বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

চৈত্রের শেষ বিকেল। রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান তার স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরছিলেন রমনা পার্কে। সন্তানদের আবদার মেটাতে ২০০ টাকায় নৌকায় চড়ার টিকিট কেটে তারা অপেক্ষা করছিলেন লেকের পাড়ে। এসময় দূরে লেকের পানিতে কয়েকটি নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন দর্শনার্থীরা। হঠাৎ জেটিতে হ্যান্ড মাইক হাতে এক যুবকের ঘোষণা- ‘সিরিয়াল নম্বর ৭৮৩, আপনার সময় শেষ। দ্রুত নৌকা নিয়ে জেটিতে ফিরে আসুন, না হলে প্রতি মিনিটে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।’ এ ঘোষণায় খুশি হয়ে উঠে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা আতাউর রহমানের প্রায় ১০ বছর বয়সী ছেলেটি। সে মায়ের হাত ধরে বলে, ‘আম্মু, আমি কিন্তু নৌকা না চালিয়ে বাড়ি যাবো না।’ ছেলের এমন আবদারে কিছুটা বিব্রত হয়ে মা পাশেই দাঁড়ানো স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো তিনজন। আমরা কি সন্ধ্যার আগে উঠতে পারবো?’ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে রমনা পার্কের লেক এলাকায় এমনই চিত্র চোখে পড়ে। বিনোদনের খোঁজে রমনায় ভিড় যান্ত্রিক নগরী ঢাকায় পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের। একসময় শাহবাগের শিশু পার্ক শিশুদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু স

বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

চৈত্রের শেষ বিকেল। রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা আতাউর রহমান তার স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরছিলেন রমনা পার্কে। সন্তানদের আবদার মেটাতে ২০০ টাকায় নৌকায় চড়ার টিকিট কেটে তারা অপেক্ষা করছিলেন লেকের পাড়ে।

এসময় দূরে লেকের পানিতে কয়েকটি নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন দর্শনার্থীরা। হঠাৎ জেটিতে হ্যান্ড মাইক হাতে এক যুবকের ঘোষণা- ‘সিরিয়াল নম্বর ৭৮৩, আপনার সময় শেষ। দ্রুত নৌকা নিয়ে জেটিতে ফিরে আসুন, না হলে প্রতি মিনিটে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।’

এ ঘোষণায় খুশি হয়ে উঠে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা আতাউর রহমানের প্রায় ১০ বছর বয়সী ছেলেটি। সে মায়ের হাত ধরে বলে, ‘আম্মু, আমি কিন্তু নৌকা না চালিয়ে বাড়ি যাবো না।’ ছেলের এমন আবদারে কিছুটা বিব্রত হয়ে মা পাশেই দাঁড়ানো স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো তিনজন। আমরা কি সন্ধ্যার আগে উঠতে পারবো?’

বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে রমনা পার্কের লেক এলাকায় এমনই চিত্র চোখে পড়ে।

বিনোদনের খোঁজে রমনায় ভিড়

যান্ত্রিক নগরী ঢাকায় পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের। একসময় শাহবাগের শিশু পার্ক শিশুদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সংস্কারের কারণে সেটি বহু বছর ধরে বন্ধ থাকায় পরিবারগুলো এখন বিকল্প খুঁজছে।

এই প্রেক্ষাপটে পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে রমনা পার্ক এখন অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য এটি যেন অনেকের প্রথম পছন্দ।

বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

সবুজে ঘেরা স্বস্তির ঠিকানা

সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও সবুজে আচ্ছাদিত পরিবেশ- এই তিন বৈশিষ্ট্য রমনা পার্ককে আলাদা করেছে। ঈদ, পূজা, নববর্ষ কিংবা সাপ্তাহিক ছুটিতে এখানে পা ফেলার জায়গা থাকে না।

শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী, এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সরব উপস্থিতি পার্কে। কেউ লেকের পাড়ে হাঁটছেন, কেউ সবুজ ঘাসে বসে গল্প করছেন, আবার কেউ ফুলবাগানে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন।

বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা

মিরপুর থেকে আসা স্কুলশিক্ষক লায়লা হোসেন বলেন, ‘সময় পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে আসি। অন্যান্য পার্কের তুলনায় এটি অনেক বেশি সুন্দর ও নান্দনিক। নিরাপত্তাও ভালো। যদিও খরচ একটু বেশি, তবুও লেকের পাশে বসে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা দারুণ।’

আজিমপুরের বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, কাকরাইল মসজিদের পাশে পার্কের ভেতরে বাচ্চাদের খেলার একটি জায়গা আছে, যা তাদের খুবই পছন্দ। ঢাকার ফ্ল্যাটবাসায় বাচ্চাদের খেলার সুযোগ কম, তাই সুযোগ পেলেই তাদের এখানে নিয়ে আসেন।

বিনোদনপিপাসু ঢাকাবাসীর ভরসার নাম রমনা পার্ক

আকর্ষণের কেন্দ্রে নৌকাভ্রমণ

রমনা পার্কের লেকে নৌকাভ্রমণ দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এখানে বৈঠা দিয়ে চালানো ছোট নৌকার ভাড়া ১০০ টাকা এবং প্যাডেলচালিত বড় নৌকার ভাড়া ২০০ টাকা। সময় নির্ধারণে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও ভিড়ের কারণে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।

এমইউ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow