বিকল্প প্রার্থীদের নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি, যা জানা গেল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিকল্প প্রার্থী বিষয়ে বিএনপি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী পরিবেশ পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মূল প্রার্থীদের পাশাপাশি কিছু আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দলটির মতে, নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ পরিবর্তন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে বিকল্প প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে দলীয়ভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিকল্প প্রার্থী রাখা মানেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিএনপি এখনো নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন, ভোটের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। দুটি আসনে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে মনোনয়ন ঝুঁকিতে পড়েছে। আরেকটি আসনে দলীয় প্রার্থী বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ হওয়ায় বিকল্প প্রার্থী বিবেচনায় নিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া নতুন করে কোনো আসনে জটিলতা দেখা দিলে ২০ জানুয়ারির আগেই

বিকল্প প্রার্থীদের নিয়ে কী ভাবছে বিএনপি, যা জানা গেল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিকল্প প্রার্থী বিষয়ে বিএনপি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী পরিবেশ পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মূল প্রার্থীদের পাশাপাশি কিছু আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দলটির মতে, নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ পরিবর্তন বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে বিকল্প প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে দলীয়ভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিকল্প প্রার্থী রাখা মানেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিএনপি এখনো নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন, ভোটের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। দুটি আসনে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে মনোনয়ন ঝুঁকিতে পড়েছে। আরেকটি আসনে দলীয় প্রার্থী বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ হওয়ায় বিকল্প প্রার্থী বিবেচনায় নিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া নতুন করে কোনো আসনে জটিলতা দেখা দিলে ২০ জানুয়ারির আগেই সেখানে বিদ্রোহী অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সামনে আনার কৌশল নিতে পারে দলটি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিকল্প চিন্তা থেকেই দলটি বিকল্প প্রার্থী দিয়েছে। যেসব আসনে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেসব বিষয় মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের আপিল নিষ্পত্তি চলবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে যেসব আসনে প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বা হতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় সেসব আসনে দেওয়া বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। পাশাপাশি আরও কয়েকটি আসনে প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তির ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সারা দেশে মোট ছয়টি আসনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি আসনে এরই মধ্যে বিকল্প প্রার্থীকেই চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি পাঁচটির মধ্যে সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-২ আসনটি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সেখানে বিকল্প হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কবির আহমেদ ভূঁইয়া। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে ঘোষিত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী। গত শুক্রবার তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ১৮ জানুয়ারি এই আপিলের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের শঙ্কা থাকায় বিকল্প প্রার্থী চূড়ান্ত করার দিকে ঝুঁকছে দল। পাশাপাশি তার বয়সজনিত অসুস্থতাও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে জানা গেছে।

একইভাবে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি অভিযোগ করেছেন, হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় গোপন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-২ আসনেও বিকল্প প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে দলীয়ভাবে ঐকমত্য হয়েছে। শুরুতে এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তার বয়স ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে শীর্ষ নেতৃত্ব প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিকল্প প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ অভিযোগে তারা তাকে মানতে নারাজ এবং ঘোষিত প্রার্থী আনিসুল হকের পক্ষেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এ ছাড়া যশোর-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র : সমকাল 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow