বাসচাপায় দম্পতি নিহত

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে স্বামী আনিসুর রহমান (৫৫) এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে স্ত্রী আফিয়া বেগমের (৪৫) মৃত্যু হয়। নিহতরা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম মোটরসাইকেলযোগে রংপুর যাচ্ছিলেন। পথে মিঠাপুকুর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত বাস তাদের ধাক্কা দিলে দুজনেই গুরুতর আহত হন। আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আফিয়া বেগমকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তারও মৃত্যু হয়। নিহত আনিসুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হলেও আফিয়া বেগমকে এখনো দাফন করা সম্ভব হয়নি। মালয়েশিয়া প্রবাসী বড় ছেলে শেষবারের মতো মাকে দেখার আকুতি জানিয়েছেন। প্রিয় সন্তানের অপেক্ষায় মায়ে

বাসচাপায় দম্পতি নিহত

রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে স্বামী আনিসুর রহমান (৫৫) এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে স্ত্রী আফিয়া বেগমের (৪৫) মৃত্যু হয়।

নিহতরা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম মোটরসাইকেলযোগে রংপুর যাচ্ছিলেন। পথে মিঠাপুকুর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত বাস তাদের ধাক্কা দিলে দুজনেই গুরুতর আহত হন। আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আফিয়া বেগমকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তারও মৃত্যু হয়।

নিহত আনিসুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হলেও আফিয়া বেগমকে এখনো দাফন করা সম্ভব হয়নি। মালয়েশিয়া প্রবাসী বড় ছেলে শেষবারের মতো মাকে দেখার আকুতি জানিয়েছেন। প্রিয় সন্তানের অপেক্ষায় মায়ের মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে রাখা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মরদেহ দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়লে এগিয়ে আসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা”। তারা দ্রুত ফ্রিজিং কফিনের ব্যবস্থা করে মরদেহ সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়।

সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত ব্যথিত করার মতো। আমাদের সাধ্য সীমিত হলেও আমরা চেষ্টা করি যেন কোনো সন্তান তার বাবা-মায়ের শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত না হয়। মানবিক জায়গা থেকেই আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। 

স্থানীয় বাসিন্দা নাসিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমে বাবা ও পরে মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটি আজ নিঃস্ব। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি এগিয়ে না এলে ছেলেটি হয়তো তার মায়ের মুখ আর দেখতে পারত না। 

শুক্রবার রাতে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রবাসী ছেলেটি কিছুক্ষণের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে, সে এলে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow