বিভিন্ন অভিযোগে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার

আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জবিরিইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়।সংগঠনের বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অর্থ দাবি, সংগঠনের প্যাডের অননুমোদিত ব্যবহার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘন

বিভিন্ন অভিযোগে জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার

আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জবিরিইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংগঠনের বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অর্থ দাবি, সংগঠনের প্যাডের অননুমোদিত ব্যবহার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড জবিরিইউর গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশের জবাবে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে দায়িত্ব পালনের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি।

জবিরিইউ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে মো. জাহাঙ্গীর আলম কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। বিগত ৭ থেকে ৮ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নিজের করা কোনো সংবাদ তিনি দেখাতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কারের পর মো. জাহাঙ্গীর আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির নাম, পরিচয়, লোগো, প্যাড বা অন্য কোনো সাংগঠনিক উপকরণ ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তিনি সংগঠনের নাম বা প্যাড ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা, যোগাযোগ, সুপারিশ কিংবা আর্থিক বা অনার্থিক লেনদেনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের লেনদেন করলে এর দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি বহন করবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow