বিশেষ বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য চাকরির নামে হাতিয়ে নেন কোটি টাকা
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. তারেক সরকার (৪০) ও মো. পলাশ কবির (৪২)। এরমধ্যে তারেক সরকার একটি বিশেষ বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীতে র্যাব-১০ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, গ্রেফতার তারেক সরকার নরসিংদী সদরের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একটি বিশেষ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারেক সরকার বিভিন্ন ভুয়া মোবাইল সিম ও তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। পরে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন। এভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তারেক সরকার একসময় একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. তারেক সরকার (৪০) ও মো. পলাশ কবির (৪২)। এরমধ্যে তারেক সরকার একটি বিশেষ বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীতে র্যাব-১০ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, গ্রেফতার তারেক সরকার নরসিংদী সদরের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একটি বিশেষ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন।
তারেক সরকার বিভিন্ন ভুয়া মোবাইল সিম ও তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। পরে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন। এভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তারেক সরকার একসময় একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরি হারান।
ব্রিফ করছেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আরও বলেন,, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থাকার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক কাঠামো ও বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তার ভালো ধারণা তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করে র্যাব। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারেক সরকারের অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ আলামতের মধ্যে একটি বাঁধানো ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে পলাশ কবির নামে আরেক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
টিটি/এমকেআর
What's Your Reaction?