বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় মাগুরা ও ফেনীর ২ আলোচিত হত্যা মামলা

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের) শুনানি হয় হাইকোর্টে। সেখানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা এবং ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা। রোববার (১৩ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলা দুটি যুক্ত হয়। এর আগে গত ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু-সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। মাগুরা সদরে শিশুধর্ষণ ও হত্যা ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এক শিশু। অভিযুক্ত হিটু শেখ শুধু ধর্ষণই করেননি, মেয়েটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন হাইকোর্টে নারী-শিশু ন

বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় মাগুরা ও ফেনীর ২ আলোচিত হত্যা মামলা

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের) শুনানি হয় হাইকোর্টে। সেখানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা এবং ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা। রোববার (১৩ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলা দুটি যুক্ত হয়।

এর আগে গত ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু-সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি।

মাগুরা সদরে শিশুধর্ষণ ও হত্যা

২০২৫ সালের মার্চে মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এক শিশু। অভিযুক্ত হিটু শেখ শুধু ধর্ষণই করেননি, মেয়েটিকে হত্যারও চেষ্টা করেন। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সরকারের উদ্যোগে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষ হয়। ওই বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার দুইদিনের মধ্যেই ২১ মে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক (মামলার সব নথি) তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

ফেনীর সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স মামলার সব ধরনের কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক ছাপানো শেষ করা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। তারপর প্রধান বিচারপতি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে সে রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব ধরনের কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

এফএইচ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow