বিএনপি প্রার্থীর রঙিন লিফলেট বিতরণ, নীরব প্রশাসন

নোয়াখালী-১ আসনে ঘরে ঘরে ধানের শীষের রঙের লিফলেট বিতরণ করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তার লোকজন। এতে দলীয় প্রধান ছাড়াও প্রতিষ্ঠাতাসহ একাধিক ছবি ব্যবহার করলেও প্রশাসনের নীরব থাকার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ওই আসনের চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিএনপির কর্মীদেরকে উভয় পৃষ্ঠা চার রঙের ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও রঙিন স্টিকার বিভিন্ন ঘরের দেওয়ালে সাঁটাতে দেখা গেছে। লিফলেট ও স্টিকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ধানের শীষের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও লিফলেট ও স্টিকারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখ কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। গত ৯ দিনে এসব লিফলেট ও স্টিকার চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকার বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ, নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালার ৭ (ঙ) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হবে এবং ৭(চ)-তে বলা আছে,

বিএনপি প্রার্থীর রঙিন লিফলেট বিতরণ, নীরব প্রশাসন

নোয়াখালী-১ আসনে ঘরে ঘরে ধানের শীষের রঙের লিফলেট বিতরণ করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তার লোকজন। এতে দলীয় প্রধান ছাড়াও প্রতিষ্ঠাতাসহ একাধিক ছবি ব্যবহার করলেও প্রশাসনের নীরব থাকার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ওই আসনের চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিএনপির কর্মীদেরকে উভয় পৃষ্ঠা চার রঙের ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও রঙিন স্টিকার বিভিন্ন ঘরের দেওয়ালে সাঁটাতে দেখা গেছে।

লিফলেট ও স্টিকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ধানের শীষের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও লিফলেট ও স্টিকারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখ কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। গত ৯ দিনে এসব লিফলেট ও স্টিকার চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকার বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।

অথচ, নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালার ৭ (ঙ) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হবে এবং ৭(চ)-তে বলা আছে, এ সব প্রচারণায় প্রার্থী ও দলের বর্তমান প্রধান ব্যতীত অন্য কারো ছবি ছাপানো যাবে না।

এ ছাড়া ৭(ঝ)-তে উল্লেখ আছে, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোনো ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাটখিল বাজারের এক ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীসহ তাদের লোকজন গত ২২ জানুয়ারি থেকে রঙিন এসব লিফলেট বিতরণ করে আসছেন। প্রশাসনের কেউ এ ব্যাপারে কিছুই বলছে না। আর স্থানীয়রা তো এ নিয়ে কিছু জানার কথা নয়।

গোলাম কিবরিয়া নামে এক শিক্ষক বলেন, এক সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে এ নিয়ে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারা অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এতে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে তার ব্যক্তিগত সহকারি মো. ইকবাল হোসাইন রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ধানের শীষের রঙিন লিফলেট বিতরণের অভিযোগ সত্য নয়। আগের ছাপানো কোনো রঙিন লিফলেট কেউ হয়তো বিতরণ করতে পারে।

ছবিতে বিএনপি প্রার্থীর হাতেও এমন লিফলেট দেখা গেছে বলার পর তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, লিফলেট ও গেইট নির্মাণের কথা আমিও শুনেছি। কিন্তু নির্বাচনি আচরণবিধির বিষয়টি দেখছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, লিফলেট, হ্যান্ডবিল অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে। কোনো প্রার্থী এ নিয়ম ভঙ্গ করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনে কি করা যাবে- কি করা যাবে না সবই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সেটি যদি কেউ না মানে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তার এজেন্ট যারা আছে আমরা তাদের নজরে আনবো এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

ইকবাল হোসেন মজনু/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow