বিএসএফের পুশইন, শূন্যরেখায় মানবেতর দিন কাটছে শিশুসহ নয়জনের
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা। সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কর
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে দুই শিশুসহ নয়জন দুই দিন ধরে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটছে তাদের। আটকে পড়া দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লেও মিলছে না কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা।
সীমান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক ১০৬০ মেইন পিলারের ১-এস সাব-পিলারের নিকটবর্তী গেট খুলে ছয়জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, একই সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৫ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী ভুন্দুরচর-ইজলামারী এলাকা দিয়ে আরও তিন নাগরিককে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য এবং স্থানীয় জনতার কড়া নজরদারি ও তৎপরতার কারণে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা সোমবার (১৫ জুন) পযর্ন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা দুই দেশের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত দু’দিন ধরে তীব্র রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করছেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকা দুই শিশু বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে, পুশইনের শিকারদের খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশে সীমান্তের গ্রামবাসীরা।
সীমান্তের বাসিন্দা আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘ভোররাতে বিএসএফ অন্যায়ভাবে এদের পুশইন করেছে। তারা যদি বাংলাদেশিও হয়ে থাকে, তবে বিএসএফ রাষ্ট্রীয় নিয়মে তাদের ফেরত পাঠাতে পারত। তা না করে ভোররাতে সবার অগোচরে তাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছি। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিজিবি তাদের পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে।’
শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোর করে এদের আমাদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এরা খুব কষ্টে আছে। বিশেষ করে বাচ্চা দুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের দেখভাল করার চেষ্টা করলেও শূন্যরেখায় থাকায় আইনি জটিলতায় মূল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত এর একটা মানবিক সমাধান হওয়া দরকার।’
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিজিবির ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় আটকেপড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় কড়া পাহারায় দিন কাটছে ওই নাগরিকদের।’
What's Your Reaction?