বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

মাদারীপুরবাসীর কাছে অতি পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান ‌‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। এই দোকান থেকে কখনো মিষ্টি খাননি—এমন লোক খুব কমই রয়েছে। বিয়ে, জন্মদিন, অতিথি আপ্যায়নসহ নানা অনুষ্ঠানে এখানকার মিষ্টি না হলে যেন চলেই না। তবে ক্ষীরপুরি ও সন্দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‌‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। তিন প্রজন্মের হাতে চলছে এই দোকান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরে পুরাতন কোর্ট এলাকায় ১৯৩৭ সালে একটি টিনের ছাপরার ঘরে যাত্রা শুরু করে ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। শহরের আমিরাবাদ বাদামতলা এলাকার রাম চন্দ্র মন্ডলের ছেলে জীবন মন্ডল এই দোকান দেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। অল্প দিনের মধ্যেই দোকানের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের মৃত্যুর পর তার ছেলে কানাই মন্ডল দোকানের হাল ধরেন। কানাই মন্ডলেরও বয়স হয়ে গেছে। তিনিও ঠিকমতো দোকানে সময় দিতে পারেন না। তাই বর্তমানে তার ছেলে আকাশ মন্ডল বাবার সহযোগিতায় দোকানের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রবাসীদের কাছেও বিশেষ চাহিদা রয়েছে এই দোকানের মিষ্টির। জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার প্রতিদিন সকাল ৭টায় থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পুরো দিন ভিড় থাকে দোকানে। বিশেষ দিন, সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠা

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

মাদারীপুরবাসীর কাছে অতি পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান ‌‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। এই দোকান থেকে কখনো মিষ্টি খাননি—এমন লোক খুব কমই রয়েছে। বিয়ে, জন্মদিন, অতিথি আপ্যায়নসহ নানা অনুষ্ঠানে এখানকার মিষ্টি না হলে যেন চলেই না। তবে ক্ষীরপুরি ও সন্দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‌‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। তিন প্রজন্মের হাতে চলছে এই দোকান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরে পুরাতন কোর্ট এলাকায় ১৯৩৭ সালে একটি টিনের ছাপরার ঘরে যাত্রা শুরু করে ‘জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। শহরের আমিরাবাদ বাদামতলা এলাকার রাম চন্দ্র মন্ডলের ছেলে জীবন মন্ডল এই দোকান দেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। অল্প দিনের মধ্যেই দোকানের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

জীবনের মৃত্যুর পর তার ছেলে কানাই মন্ডল দোকানের হাল ধরেন। কানাই মন্ডলেরও বয়স হয়ে গেছে। তিনিও ঠিকমতো দোকানে সময় দিতে পারেন না। তাই বর্তমানে তার ছেলে আকাশ মন্ডল বাবার সহযোগিতায় দোকানের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রবাসীদের কাছেও বিশেষ চাহিদা রয়েছে এই দোকানের মিষ্টির।

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডার প্রতিদিন সকাল ৭টায় থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পুরো দিন ভিড় থাকে দোকানে। বিশেষ দিন, সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে আগে থেকেই মিষ্টির অর্ডার দিতে হয়।

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

যেভাবে তৈরি হয় ক্ষীরপুরি

মিষ্টি বানাতে দোকানে বর্তমানে কর্মরত পাঁচজন কর্মচারী। তারা জানালেন, সবচেয়ে বেশি সময় যায় ও পরিশ্রম করতে হয় ক্ষীরপুরি তৈরি করতে। তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত নেড়ে নেড়ে খুব যত্নের সঙ্গে খাঁটি দুধ বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিতে হয়। দুধ ঘন হয়ে এলে এক ঘণ্টা ঘুরাতে হয়। এরপর মাখনের মতো হয়ে এলে দিতে হয় পরিমাণ মতো চিনি।

পরে আরও আধাঘণ্টা নেড়ে বড় গামলায় রেখে দেওয়া হয় ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত। ঠান্ডা হলে ট্রেতে করে ক্ষীর দিয়ে আরও দুই ঘণ্টা পর ছানার ওপরে লেপে দিলেই হয়ে যায় মাদারীপুরের সবচেয়ে সুস্বাদু মজাদার ক্ষীরপুরি।

ক্ষীরপুরের পরেই গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে সন্দেশ। শীতের সময় খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো সন্দেশ আরও বেশি মজাদার হয়ে থাকে। এই দোকানের অন্যান্য মিষ্টান্নের মধ্যে রসমালাই, রসগোল্লা, সাদা ছানা, চমচম, ড্রাই মিষ্টি, কালোজাম, ছানার জিলাপি, দধ, ঘি পাওয়া যায়।

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

দিনে যত টাকার বেচাকেনা

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক কালাই মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন কত কেজি আর কত টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়, তা বলা যাবে না। তবে ভগবানের কৃপায় অনেক ভালো হয়। আমার বাবার ঐতিহ্য আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। তাই একইভাবে এখনো আমাদের এই দোকানের সুনাম আছে। বিক্রিও অনেক ভালো।’

প্রতিকেজি ক্ষীরপুরি ৬০০ টাকা, সন্দেশ ৬০০, সাদা ছানা ৬০০, রসমালাই ৪৫০, চমচম ২৫০, ড্রাই মিষ্টি ২৫০, কালোজাম ২৫০, রসগোল্লা ২০০, সানার জিলাপি ২০০, দই ২০০ ও ঘি এক হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

কত বিক্রি হয় তা দোকানের মালিক না জানালেও খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন কম করে হলেও ২০ হাজার টাকার ক্ষীরপুরি বিক্রি হয়। সে হিসেবে প্রতিমাসে শুধু ক্ষীরপুরিই বিক্রি হয় ছয় লাখ টাকার। এছাড়া সন্দেশ, অন্যান্য মিষ্টি ও ঘিসহ মাসে ১০-১২ লাখ টাকার মিষ্টান্ন বিক্রি হয়।

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘খাবারের তালিকায় ঐতিহ্যবাহী ক্ষীরপুরি যুগ যুগ ধরে সুনামের সঙ্গে চলে আসছে। জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের ক্ষীরপুরি স্বাদ নেয়নি এমন কাউকে জেলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এক সময়ের ছোট আর সাধারণ দোকানটি এখন পরিণত হয়েছে মাদারীপুরের সুপরিচিত স্বাদের মিষ্টি দোকান হিসেবে। শুধু মাদারীপুর নয়, পাশের জেলা শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ থেকেও মিষ্টি প্রেমীরা এসে এখানে খেয়ে থাকেন। ইতালিসহ বিভিন্ন দেশেও যাচ্ছে এখানকার মিষ্টি।’

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

ইতালি থেকে আসা আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমি যখন দেশে আসি, তখন আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের নিয়ে এই দোকানে এসে মিষ্টি খাই। ইতালি যাওয়ার সময় সঙ্গে করে ক্ষীরপুরি নিয়ে যাই।’

মিষ্টি কিনতে আসা জহিরুল হক বলেন, ‘আমার তিন ভাই ও তার পরিবার ইতালি থাকেন। তাই তাদের জন্য ক্ষীরপুরি কিনতে এসেছি। এক ভাই ইতালি থেকে দেশে এসেছেন। আবার চলে যাবেন। তাই তার কাছে ক্ষীরপুরি পাঠাচ্ছি।’

ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ কিনতে আসা লিটন হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তাদের শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়। তাই ২০ কেজি ক্ষীরপুরি ও সন্দেশ কিনেছি। এই মিষ্টি আমাদের ঐতিহ্য। স্বাদেও অসাধারণ।’

বিদেশেও যাচ্ছে মাদারীপুরের বিখ্যাত ক্ষীরপুরি

জীবন মিষ্টান্ন ভান্ডারের আরেক মালিক আকাশ মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এই মিষ্টির দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন আমার দাদা জীবন মন্ডল। তিনি মারা গেলে আমার বাবা কানাই মন্ডল দোকানটি পরিচালনা করেন। বর্তমানে বাবা একটু অসুস্থ ও বয়স হয়ে যাওয়ায় আমি পরিচালনা করে আসছি। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এওয়াইএসএ/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow