচেতন করতে খোলামেলা আলোচনা এবং মেয়েদের শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর গ্লোরিয়াস গ্রেগরী দাস সংস্থার চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা (পরিকল্পনা) জান্নাতুল ফেরদৌস, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার (সিনিয়র সহকারী সচিব) সিরাজুল ইসলাম খানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ দেশের ৪০টি জেলায় ১৯৩টি কমিউনিটি-ভিত্তিক সেন্টারের মাধ্যমে শূন্য থেকে ২২ বছর বয়সী শিশু ও যুবকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
এমডিএএ/এসএনআর
What's Your Reaction?