বিএনপির বিরুদ্ধে এক সুরে জামায়াত ও আ.লীগ
নানা বিতর্ক, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি দের বর্জন, স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে একসুরে অবস্থান নিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাত ৯টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ১০৪ জন, যা মোট ভোটের প্রায় ৪৭ শতাংশ। যদিও সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা এবং জামায়াতপন্থিদের ভোট বর্জনের কারণে নির্বাচন অনেকটাই একতরফা হয়ে পড়ে। সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন শাহীন কালবেলাকে বলেন, ভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বাধা, বিপত্তি, হট্টগোল বা অভিযোগ পাইনি। আজ আদালত খোলা ছিল। আইনজীবীরা পেশাগত কাজ শেষে ভোট দিয়েছেন। রাত ৯টায় ফল ঘোষণা করা হবে। আমরা লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি। আ.লী
নানা বিতর্ক, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি দের বর্জন, স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে একসুরে অবস্থান নিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয় গণনা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাত ৯টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ১০৪ জন, যা মোট ভোটের প্রায় ৪৭ শতাংশ। যদিও সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা এবং জামায়াতপন্থিদের ভোট বর্জনের কারণে নির্বাচন অনেকটাই একতরফা হয়ে পড়ে।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন শাহীন কালবেলাকে বলেন, ভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বাধা, বিপত্তি, হট্টগোল বা অভিযোগ পাইনি। আজ আদালত খোলা ছিল। আইনজীবীরা পেশাগত কাজ শেষে ভোট দিয়েছেন। রাত ৯টায় ফল ঘোষণা করা হবে। আমরা লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি।
আ.লীগের গণসংগীত ও আন্তর্জাতিক বিচারের হুঁশিয়ারি
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ আইনজীবী পরিষদকে শুরুতেই ফরম নিতে না দিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘দোসর’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে দিনভর উত্তপ্ত ছিল আদালতপাড়া। বুধবার কালো পতাকা মিছিলের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা দোয়েল ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ৩টার দিকে শাপলা ভবনের সামনে আওয়ামী প্যানেলের আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা সমবেত হয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান। তারা জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে’ ও ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল’সহ বিভিন্ন গণসংগীত পরিবেশন করেন। ভোট দিতে না পারার আক্ষেপও ফুটে ওঠে তাদের বক্তব্যে।
তাদের অভিযোগ, গত ১৭ বছর সমিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরাও গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আওয়ামী প্যানেলের অন্যতম নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম জিয়াউদ্দিন বলেন, এ ঘটনার বিচার দেশীয়ভাবে না হলে আন্তর্জাতিকভাবে হবে। আমরা ৮ হাজার আইনজীবীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এটি কোনো দলীয় প্ল্যাটফর্ম নয়। এখানে বাম, ডান, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সমন্বয় আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিষয়টি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিককরণ করা হয়েছে। যারা ভাবছেন আজ ভোট হয়ে গেলেই ক্ষমতায় বসে যাবেন, তাদের বলছি এই চেয়ারটা অনেক গরম টাইলের চেয়ার। এটা সহ্য করতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে।’
তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরা বেগমের নেতৃত্বাধীন কমিশন বাতিল করে সাবেক প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিদের নেতৃত্বে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিকের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন। সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে ‘ছি ছি’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
জামায়াতপন্থিদের ভোট বর্জন ও বিক্ষোভ
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আদালত ভবন এলাকার সোনালী ব্যাংক চত্বর ও আইনজীবী ভবনের সামনে তারা সমাবেশ করে।
বর্তমান রানিং বার কমিটি থেকে জামায়াতের ৭ কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করায় তাদের কর্মী-সমর্থকরা মাঠে ছিলেন সরব। তারা ‘ভোট চোর ভোট চোর, বিএনপি ভোট চোর’ ও ‘একদলীয় নির্বাচন মানি না’ স্লোগান দিতে থাকেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে জামায়াতপন্থিরা যখন ‘চোর চোর মহাচোর’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখনই তাদের পেছনে অবস্থান নেয় বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তারা পাল্টা ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’ স্লোগান দেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের মিছিলও সেখানে প্রবেশ করলে আদালতপাড়ায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
জামায়াত প্যানেলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, যারা আমাদের পেছনে এসে পাল্টা স্লোগান দিচ্ছে তারা নব্য স্বৈরাচার। দীর্ঘ ১৭ বছর অনাহারে থেকে কিছু খেতে পারেনি। এখন বার জোরপূর্বক দখল করে বারের ৫০ কোটি টাকা খাওয়ার জন্য বসে আছে। ভোটচোরদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।
জামায়াত প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের একজন সহ-সভাপতিসহ ১১ জন বৈধ প্রার্থী একযোগে ভোট বর্জন করেছেন। বারের ইতিহাসে এই কলঙ্কজনক নির্বাচনের দায় আমরা নেব না।
এর আগে বুধবার নির্বাচনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জামায়াতপন্থিদের করা আবেদন আদালত খারিজ করে দেন।
বিএনপিপন্থিদের জয় নিশ্চিত
জানা গেছে, সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল অংশ নিতে না পারা এবং জামায়াতপন্থিদের বর্জনের কারণে বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের তারিক-মঈনুদ্দীন-নজরুল পরিষদের অধিকাংশ প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
রানিং বার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী বলেন, প্রার্থিতা বর্জন করতে পারে, কিন্তু তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেনি। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী তারিক আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিমা খানম, সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর সিকদার, গ্রন্থাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সরোয়ার হোসাইন (লাভলু) এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. লোকমান শাহ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্জনকারী প্যানেলের প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ১২টি পদে ব্যালট নম্বর বরাদ্দ করে ভোটগ্রহণ করতে হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নীলুফার ইয়াসমিন লাভলী। এছাড়া কার্যকরী সদস্যের ১১টি পদে ভোট হয়।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে থাকা এবং জামায়াতপন্থিদের ভোট বর্জনের কারণে পড়া ভোটের বড় অংশই বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বাক্সে গেছে। ফলে তারিক-মঈনুদ্দীন-নজরুল পরিষদের পুরো প্যানেল পূর্ণাঙ্গ বিজয় পেতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
What's Your Reaction?