বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি কেন অবৈধ নয়
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একই সঙ্গে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’- এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না— রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের কর রিটের সম্পূরক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারির এই আদেশ দেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড ও কাউন্সিলর একরাম হত্যার বিচার শুরু হয়েছে এর আগে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রচলিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০২৫ সালের
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
একই সঙ্গে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’- এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না— রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের কর রিটের সম্পূরক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারির এই আদেশ দেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রচলিত আইনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠন ‘এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন।
রিটে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার বিধান কেন অবৈধ, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের সম্মতিতে সংঘটিত শারীরিক সম্পর্ক যদি শুধুমাত্র ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ না রাখার কারণে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নারীর সম্মতির অধিকার লঙ্ঘন করে। রিটকারীর পক্ষে বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগে নারীকে নির্বোধ বা লোভী হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়, যা নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সম্মানের পরিপন্থি।

বিএনপি নেতাদের গুম-খুন / সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল-তারেক সাঈদকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, প্রতিশ্রুতি না রাখার কারণে শুধু পুরুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি আইন। তাই এই আইন বাতিল করার জন্য রিট দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে একই বিষয়ে শাস্তির বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। আজকের সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই বিধানটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এফএইচ/কেএসআর
What's Your Reaction?
