বাড়ি সংস্কারের সময় পাওয়া গেলো বিপুল সোনা, মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

বাড়ি সংস্কারের সময় দেয়ালের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করেছেন নির্মাণকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া সোনার বার ও মুদ্রার মূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো। ব্রিটিশ মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৭৬ লাখ পাউন্ড। জানা গেছে, বেলজিয়ামে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি বাড়ির বেসমেন্টে নতুন পয়োনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য খননকাজ করছিলেন নির্মাণকর্মীরা। এ সময় দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সোনার সন্ধান পান তারা। সোনা উদ্ধারের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিপুল সম্পদের মালিক কে হবেন? কারণ, যে নির্মাণকর্মীরা সোনা খুঁজে পেয়েছেন এবং যে দাতব্য সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাটিতে বাড়িটি রয়েছে, উভয় পক্ষই আইনের আওতায় এর দাবিদার হতে পারেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই নির্মাণস্থলে গিয়ে আরও সোনার সন্ধান না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি তল্লাশি করতে গিয়ে পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। উদ্ধার করা সব সোনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে মিলল সোনা? নির্মাণকাজের সময় বাড়িটির ভিত্তির কাছে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কাজ করা ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীও ছিলেন। তার নাম কোবি। বেলজি

বাড়ি সংস্কারের সময় পাওয়া গেলো বিপুল সোনা, মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

বাড়ি সংস্কারের সময় দেয়ালের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধার করেছেন নির্মাণকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া সোনার বার ও মুদ্রার মূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো। ব্রিটিশ মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৭৬ লাখ পাউন্ড।

জানা গেছে, বেলজিয়ামে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি বাড়ির বেসমেন্টে নতুন পয়োনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য খননকাজ করছিলেন নির্মাণকর্মীরা। এ সময় দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা সোনার সন্ধান পান তারা।

সোনা উদ্ধারের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিপুল সম্পদের মালিক কে হবেন? কারণ, যে নির্মাণকর্মীরা সোনা খুঁজে পেয়েছেন এবং যে দাতব্য সংস্থার মালিকানাধীন জায়গাটিতে বাড়িটি রয়েছে, উভয় পক্ষই আইনের আওতায় এর দাবিদার হতে পারেন।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই নির্মাণস্থলে গিয়ে আরও সোনার সন্ধান না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি তল্লাশি করতে গিয়ে পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। উদ্ধার করা সব সোনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে মিলল সোনা?

নির্মাণকাজের সময় বাড়িটির ভিত্তির কাছে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কাজ করা ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীও ছিলেন। তার নাম কোবি।

বেলজিয়ামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিআরটিকে কোবি বলেন, সোনা পাওয়ার পর তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস ও বিস্ময়।

তিনি জানান, প্রথমে তার মনে হয়েছিল এগুলো হয়তো এক ইউরোর মুদ্রা। পরে একটি সোনার টুকরা দেখতে পান। তখন তারা বুঝতে পারেন, বিষয়টি অনেক বড়।

এরপর তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।

নির্মাণকাজের সাইট ম্যানেজার মারিও বলেন, সেখানে এত বেশি মুদ্রা ও সোনার বার ছিল যে সেগুলো নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এর পাশাপাশি, সোনা নিজের কাছে রেখে দেওয়া চুরি হিসেবে গণ্য হবে বলেও তিনি জানান।

কোবিও বলেন, ৯০ লাখ ইউরোর মতো সম্পদ লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

দাতব্য সংস্থার মালিকানাধীন বাড়ি

যে বাড়িতে সোনার ভাণ্ডার পাওয়া গেছে, সেটির মালিক বর্তমানে CAW Oost-Vlaanderen। সংস্থাটি ডেন্ডারমন্ডে মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক সহায়তা নিয়ে কাজ করে।

সংস্থাটির পরিচালক গের্ট হিলার্ট বলেন, খবরটি শুনে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত এই সম্পদ যদি তাদের সংস্থার কাজে ব্যবহারের সুযোগ আসে, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যাবে।

প্রতিদিন তারা যে বিপুলসংখ্যক মানুষের সহায়তার প্রয়োজন দেখছেন, এই অর্থ সেই কাজকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি জানান।

সোনার মালিক কে?

উদ্ধার হওয়া সম্পদের প্রকৃত মালিক কে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রসিকিউটর তদন্ত শুরু করেছেন।

বেলজিয়ামের আইনে, লুকিয়ে রাখা কোনো সম্পদের প্রকৃত মালিকের সামনে এসে সেটির দাবি জানানোর জন্য পাঁচ বছর সময় রয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে কেউ এসে সোনার মালিকানা দাবি করলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তবে পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মালিকানা দাবি না করলে অন্য একটি নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

দেশটির দেওয়ানি আইন অনুযায়ী, অন্যের সম্পত্তিতে লুকিয়ে থাকা কোনো গুপ্তধন পাওয়া গেলে এবং সেটির সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক না থাকলে, সম্পদটি সাধারণত যিনি খুঁজে পেয়েছেন এবং যে সম্পত্তিতে সেটি পাওয়া গেছে—এই দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ হতে পারে।

অর্থাৎ, মালিকানা দাবি করার মতো কেউ না এলে নির্মাণকর্মী এবং জায়গাটির মালিক দাতব্য সংস্থা—দুই পক্ষই এই বিপুল সম্পদের অংশ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

তবে তার আগে তদন্ত শেষ হওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ সাধারণ মানুষকে নির্মাণস্থলে গিয়ে গুপ্তধনের সন্ধান না করার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জায়গাটি এখনো নির্মাণকাজের আওতায় রয়েছে এবং সেখানে প্রবেশ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রায় ৯০ লাখ ইউরোর এই সোনার ভাণ্ডারের প্রকৃত মালিক কে ছিলেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মালিকের সন্ধান না মিললে আগামী পাঁচ বছর ধরে চলতে পারে এই অপেক্ষা। সত্যিই, এই ঘটনায় নীরবতাই যেন হয়ে উঠেছে ‘সোনালি’ অপেক্ষা।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow